দীপ্ত নিউজ ডেস্ক::
ফেসবুকের মাধ্যমে ফাঁদে ফেলে পরিচয়ের পর প্রেম নিবেদন। এক পর্যায়ে প্রেমিককে ডেকে নেওয়া হয় বাগেরহাটের মোল্লাহাটে। সেখানে গিয়ে প্রতারণার শিকার হতে হয় প্রেমিককে। যাদের প্রত্যেকেই এই চক্রের সদস্য প্রতিটি শিকারকে ফাঁদে ফেলে তার কাছে চাওয়া হয় মুক্তিপণ।এমন মুুক্তিপণ দাবির অভিযোগে পুলিশ সংশ্লিষ্ট চার প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে।
প্রতারিত প্রেমিক বরিশাল জেলার চরকানম গ্রামের আসলাম হাওলাদারের ছেলে রাকিব ওরফে রাশেদকে পুলিশ মোল্লাহাট উপজেলার কামারগ্রাম এলাকার গুনির খাল এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চার প্রতারককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হল, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গিমাডাঙ্গা গ্রামের নাসির সিকদারের ছেলে কাদের সিকদার, বশার বিশ্বাসের মেয়ে মাকসুদা আক্তার নিলা ও আকরাম সেখের ছেলে খালিদ সেখ। এছাড়া ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর রয়েছে আটকদের মধ্যে।
পুলিশ জানায়, রাশেদ ঢাকার তেজগাঁও একটি কোম্পানিতে চাকরীরত অবস্থায় ফেসবুকে মাকছুদা আক্তার নীলার সাথে পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্রে ২৫ মার্চ বিকেলে রাশেদ ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জের ঘোনাপাড়ায় আসেন। সেখানে পূর্ব থেকে অপেক্ষমান ছলনাকারী নারী মাকছুদা আক্তার নীলা বেড়ানোর কথা বলে রাশেদকে একটি ইজি বাইকে তোলে। কিছুদুর যাওয়ার পর ইজি বাইকে আরও ৪-৫জন যুবক ওঠে। তখন মাকছুদা কৌশলে ইজি বাইক থেকে নেমে যায়।
একপর্যায়ে মোল্লাহাট উপজেলার কামারগ্রাম এলাকার গুনির খালের মাথায় ফাকা জায়গায় এনে রাশেদের মোবাইল ও কাছে থাকা নগদ সাড়ে ১৯ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ সময়ে উল্লিখিত আসামীরা রাশেদের গলায় ছুরি ধরে মারধর করতে থাকে এবং দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
পরে জানতে পেরে রাশেদকে উদ্ধারের জন্য তার পরিবারের লোকজন মোল্লাহাট থানায় আসে। অভিযান চালিয়ে নিলাসহ চারজনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মোল্লাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোমেন কুমার দাস বলেন, প্রতারণার শিকার রাশেদকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চার প্রতারকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার পর তাদের আদালতে হস্তান্তর করা হয়েছে।