মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর::
আবারও শুরু হয়েছে শৈত্যপ্রবাহ। ফলে দিনভর দেখা মিলেনি সূর্যের। সকাল থেকে ঘনকুয়াশা থাকায় ও দৃষ্টিসীমা পর্যাপ্ত না থাকায় সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বুধবার (১০ জানুয়ারি সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কোন ফ্লাইট ওঠানামা করতে পারেনি। ফলে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ঢাকাগামী বিভিন্ন ফ্লাইটের দুই শতাধিক যাত্রী আটকা পড়েছে।
তবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে দৃষ্টিসীমা স্বাভাবিক হলেই ফ্লাইট ওঠানামা করবে। এতে ফ্লাইট বাতিলের কোন আশঙ্কা নেই।
সৈয়দপুর বিমানবন্দরের আবহাওয়া দপ্তরের ইনচার্জ লোকমান হোসেন জানান, শৈত্যপ্রবাহের কারণে মঙ্গলবার রাত থেকে ঘনকুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে গোটা এলাকা। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত একই অবস্থা বিরাজ করে। বিমান ওঠানামা করতে ২ হাজার মিটার দৃষ্টিসীমার দরকার। কিন্তু বুধবার দুপুর ১২ টায় বিমানবন্দর রানওয়েতে দৃষ্টিসীমা ছিল প্রায় ৬০০ মিটার। যা বিমান ওঠানামা করার জন্য পর্যাপ্ত নয়। তিনি জানান, এ অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এজন্য তীব্র শীত অনুভুত হচ্ছে। কুয়াশা বিকেল পর্যন্ত কেটে যেতে পারে।
এদিকে কুয়াশার কারণে ফ্লাইট ওঠানামা না করায় বিমানবন্দরে আটকা পড়া যাত্রী সাইফুল ইসলাম জানান, নারায়নগঞ্জে তাঁর ব্যবসায়ীক জরুরী কাজ রয়েছে। দুপুরের মধ্যে সেখানে পৌছানোর কথা ছিল। কিন্তু সকাল থেকেই বিমানবন্দরে আটকা পড়েছি।
সৈয়দপুর বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক সুপ্লব কুমার ঘোষ বলেন, ঘনকুয়াশার কারণে বিমান ওঠানামা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে নভোএয়ার, ইউএস বাংলা ও বাংলাদেশ বিমানের তিনটি ফ্লাইট ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করতে পারেনি। তবে কুয়াশা কেটে গেলে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হবে। ফ্লাইট বাতিলের কোন আশঙ্কা নেই।
এদিকে শৈত্য প্রবাহের কারণে ঘনকুয়াশা ও তীব্র শীত পড়ায় এ অঞ্চলের মানুষজনের জীবণযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সারাদিন সুর্যের দেখা না মিলেনি। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে যাননি। খড়কুটো জ্বালিয়ে অনেককে শীত নিবারণের চেস্টা করেছে। তীব্র শীতে সবচেয়ে কস্ট পোহাচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। হাসপাতাল ও বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে শীতজনিত রোগীদের ভীড় দেখা গেছে।