- শেখ মাহতাব হোসেন (ডুমুরিয়া) খুলনা ::
খুলনার ডুমুরিয়ার বিভিন্ন বাজারে বাড়তি দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। এর সঙ্গে নতুন করে দাম বেড়েছে আলুর। কেজিতে আলুর দাম পাঁচ টাকা বেড়েছে।
এদিকে বাজারে শীতের সবজি আসতে শুরু করলেও এখনো অনেকটা চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন শাকসবজি।
শনিবার ডুমুরিয়া বাজার ঘুরে এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। বিক্রেতারা মোসলেম উদ্দিন জানান, চলতি বছর দীর্ঘদিন ধরে কম দামে আলু বিক্রি হয়েছে। দাম কম থাকায় অনেক কৃষক লোকসানের মুখে পড়েছেন। এক সপ্তাহ আগেও খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি আলুর দাম ছিল ২০-২৫ টাকা। তবে গতকাল এক কেজি আলু বিক্রি হয়েছে ২৫-৩০ টাকায়। অর্থাৎ কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়েছে।
যদিও গত বছরের তুলনায় বাজারে আলুর দাম এখনো অনেক কম। এর কারণ, আগের বছর আলু বিক্রি করে ভালো লাভ করায় কৃষকেরা গত মৌসুমে বেশি পরিমাণে আলু চাষ করেছিলেন। তবে উৎপাদন বেশি হওয়ায় আলুর দাম পড়ে যায়।গত বছর এমন সময়ে বাজারে এক কেজি আলুর দাম ছিল ৬৫-৭৫ টাকা। এখন পাইকারি থেকে ২৩ টাকা দরে আলু কিনেছি। এক বস্তায় ৬০ কেজি আলু থাকে। এর মধ্যে ৪-৫ কেজি পচা পাওয়া যায়। আর ৮-১০ কেজি থাকে গুঁড়া (ছোট) আলু। ফলে এখন ৩০ টাকা দরে আলু বিক্রি করেও লাভ করা কষ্টকর হয়ে যায়।
চুকনগর বাজারে বিক্রেতা বিল্লাহ এ দিকে কেজিতে ৭ টাকা দাম বাড়লেও আলু বিক্রি করে লাভ হচ্ছে না বলে জানান খুচরা বিক্রেতারা বলেন, ‘এখন পাইকারি থেকে ২৩ টাকা দরে আলু কিনেছি। এক বস্তায় ৬০ কেজি আলু থাকে। এর মধ্যে ৪-৫ কেজি পচা পাওয়া যায়। আর ৮-১০ কেজি থাকে গুঁড়া (ছোট) আলু। ফলে এখন ৩০ টাকা দরে আলু বিক্রি করেও লাভ করা কষ্টকর হয়ে যায়।
পেঁয়াজের দামও চড়া। বর্তমানে বাজারে এক কেজি পেঁয়াজ ৮০ থেকে ১০০টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিন সপ্তাহ আগে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৩০ টাকা কম ছিল।
বিক্রেতারা জানান, বর্তমানে দেশি পেঁয়াজের মজুত প্রায় শেষের দিকে। মাসখানেক পর বাজারে নতুন পেঁয়াজ আসতে শুরু করবে। এ সময় সাধারণত পেঁয়াজের দাম কিছুটা বাড়তি থাকে। যদিও বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করলে দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকে। তবে বর্তমানে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নেই। তাই পেঁয়াজের দামে বাড়তি প্রবণতা রয়েছে।
ব্রয়লার ও সোনালি মুরগি, ডিম প্রভৃতির দাম গত সপ্তাহের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে। গতকাল প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬০-১৭০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৮০- ৩০০ টাকা ও এক ডজন ফার্মের মুরগির ডিম ১২০-১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
খুচরা পর্যায়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়েনি; তবে সরবরাহ কিছুটা কম বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
বাজারে ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলাসহ শীতের বিভিন্ন সবজি আসতে শুরু করেছে। সাধারণত শীতের সবজি আসা শুরু করলে সার্বিকভাবে সবজির দাম কমে আসে। কিন্তু বাজারে এখনো শাকসবজির দাম তুলনামূলক বেশি বলে অভিযোগ করেছেন
ক্রেতারা। গতকাল বাজারে প্রতিটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৪০-৫০ টাকা, লাউ ৩০- ৫০ টাকা এবং প্রতি কেজি শিম ৬০-৮০ টাকা, টমেটো ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য সবজির দাম গত সপ্তাহের মতো স্থিতিশীল রয়েছে।
বিক্রেতারা জানান, বর্তমানে দেশি পেঁয়াজের মজুত প্রায় শেষের দিকে। মাস খানেক পর বাজারে নতুন পেঁয়াজ আসতে শুরু করবে। এ সময় সাধারণত পেঁয়াজের দাম কিছুটা বাড়তি থাকে।
আঠারো মাইল বাজারের তৈয়বুর রহমান বলেন, ‘গতকাল দুই মুঠো পালংশাক কিনেছি ৬০ টাকায়। আর ফুলকপি ও বাঁধাকপি কিনতে লেগেছে ৮০ টাকা। শীত এলে সবজির দাম কমে। কিন্তু এখনো দু-তিন পদের সবজি কিনতে ১৫০ টাকা লাগছে।
দাম তো কমেনি।
উল্লেখ্য আলুর দাম: সম্প্রতি প্রতি কেজি আলুর দাম ৭টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। খুচরা বাজারে পুরনো আলু বর্তমানে ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে, গত বছরের তুলনায় আলুর দাম এখনো অনেক কম। বাজারে আসা নতুন আলু অবশ্য মানভেদে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সপ্তাহ ধরে বাজারে পেঁয়াজের দাম চড়া। এর সঙ্গে নতুন করে আলুর দামও সামান্য বেড়েছে। খুচরা বিক্রেতাদের মতে, পাইকারি থেকে আলু কিনে এবং পচা ও গুঁড়া আলুর কারণে বর্তমানে ৩০ টাকা দরে আলু বিক্রি করেও লাভ করা কঠিন হচ্ছে।