সৈয়দপুরে (নীলফামারী) প্রতিনিধি::
নীলফামারী জেলার চিলাহাটি রেলওয়ে স্টেশনে অভিযান চালিয়ে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি চক্রের সক্রিয় দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সৈয়দপুর রেলওয়ে থানা পুলিশ।
এসময় তাদের কাছ থেকে ট্রেনের টিকিট, মোবাইলফোন ও টিকিট বিক্রির টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। গত রবিবার (১১ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রেলওয়ে থানা পুলিশের উপ- পরিদর্শক শফিউল ইসলামসহ সঙ্গীয় ফোর্স অভিযান পরিচালনা করে চিলাহাটি রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফরম থেকে তাদের গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের চিলাহাটি রেলওয়ে স্টেশন এলাকার নুর আলমের ছেলে আশরাফুল ইসলাম (৩২) ও একই ইউনিয়নের চিলাহাটি সবুজপাড়ার মৃত শুকারু হোসেনের ছেলে মিন্টু (৪২)।
এ ব্যাপারে ওই রাতেই তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করে পুলিশ। সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে তাদেরকে নীলফামারী জেলহাজতে পাঠানে হয়।
রেলওয়ে থানা পুলিশের সুত্র জানায়, সৈয়দপুর রেলওয়ে জেলা পুলিশের সুযোগ্য পুলিশ সুপার ফারহাত আহমেদের নির্দেশনায় রেলওয়ে থানা পুলিশের উপ- পরিদর্শক শফিউল ইসলামসহ সঙ্গীয় ফোর্স টিকিট কালোবাজারি চক্রের সদস্যদের ধরতে রবিবার বিকেল থেকে ওই রেলওয়ে স্টেশনে অবস্থান নেয়। সন্ধ্যায় ওই এলাকায় আশরাফুল নামে একজনের গতিবিধি দেখে তাদের সন্দেহ হয়। এসময় তাকে চ্যালেঞ্জ করলে সে উল্টাপাল্টা কথা বলে। পরে তার পকেট থেকে নীলসাগর আন্তঃনগর ট্রেনের পাঁচটি আসনের তিনটি টিকিট এবং টিকিট বিক্রির দেড় হাজার টাকা এবং মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্টেশন এলাকায় মিন্টুর পান দোকান থেকে চারটি আসনের দুইটি টিকিট উদ্ধার করা হয়। ওইসব টিকিটের যাত্রা তারিখ ছিল ১২ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি।
এ ঘটনায় কালোবাজারি চক্রের হোতা আশরাফুল ও সহযোগী মিন্টুকে গ্রেফতার করে সৈয়দপুর রেলওয়ে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। জানতে চাইলে সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ এ কে এম নুরুল ইসলাম ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার ও টিকিট উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে নীলসাগরসহ বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি করে আসছে সক্রিয় একটি চক্র। তারা নির্ধারিত মূল্যের চাইতে কয়েকগুণ বেশী দামে যাত্রীদের কাছে বিক্রি করছে। বিভিন্নজনের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে রেজিষ্ট্রেশন করে রাখেন চক্রটি। ওইসব জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে নির্দিষ্ট গন্তব্যের টিকিট কেটে রাখছে তারা। পরে টিকিট না পাওয়া যাত্রীদের কাছে উচ্চমূল্যে বিক্র করছে তাদের কাছে। এসব টিকিট মিলছে রেলওয়ে স্টেশন এলাকার পান দোকান,হোটেলসহ স্টেশনের আশেপাশে সবসময় অবস্থান করা কিছু লোকের কাছে।
সাধারণ যাত্রীসহ সচেতনমহল ওই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের ধরতে পুলিশের আরও জোড়ালো পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এজন্য রেলওয়ে পুলিশ সুপার ফারহাত আহমেদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।