পাইকগাছা(খুলনা) প্রতিনিধি:
খুলনার পাইকগাছায় দীর্ঘদিন প্রেম, গোপনে নোটারি পাবলিকে বিয়ে অতঃপর স্বামী-স্ত্রীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণের পর সেগুলো ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাড়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের পর একতরফা বিবাহ বিচ্ছেদ শেষে পূর্বের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর অবশেষে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন মামলায় আটক হয়ে জেল হাজতে বহু অপকর্মের হোতা জাকিরুল ইসলাম।
মামলার বিবরণে জানাযায়, উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়নের গদাইপুর গ্রামের ভুক্তভোগী জনৈক নারীর পাশ্ববর্তী নতুন বাজারে কসমেটিক্র’র দোকান থাকার সুবাদে গত ২০২০ সালে তোকিয়া গ্রামের করিম গাজীর ছেলে জাকিরুল ইসলামের সাথে প্রেমজ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর একই বছরের ৬ ডিসেম্বর তারা নোটারি পাবলিক খুলনা কার্যালয়ের গিয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।
এর পর স্বামী চাকুরি পেয়েই তাকে বাড়িতে নিয়ে যাবে বলে আশ্বস্ত করে। সেই থেকে ভুক্তভোগী জনৈক ওই নারী তার পিত্রালয় সহ বিভিন্ন আত্মীয়স্মজনের বাড়িতে গিয়ে শারিরীক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। এমনকি তার আপত্তি থাকার সর্তেও সুচতুর স¦ামী জাকিরুল তার ব্যবহৃত মোবাইলে তাদের শারিরীক সম্পর্কের ভিডিও সহ অন্তরঙ্গ মুহুর্তের ছবি ধারণ করে রাখে। এর কিছুদিন পেরোতেই সে আত্মগোপন করে মোবাইলে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চাহিদা অনুযায়ী অর্থ হাতিয়ে নেয় বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী জনৈক ওই নারী নিরুপায় হয়ে স্ত্রীর স্বীক্রীত্রির দাবিতে অভিযুক্ত জাকিরুলের বাড়িতে অবস্থান নিলে সে পলাতক থেকে গত ২০২১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ডিভোর্সের কাগজ পাঠায়। এর পর দীর্ঘদিন স্বামীর খোঁজ না পেয়ে নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী ওই নারী গত ২০২২ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাইকগাছা থানায় জাকিরুলের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করে। এরপর ওই মামলায় গত ২৯ ডিসেম্বর বেলা ২টার দিকে এস আই তাকবির হোসাইন পৌরসদরস্থ পুরাতন ঈগল কাউন্টার সামনে থেকে জাকিরুলকে আটক করে। সর্বশেষ মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে চলতি জানুয়ারি মাসের ৪ ও ৫ তারিখ দু’ দিনের রিমান্ডে নিয়ে তাকে জিঙ্গাসাবাদ শেষে পুনরায় জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ জিয়াউর রহমান জানান, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন মামলায় অভিযুক্ত জাকিরুলকে আটকের পর রিমান্ড আবেদন করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। এরপর দু’ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হলে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে পুনরায় জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।