নিজস্ব প্রতিবেদক, (তালা) সাতক্ষীরা::
সাতক্ষীরার তালায় জাল সনদে মুুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি প্রাপ্ত দু’ সহোদরকে চাকরি বাঁচাতে ফের জাল মুক্তিযোদ্ধা সনদ প্রদান করে সাড়ে ৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মোবাইল কথোপকথন ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
এছাড়াও সরকারি চাকরি করে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততা, শরিকের জমি জাল দলিল করে জবর দখলসহ নানা অভিযোগে দুষ্টু তালা সমবায় অফিসের সমায় সহকারি পরিদর্শক অজয় ঘোষ বাবলু। তিনি তালা উপজেলার ঘোষনগর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা অমল ঘোষের ছেলে।
নিজ উপজেলায় দীর্ঘ দিন ধরে চাকুরি সূত্রতায় সরাসরি আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান হওয়ায় নিজেকে বরাবরই ধরাকে সরাজ্ঞান করে ছাড়েন বলে অভিযোগ দীর্ঘ দিনের।
ইতোমধ্যে তাকে নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশে ক্ষেপেছেন সংশ্লিষ্ট মিডিয়াকর্মী থেকে নিজ এলাকার কতিপয় সমাজ সচেতনদের বিরুদ্ধে। নিজেকে ধোঁয়া তুলশীর পাতা সাজাতে নিত্য নিতুন নাটক শুরু করেছেন। কখনো মিডিয়াকর্মীদের চাঁদাবাজ, আবার তাকে ও তার দোসরদের বিরুদ্ধাচারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দেওযায় নিজ এলাকার জনৈক সরকারি চাকুরিজীবির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে থানায় জিডিও করেছেন।
পারিবারিকভাবে মামলাবাজ খ্যাত অজয় ঘোষ বাবলুর বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে তার এক কাকাতো বোন জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হয়ে সংবাদ সম্মেলন করায় পত্রিকায় প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও ভবিষ্যতে জেল-জরিমানার ভয়ে উক্ত কাকাকে নিজ ভিটায় আশ্রয় দিয়েছেন।
পত্রিকায় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় সংবাদ প্রকাশে পাল্টা কতিপয় সংবাদকর্মীদের ম্যানেজ করে তাদেরকে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য সরবরাহ করে নিজ পক্ষে খবর প্রকাশ করে নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ সমূহ ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে অপতৎপরতা শুরু করেছেন। এক কথায় গত সরকারের শাসনামলে দাপিয়ে বেড়ানো অজয় ঘোষ বর্তমান সরকারের সময়ে নিজের খোলশ পাল্টে স্বদর্পে ফিরতে নানামুখী নাটক শুরু করেছেন। সে লক্ষে অনেককে আবার কাছেও পেয়েছেন। তবে এতে তার শেষ রক্ষা হবে কি? এমন প্রশ্নের মুখে তাকে নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশে আজকের আয়োজন।
তথ্যানুসন্ধানে জানাযায়, সমবায় সহকারি পরিদর্শক অজয় ঘোষ উপজেলার ধানদিয়া ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামের মৃত বসন্ত সাহার ছেলে মৃত লোলিত মোহন সাহার দুই ছেলে বীরেন্দ্র নাথ সাহা ও প্রতাপ কুমার সাহা একই চক্র থেকে মুক্তিযোদ্ধার একটি জাল সাময়িক সনদপত্র সংগ্রহ করে সরকারি চাকুরিতে অনপ্রবেশ করেন। পরে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আদালত ও দপ্তরে অভিযোগ উত্থাপন ও তদন্তে তা প্রমানিত হওয়ায় চাকুরি হারানোর মুখে জালিয়াতির আরেক হোতা অজয় ঘোষ বাবলুর সাথে প্যাটার্ন হন। তারা বাবলুর সাথে চুক্তিবদ্ধ হন সাময়িক সনদপত্র যার সার্টিফিকেট নং-১৪৮৬০। এর আদলে অনলাইন ভেরিফাইড সার্টিফিকেট প্রস্তুত করিয়ে নিতে। এজন্য অজয় তাদেরকে নিজের প্রতি আস্থা অর্জনে ঢাকা মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ে পর্যন্ত নিয়ে তাদেরকে বাইরে দাড় করিয়ে পূর্ব পরিচযের সূত্রে নিজে ঢোকেন অভ্যন্তরে। ফিরে এসে তাদেরকে বোঝান কাজ হচ্ছে। এমন নানা ছবি ও টাকা লেনদেনের অডিও রেকর্ড ইতোমধ্যে ফাঁস হয়েছে।
প্রসঙ্গত, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে দুই ভাই বীরেন্দ্র নাথ সাহা (২০০৮) সালে ও প্রতাপ কুমার সাহা (২০০৯) সালে সাময়িক জাল সনদ দাখিল করে মুক্তিযোদ্ধা কেটায় যোগদান করেন। যে সনদে চাকরি করতেন সেই সনদের মুল মালিক তারেক সৈয়দ আলি হাসান। তিনি খুলনা সদর উপজেলার ২৩ আজিজুর রহমান সড়কের ইয়াকুব আলীর ছেলে। তার মূল সনদ স্কাইনিং করে সেখান থেকে শুধুমাত্র নাম মোডিফাই করে প্রস্তুত করা হয় মুক্তিযোদ্ধার জাল সনদটি। এরপর তা দাখিল করে কোটায় ঢুকে পড়েন চাকুরিতে।
এরপর জালিয়াতির সনদের পক্ষে বৈধতা পেতে ললিত মোহন সাহা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভূক্ত হতে তার ছেলে জগদীশ চন্দ্র সাহা গত ২৮/১০/২০১৩ তারিখে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ে অনলাইনে আবেদন করেছিলেন। এরই মধ্যে বিষয়টি মহল বিশেষ চাউর হলে বেরিয়ে পড়ে থলের বিড়াল। শুরু হয় আদালতে মামলা ও বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগের ফাইল চালাচালি। এসব অভিযোগ তদন্তে ত্রাহি অবস্থার মধ্যে অজয় ঘোষ বাবলুর মাধ্যমে অনলাইন ভেরিফাইড জাল সার্টিফিকেট পেতে মোবাইলে দরকষাকষির পর্যায় পর্ব শুরু হয়।
এ সংক্রান্তে তাদের মোবাইল কথোপকথনের অডিও বার্তা, ব্যাংক লেনদেনের তথ্যসহ নানা কর্মকা-ের রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। যা অজয় ঘোষের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সমূহের খন্ডচিত্র মাত্র।
প্রথমত এ নিয়ে মিডিয়ায় ব্যাপক লেখালেখির পর ছাঁইচাপা দিতে তিনি ও তার সিন্ডিকেট খানিকটা হলেও সফল হয়। তবে গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পালাবদলে নতুন করে উষ্কে উঠে ছাঁইচাপা আগুন। তবে এবারো পার পেতে অজয় ঘোষ ও তার কথিত সিন্ডিকেট রীতিমত কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। চেষ্টা করছেন এবারো পার পাওয়ার। তবে আগে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েটদের উপর ভর করে বৈতরনী পার হয়েছিলেন আর এবার ভিন্ন ঘরানার উপর ভর করেছেন। উদ্দেশ্য একটাই বৈতরনী পার হওয়ার।
যদিও এবিষয়ে অজয় ঘোষের বক্তব্য বরাবরের মত তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সমূহ মিথ্যা ও বানোয়াট।
এবিষয়ে তালা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার মাষ্টার আলাউদ্দীন জোয়াদ্দার জানান, ভূয়া জাল সনদে চাকরি করার সুবাদে তদন্ত করে জাল প্রমাণিত হওয়ায় তাদের চাকরি চলে যায়। তবে তাদের এই জাল সনদ প্রস্তুত করতে সহযোগিদের চিহ্নিতপূর্বক প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানান তিনি।
##