- নিজস্ব প্রতিবেদক ::
খুলনার পাইকগাছায় রাস মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (১১ জানুয়ারী) সন্ধ্যার পর হতে পরদিন সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগে জানানো হয়। ঘটনার পর থেকে সেখানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলমান রয়েছে বলে থানা পুলিশ দাবি করছে। ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিতপূর্বক আইনের আওতায় নিতে পুলিশ কাজ করছে বলেও জানানো হয়।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে কিংবা রাজনৈতিক ইস্যু তৈরি করতে পরিকল্পিতভাবে দূর্বৃত্তদের কেউ ঘটনাটি ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
মন্দিরের পূজারিরা নিয়মিত সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বালাতে গেলে সোমবার (১২ জানুয়ারী) বিষয়টি তাদের দৃষ্টিগোচর হয় বলে জানান, মন্দিরের সদস্যরা।
মন্দিরের সভাপতি সন্তোষ কুমার সরদার বলেন, ‘প্রতি বছর রাস উৎসবের পরে তারা মন্দিরেই প্রতিমা রেখে দেন। এরপর প্রতিমাটিতে নিয়মিত সন্ধ্যা প্রদিপ জ্বালানো হয়। একপর্যায়ে সোমবার সন্ধ্যায় সন্ধ্যা প্রদিপ জ্বালাতে গিয়ে প্রথমে স্থানীয় জনৈক মিলনের মায়ের দৃষ্টিগোচর হয় বিষয়টি। তিনি দেখেন, প্রতিমার বিভিন্ন অঙ্গহানি হয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানাযায়, মন্দিরটির প্রধান ফটকে লোহার গ্রিল থাকলেও দুটো জানালা ফাঁকা ছিল। গত ২০২২ সাল থেকে মন্দিরটি নির্মান কাজ চলমান রয়েছে। সাম্প্রদায়িক সমাপ্রীতির জনপদে সেই প্রথম থেকে এভাবেই প্রতিমা থাকলেও কখনও এ ধরনের কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। মন্দিরের সভাপতি সন্তোষ সরদারের ধারণা, রোববার সন্ধ্যার পর থেকে সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে ঘটনাটি ঘটানো হতে পারে। বিষয়টি নজরে আসামাত্রই বিষয়টি থানা পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করা হয়।
খবর পেয়ে থানা পুলিশ উপজেলা প্রশাসনসহ বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃস্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
এদিকে মন্দিরের রাধা গোবিন্দের দুটি মূর্তি অঙ্গহানী করার ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে পৌরসভার অন্তত ছয়টি মন্দির কমিটির জরুরী সভা হয়েছে। তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।
এছাড়া সভায় তারা বুধবার প্রতিমা বিসর্জনের সিদ্ধান্ত নেন।
এ বিষয়ে পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম কিবরিয়া বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি মন্দিরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নেওয়া হবে বলেও জানান দিনি।
অপরদিকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুর্বৃত্তদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে, খুলনা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ। পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিমান সাহা অনতিবিলম্বে জড়িত দুর্বৃত্তদের চিহ্নিতপূর্বক আইনের আওতায় নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয় সূত্র জানয়, মন্দির চত্ত্বরে নিয়মিত নেশাখোরদের আড্ডা বসে। ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততার ব্যাপারেও ভেবে দেখার দাবি তাদের।
সব মিলিয়ে ধারণা করা হচ্ছে, দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় ভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিষয়টিকে ইস্যু তৈরীর জন্য কোন মহল থেকে পরিকল্পিতভাবে ঘটনাটি ঘটিয়ে থাকতে পারে।