- সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারীর সৈয়দপুরে আর্থিক অনটনের পড়ে সিরাজুল ইসলাম (২৯) নামে এক ড্রাম ট্রাক চালক আত্মহত্যা করেছেন।
গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের পোড়াহাট আবাসনের ঘরের বারান্দার তীরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় ওই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সৈয়দপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সৈয়দপুর শহরের কুন্দল পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা মজিবার রহমানের বড় ছেলে সিরাজুল ইসলাম। তিনি পেশায় ড্রাম ট্রাক চালক ছিলেন। তাঁর বাড়ি শহরের কুন্দল পশ্চিমপাড়ায় হলেও নিজ বাড়িতে আবাসন সংকটের কারণে প্রায় দুই বছর যাবত বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের পোড়াহাট আবাসন প্রকল্পের সরকারি বাড়িতে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু বেশ কিছু দিন ধরে আর্থিক অনটনে ভুগছিলেন তিনি।
এ অবস্থায় গত ৭/৮ মাস আগে তাঁর স্ত্রী মোছা. রহিমা খাতুন বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের শ্বাষকান্দর কুঠিপাড়ায় বাবাতে অবস্থান করছিলেন।
ঘটনার দিন গত ২৬ মার্চ দিবাগত রাত পৌণে বারটার দিকে ড্রাম ট্রাক চালানো শেষে পোড়াহাট আবাসনের বাড়িতে ফিরেন তিনি। এরপর রাতে ওই আবাসনের নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন গত ২৭ মার্চ (শুক্রবার) দুপুরে ট্রাকের হেলপার আব্দুর রহিম ভাড়া মারার উদ্দেশ্যে পোড়াহাট আবাসনের বাড়িতে গিয়ে চালক সিরাজুল ইসলামকে অনেক বার ডাকাডাকি করতে থাকেন। কিন্তু এ সময় ট্রাক চালক সিরাজুলের কোন রকম সাড়া শব্দ না পেয়ে ট্রাকের হেলপার আব্দুর রহিম আশেপাশের লোকজনকে ডেকে আনেন। পরে বাড়ির প্রধান ফটকের দরজা খুলে ট্রাক চালক সিরাজুল ইসলামকে ঘরের তীরের সঙ্গে একটি পুরাতন জরজেটের ওড়না গলায় পেঁচিয়ে ঝুলতে দেখতে পান।
পরবর্তীতে লোকজনের মাধ্যমে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ছেলের আত্মহত্যার খবর পেয়ে তাঁর বাবা মজিবার রহমান ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। এরপর তারা চালক সিরাজুলের ঝুলন্ত লাশ নামিয়ে শহরের কুন্দল পশ্চিমপাড়ার বাড়িতে নিয়ে আসেন।
খবর পেয়ে সৈয়দপুর থানার উপ পরিদর্শক মো. শাহীনুর রহমান মজিবার রহমানের কুন্দল পশ্চিমপাড়ার বাড়িয়ে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন।
তিনি জানান, ট্রাক চালক সিরাজুল আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান ধারণা করা হয়। আর তাঁর পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সকল আইনী প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পাারিবারিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, তিনি সাংসারিক আর্থিক অনটনের কারণে বাড়িতে স্ত্রী সন্তানের অনুপস্থিতিতে রাতের কোন এক সময় গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার পথ বেঁচে নেন।
সৈয়দপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বাদল কুমার মন্ডল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে।