1. sheikhnadir81@gmail.com : admin :
  2. tapon.tala@gmail.com : Tapon Chakraborty :
  3. bdtiu7t93g@outlook.com : wpp9nopr :
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
কেশবপুরে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা শেকড়ের সন্ধানের আয়োজনে নজরুল বর্ষ উদযাপিত এম জালাল সভাপতি, আঃ কাদির সেক্রেটারি; পূর্বপাড়া জামে মসজিদের কমিটি গঠন খুলনায় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার ২ সৈয়দপুরে সাংবাদিক রুহুল আমীন গাজীর মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল “যত দোষ-নন্দ ঘোষ” দায় থেকে মুক্তি দিন পাইকগাছায় ৯ মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রবিউল গ্রেপ্তার শ্যামকুড় ইউনিয়নকে একটি আধুনিক ও মডেল ইউনিয়নে রূপান্তর করতে চান বিএনপি নেতা আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম কপিলমুনিতে নকল পণ্য কারখানায় অভিযানের পর আরোও বেপরোয়া তপন মন্ডল! বেনাপোলে ৬ দফা দাবিতে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের’ অবস্থান কর্মসূচি কয়রা সদর ইউনিয়ন সিএসও কমিটি পুর্ণগঠন, সভা প্রধান সায়ন্তী মুন্ডা ও সদস্য সচিব আনারুল ডাবলু 

কপিলমুনির সিরিয়াল ছাত্রী যৌণ নিপীড়ক শিক্ষক মিলনের স্বপদে ফিরতে ভিন্ন লড়াই!

  • প্রকাশিত : বুধবার, ২১ মে, ২০২৫
  • ১৫৬০ বার পঠিত
milon-12119

শেখ দীন মাহমুদ ::


খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কে আর আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিরিয়াল ছাত্রী যৌন নিপিড়নকারী বহুলালোচিত শিক্ষক মিলন রায়কে ফের পূণর্বাসনে বিদ্যালয়ের ভেতর-বাইরে অপতৎপরতা শুরু হয়েছে। এর আগে একই বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির জনৈকা ছাত্রীকে যৌণ নিপীড়নের ঘটনায় তার শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থীদের ক্লাসবর্জন, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সচেতন এলাকাবাসী সম্মিলিতভাবে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচী পালন, বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ ও আদালতে মামলা দায়ের হলে পরিচালনা পরিষদের সিদ্ধান্তে প্রথমত কারণ দর্শাও নোটিশ প্রদান ও গত ৮/১১/২৪ তারিখে প্রধান শিক্ষক স্বাক্ষরিত এক পত্রে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।

এরপর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে অভিযুক্ত শিক্ষক মিলন রায় ফের স্বপদে ফিরতে মহল বিশেষ দৌড়-ঝাঁপ ও তার বহিষ্কারাদেশ অবেধ দাবি করে বিভিন্ন মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ আব্দুর রহমানকে প্রধান করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, বিদ্যালয় পরিদর্শকসহ ৭ জনকে আসামী করে পাইকগাছা সিনিয়র জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

ধারণা করা হচ্ছে, বিশেষ মহলের প্ররোচনা ও বিদ্যালয় অভ্যন্তরের কতিপয় কর্মকর্তার পরোক্ষ যোগসাজশে তাকে ফের ঐ বিদ্যালয়ে পূণর্বাসনের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

বিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র, অভিভাবকসহ স্থানীয়রা জানান, এর আগেও অভিযুক্ত মিলন বহু শিক্ষার্থীকে যৌণ নিপীড়ন করেন। এসব ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা, হামলা, সাময়িক বহিষ্কারের ঘটনা ঘটে। এরপর বিদ্যালয় অভ্যন্তরের কতিপয় কর্মকর্তার সহযোগীতা ও অভিভাবকদের ম্যানেজ করে অপ-কৌশলের আশ্রয় নিয়ে ফের স্কুলে ফিরে আসলেও তার স্বভাব বদল হয়নি এক দিনের জন্যও।

সর্বশেষ শিক্ষক মিলন কুমার রায় গত ২৩ ও ২৪ অক্টোবর ২৪’ বিদ্যালয়ের ক্লাস পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ৯ম শ্রেনীর জনৈকা ছাত্রীর শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে ও কুরুচিপূর্ণ কথা বলে তার যৌণ হয়রাণি করেন। এমনকি ঐ শিক্ষক পরীক্ষার বিষয়ে তাকে বলেন- তুমি আমার বিষটা দেখবে আর আমি তোমার পাশের বিষয়টি দেখবো।

এরপর পরীক্ষা শেষে ঐ শিক্ষার্থী বিষয়টি তার পরিবারকে অবহিত ও তা বিভিন্নভাবে জানাজানি হলে এলাকাবাসী গত ৪ নভেম্বর বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচী পালন এবং শিক্ষক মিলন কুমার রায়ের বহিস্কারসহ শাস্তির দাবীতে পরিচালনা পরিষদের সভাপতি বরাবর লিখিত আবেদন করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা মিলনকে একজন চরিত্রহীন শিক্ষক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে ১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৩ সালে ছাত্রীদের অনুরুপ যৌন নিপিড়নের অভিযোগ ছিল। তবে বরাবর অর্থ ও অপকৌশলের আশ্রয় নিয়ে পার পেয়ে যান তিনি। এদিন তারা পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে শিক্ষক মিলনের বহিস্কার সহ শাস্তির দাবিতে আল্টিমেটাম দেয়।

এদিকে মিলন তার আদালতে দায়ের করা মামলায় আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি ও সাধারণের নজর কাড়তে নিজেকে বিদ্যালয়টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা দাবি করেন। যেখানে অনেকের সাথে ১৯৯৫ সালে বিদ্যালয়ের নামে ০.২৯ একর জমি দানপত্র মূলে রেজিস্ট্র সম্পাদন করেন বলে উল্লেখ করেন। প্রকৃত পক্ষে তিনি কোনদিনও বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন না। কেননা, মামলার একই আবেদনে তিনি আরোও উল্লেখ করেন, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি তাকে সহকারী শিক্ষক পদে আবেদন করতে বললে তিনি ১৩/১১/৯৪ তারিখে আবেদন ও ২৮/১২/৯৪ তারিখে তাকে নিয়োগপত্র প্রদান করে। এরপর তিনি ১/১/৯৫ তারিখে যোগদান করেন।

এখানে প্রশ্ন, আবেদনে তার দেওয়া তথ্যমতে অধিকাংশ অশিক্ষিত লোকের অবহেলিত জনপদে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষে অনেকের পাশাপাশি তিনিও জমি দান করেন ১৯৯৫ সালে।

আবার দাবি করছেন পরিচালনা পরিষদের ইচ্ছায় সহকারী শিক্ষক পদে ১৩/১১/৯৪ তারিখে আবেদন ২৮/১২/৯৪ তারিখে তিনি নিয়োগ পান। তাহলে তিনি ৯৫ সালে প্রতিষ্ঠাতা হন কিভাবে? মূলত তিনি চাকুরীর শর্তানুযায়ী ৯৫ সালে কিয়দাংশ জমিদান করেন। এছাড়া মামলায় মূল ঘটনাটিকে আঁড়াল করতে তিনি তার পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত বিদ্যালয় সংলগ্ন .৭১ একর জমির মধ্য হতে .১৪ একর জমি বিদ্যালয়কে রেজিস্ট্রি করে দিতে বিবাদী পক্ষ তার বিরুদ্ধে গত কয়েক বছর যাবৎ নানা ষড়যন্ত্র ও মানষিক চাপ সৃষ্টি করে আসছে। এছাড়া মিলন নিজেকে হার্টের রোগী দাবি করে ১৯/১০/২৪ তারিখ ভারত থেকে চিকিৎসা শেষে ১০/১০/২৪ তারিথে স্কুলে যোগদান ও ২৪/১০/২৪ তারিখ হতে ১০ ম শ্রেণির টেস্ট পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করেন। পরীক্ষা চলাকালীণ পরীক্ষার্থীরা খাতা দেখাদেখি করতে থাকলে তিনি বাঁধা প্রদান করায় নাকি ছাত্র-ছাত্রীরা তাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটায়। এমনকি প্রধান শিক্ষকের সাথে তার পূর্ব শত্রুতার জের হিসেবে কতিপয় ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে আতাত করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করান।

একই আবেদনে মিলন ছাত্র-ছাত্রীদেরকে তার এনিমি হিসেবে দাঁড় করানোয় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মানষিক প্রতিবন্ধিতার জন্ম হচ্ছে। আগামীতে স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীর ভর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সাথে তিনি কখনো প্রধান শিক্ষকের সাথে পূর্বশত্রুতা, কখনো পরিচালনা পরিষদের সাথে তার খারাপ সম্পর্ক আর সব কিছুর মূলে তার জমির প্রতি স্কুল কতৃপক্ষের লোলুপ দৃষ্টির বিষয়টিকে প্রমান করাতে চাইছেন।

মূলত সিরিয়াল যৌণ হয়রাণির নায়ক মিলন রায় সর্বশেষ কেলেংকারিতে জড়িয়ে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন, তার কাছে কোনভাবেই একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও তার শিক্ষার্থীরা নিরাপদ নয়। (আরো বিস্তারিত পরবর্তী পর্বে)

17422

সংবাদটি শেয়ার করুন

একই বিভাগের সকল খবর