1. sheikhnadir81@gmail.com : admin :
  2. tapon.tala@gmail.com : Tapon Chakraborty :
  3. bdtiu7t93g@outlook.com : wpp9nopr :
শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
কয়রায় মাস ব্যাপী গণসংযোগ উপলক্ষে জামায়াতের দাওয়াতী সমাবেশ নারী-শিশুদের কল্যাণ ও অধিকার নিশ্চিতে কাজ করার প্রত্যয় এমপি বিলকিস ইসলাম’র  কয়রায় ৩৮ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি আটক নেপালের বন্যা: সীমান্ত বিহীন জলবায়ু সংকট কপিলমুনিতে কবরস্থানের জায়গা দখল করে ইমারত নির্মাণ, প্রতিবাদে মানববন্ধন আজ শুভ জন্মাষ্টমী বাস চলাচলে বৈষম্য দুর করতে নীলফামারী মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের ৭ দিনের আল্টিমেটাম কয়রায় ৪রশতাধিক অসহায় পরিবারের মাঝে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে পানির ট্যাংকি বিতরণ কয়রায় সিএনআরএসের উপজেলা পর্যায়ে প্রকল্প শেয়ারিং কর্মশালা সৈয়দপুরে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের সংবর্ধনা প্রদান

চার মাসের প্রচেষ্টায় কোরআন শরীফ হাতে লিখলেন মসজিদের খাদেম সেলিম

  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ৩ মে, ২০২৪
  • ২৫০ বার পঠিত
koran-9803

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি::


টানা চার মাসের প্রচেষ্টার সফলতা পেলেন অসুরখাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জামে মসজিদের খাদেম হাফেজ সেলিম উদ্দিন রেজা।

ওই সময়ে তিনি পবিত্র কোরআন শরীফের ৩০ পারা হাতে লিখেছেন। তার অভাবনীয় এ সাফল্যের খবর পত্র পত্রিকাসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তার হাতে লেখা কোরআন শরীফ এবং মসজিদের খাদেম রেজাকে দেখতে মানুষজন প্রতিদিনই যাচ্ছেন তার গ্রামের বাড়ি কামারপুকুর ইউনিয়নের ব্রহ্মোত্তর এলাকায়।

দর্শনার্থীদের দেখার সুবিধার্থে হাতে লেখা কোরআন শরীফের কয়েকটি ফটোকপি বাঁধাই করে রেখেছেন তিনি। প্রয়োজনীয় সময় বাদে সার্বক্ষণিক সময় দিয়েছেন কোরআন শরীফ লেখায়। কোরআন শরীফটি হাতে লেখা হলেও দেখতে হুবহু প্রিন্টিং প্রেসে ছাপানোর মতো। মসজিদেই চার মাস ধরে পবিত্র কোরআন শরীফ লিখেছে সে ৷

২০ বছর বয়সী হাফেজ সেলিম উদ্দিন রেজা সৈয়দপুর শহরের বাঙ্গালিপুর নিজপাড়া এলাকার দারুল উলুম মাদরাসার ছাত্র। তার পিতার নাম ইমান আলী ও মাতা সুরজী বেগম।

কামারপুকুর এলাকার বাসিন্দা সাংবাদিক জয়নাল আবেদীন হিরো জানান, সেলিম দক্ষিণ অসুরখাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জামে মসজিদে খাদেম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া সেলিমরা তিন ভাই। সে সবার ছোট। তাঁর অপর দু ভাই দিন মজুর ৷

তিনি জানান, ছোট বেলা থেকে সেলিমের হাতে লেখা তেমন ভালো ছিলনা। এজন্য মাদরাসার শিক্ষকদের কাছে হাতের লেখা নিয়ে অনেক কথা শুনতে হয়েছে তাঁকে। তাঁর তখন থেকে সে সিদ্ধান্ত নেয় হাতের লেখা ভালো করতে হবে। এজন্য লেখতে হবে প্রচুর লেখা। তাঁর মাথায় আসে সে ৩০ পারা কোরআন শরীফ লিখবেন। যেমন সিদ্ধান্ত, তেমন কাজ। গেল বছরের ডিসেম্বরে শুরু করেন কোরআন শরীফ লেখার কাজ। প্রয়োজনীয় সময় ও নামাজের ওয়াক্ত বাদে মনোযোগ দেন কোরআন শরীফ লেখায়। সে মাত্র
চার মাসের চেষ্টায় পুরো পবিত্র কোরআন শরীফটি হাতে লিখে শেষ করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে তাঁর মাদরাসার শিক্ষকসহ পরিচিতজনদের সাথে কথা বলেন। প্রথমে তাঁরা হাতে কোরআন শরীফ লেখার কথাটি বিশ্বাস করেননি। পরে তাঁরা সেলিমের বাসায় এসে দেখেন সে আসলেই পুরো কোরআন শরীফ হাতে লিখেছেন এবং তা প্রিন্টিং প্রেসে ছাপানোর মতই। সেলিমের হাতে অত্যন্ত পরিস্কার করে লেখা কোরআন শরীফ দেখে মুগ্ধ হন তারা।

সেলিমের অভাবনীয় সাফল্যে এলাকাবাসী জানান, এটা তাঁর জীবনের সেরা অর্জন এই হাতে লেখা পবিত্র কোরআন শরীফ । তাঁর এ সাফল্যের খবর চাউর হলে বিভিন্ন এলাকার মানুষজন ছুটে আসছে তার হাতে লেখা কোরআন শরীফটি দেখার জন্য। শুক্রবার ( ৩ মে) দুপুরে তার সাথে সাক্ষাৎ করেন কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনসহ অন্যান্যরা। এসময় ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে তাঁকে পোশাকসহ অন্যান্য উপহার সামগ্রী এবং সহায়তা হিসেবে অর্থ দেওয়া হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক জয়নাল আবেদীন হিরোসহ এলাকার সুধিজন। জানতে চাইলে হাতে লেখা কোরআন লেখক সেলিম উদ্দিন রেজা বলেন, আমি পবিত্র কোরআন হাতে লিখেছি নিজের ভালো লাগা থেকে। হাতে লেখা পবিত্র কোরআনের ওইসব কপি আমি কখনোই বিক্রি করব না।

তিনি বলেন, আমি ভাইরাল হতে পবিত্র ৩০ পারা কোরআন শরীফের কলেমা লিখিনি। লিখেছি আমার এ কাজ দেখে যাতে অন্যরাও অনুপ্রাণিত হয়। হাতে লেখা পবিত্র কোরআনটি বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমি যখন থাকবোনা, তখন আমার এ কাজ মানুষের কাছে সংরক্ষিত থাকবে। পবিত্র কোরআনটি যদি কেউ পড়েন তবেই আমার কষ্ট সার্থক হবে। ধর্মীয়ভাবে বললে, এতে আমার ছওয়াব হবে ৷

তিনি বলেন এ কাজটি করতে পেরে আমি মহান আল্লাহর কাছে লাখো কোটি শুকরিয়া আদায় করছি।

17422

সংবাদটি শেয়ার করুন

একই বিভাগের সকল খবর