নিজস্ব প্রতিবেদক::
খুলনার পাইকগাছায় হাতুড়িপেটায় গুরুতর জখম রেনু বেগম (৫৫) এর দীর্ঘ একমাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার বিকেলে মৃত্যু হয়েছে। রাতেই মৃতের সুরোতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনায় প্রথমত ৫ জনকে আসামী করে দায়ের করা মারামারির মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করতে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। এর আগে থানা পুলিশ মামলার ২ নং আসামী শুকুর আলীর ছেলে হযরত আলী গাইন (২৫) কে গ্রেফতার করেছে।
এদিকে তার মৃত্যুর খবরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাৎক্ষণিক হামলাকারী শুকুর আলীর বাড়িতে হামলা করে ভাংচুর করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযুক্ত শুকুর আলীর স্ত্রী কাকুলী বেগম মারামারির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ইতোমধ্যে প্রথম মারামারির মামলায় তিনি উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন।
এরআগে গত ১০ আগষ্ট বিকেলে তুচ্ছ ঘটনায় উপজেলার চাদখালী ইউনিয়নের চক্কাওয়ালী গ্রামের শুকুর আলী গাইন স্থানীয় আইয়ুব আলী সরদারের বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রী রেনু বেগমের সাথে কথাকাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে শুকুরের কাছে থাকা হাতুড়ি দিয়ে সজোরে রেনু বেগমের মাথায় আঘাত করে। এতে তার মাথা ফেঁটে গুরুতর আহত হন। তাৎক্ষণিক আহতকে আশংকাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে অবস্থার আরো অবনতি হলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তার স্বজনরা তাকে একটি বেসরকারী ক্লিনিকে ভর্তি করেন। সেখানে টানা একমাস চিকিৎসা চলাকালীন শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মৃত্যু হয় তার।

নিহতের স্বামী আয়ুব আলী সরদার মূল ঘটনার উদ্বৃতি দিতে গিয়ে জানান, ঘটনার দিন তাদের এক প্রতিবেশী নতুন ঘরে ওঠার জন্য স্থানীয়দের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেন। আর ঐ মিষ্টি বিতরনের দায়িত্বে ছিল স্ত্রী নিহত রেনুকা বেগম। তবে ঐ সময় অসাবধানতাবশত এলাকার শুকুর আলী গাইনের (৪৫) স্ত্রী কাকুলী বেগম মিষ্টি না পেয়ে ফিরে যান। এরপর বিষয়টি সে তার স্বামীকে জানালে স্বামী শুকুর ও রেনুকার মধ্যে বাক্বিতন্ডা হয়। এসময় শুকুর আলী তার হাতে থাকা হাতুড়ি দিয়ে রেনুকা বেগমের মাথায় আঘাত করলে মাথা ফেঁটে গুরুতর যখম হয় সে।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী শুকুর আলী গাইনের বাড়ি-ঘরে হামলা করে ভাংচুর করেছে বলে জানানো হয়েছে।
নিহতের একমাত্র ছেলে সেনা সদস্য জাহিদ হোসেন বাবু জানান, তার মাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এর বিচার চান।
এদিকে হাতুড়িপেটার মূল ঘটনায় দায়ের করা মামলার এক মাসেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। তবে নিহতের পর পুলিশ মামলায় শুকুর আলীর ছেলে হযরতকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।
মারামারি মামলার আইও তানজির হোসেন সাংবাদিকদের জানান, আসামী ধরতে একাধিকবার ঐ এলাকায় গেলেও কাউকে না পাওয়ায় গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে সর্বশেষ হযরত আলী নামে একজনকে গ্রেফতার করে জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে।
পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘হাতুড়ির আঘাতে রেনুকা বেগম নামে ওই নারী আহত হন। পরে খুলনাস্থ বেসরকারি হাসপাতালে দীর্ঘ এক মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল রাতে মারা যান। এ ঘটনায় প্রথমত দায়ের করা মারামারির মামলাটি এখন হত্যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার জন্য আজ রবিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।