- মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি ::
হামে আক্রান্ত হয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সারা দেশে এর মধ্যে চলতি মাসেই মারা গেছে ৩২ শিশু। হামে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে সারা দেশে। মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ইতোমধ্যে ৩ জন হামের রোগী ভর্তি আছে বলে নিশ্চিত করেছে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়াও জেলায় মোট সন্দেহজনক হাম (Measles) রোগীর সংখ্যা ৪৭ জনের মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় পজিটিভ ১১ জন এবং এপিডেমিওলজিক্যালি (Epi-linked) পজিটিভ ১৫ জন রয়েছে। মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ৩ জন ভর্তি বাকিরা উপজেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছে। তবে স্বস্তির খবর হচ্ছে, এ জেলায় এ রোগে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মৃতের খবর পাওয়া যায়নি।
মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামের সংক্রমণ ঠেকাতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সব রকমের প্রস্তুতি রয়েছে।
ইতোমধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে হামের চিকিৎসায় একটি বিশেষ কক্ষ ও পাঁচটি বিশেষ বেড প্রস্তুত করা রয়েছে। এ ছাড়াও হাম আক্রান্ত রোগীর সেবা ও চিকিৎসায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে সব প্রস্তুত রয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. দেওয়ান নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, হাসপাতালে তিনজন রোগী ভর্তি রয়েছে। হামে আক্রান্ত রোগীর জন্য বিশেষ আইসোলেশন কক্ষ প্রস্তুত আছে।
মুন্সীগঞ্জের সিভিল সার্জন কামরুল জমাদ্দার জানান, মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ৫টি বিশেষ বেড ও একটি আইসোলেশন কক্ষ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোতে হামে আক্রান্ত রোগীকে সব ধরনের সেবা দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, জেলার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ জানান, হামের সংক্রমণের ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি হওয়ায় এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত শিশুদের নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এবং মস্তিষ্কের সংক্রমণ (এনসেফালাইটিস) হতে পারে।
ডা. লুৎফুন্নেসা বলেন, হামের সুনির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই, মূলত জটিলতাগুলোর চিকিৎসা করা হয়।
শিশুদের চোখের ক্ষতি রোধে ভিটামিন-এ এবং পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা জরুরি।
উল্লেখ্য, সাধারণত প্রতি চার বছর অন্তর একটি বিশেষ হামের টিকা কর্মসূচি (ক্যাম্পেইন) পরিচালিত হয়। সর্বশেষ ২০২০ সালে এটি হয়েছিল। ২০২৪ সালে দেশের পরিস্থিতির জন্য টিকা কর্মসূচি পরিচালনা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া গত বছর স্বাস্থ্য সহকারীদের ধর্মঘটের কারণে তিনবার নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হয়েছিল। ভিটামিন-এ এবং কৃমিনাশক বড়ি খাওয়ানোর কর্মসূচি নিয়মিত না হওয়ায় শিশুদের পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমেছে। এটাও হামের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আরেকটি কারণ।