রাজধানীতে চিকিৎসাধীন মাগুরায় ধর্ষণের শিকার শিশুটি চোখের পাতা খুলেছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।
আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রেস উইংয়ের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। এদিকে মূল অভিযুক্ত ভুক্তভোগী শিশুর বোনের শ্বশুরকে সাত দিন; স্বামী, শাশুড়ি ও ভাশুর প্রত্যেককে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। মাগুরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল মতিন এ আদেশ দেন।
গেলো বৃহস্পতিবার বোনের শ্বশুরবাড়ি মাগুরার নান্দুয়ালী এলাকায় বেড়াতে গিয়ে বোনের শ্বশুর হিটু শেখ এর লালসার শিকার হয় শিশুটি। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে আনা হয় ঢাকা মেডিকেলে। পরে অবস্থার অবনতি হলে নেওয়া লাইফ সাপোর্টে। এরপর তাকে নেওয়া হয় সিএমএইচে।
শিশুটির চিকিৎসার বিষয় খোঁজখবর নিচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা। তার প্রেস উইং জানায় শিশুটির শারীরিক অবস্থার খুব সামান্য উন্নতি হয়েছে। প্রথমবারের মতো নেড়েছে চোখের পাতা।
প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি বলেন, ‘হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সকালে প্রথমবারের মতো চোখের পাতা নেড়েছে। তবে শ্বাসরোধের কারণে তার মস্তিষ্কে অক্সিজেন চলাচল বিঘ্নিত হয়েছিল ফলে মস্তিষ্কে পানি জমে গিয়েছিল। সেটা অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। তাঁর বুকে যে বাতাসটা জমে ছিল সেটা দূর করা গেছে। চিকিৎসকরা আশাবাদী তাঁর স্বাস্থ্যর উন্নতি হবে।’
এর আগে রাতে আসামিদের আদালতে তোলে পুলিশ। এসময় ৪ আসামির ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে মামলার মূল আসামি হিটু শেখকে ৭ দিন। সজীব শেখ, রাতুল শেখ ও জাহেদা আক্তারকে ৫ দিনে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এর আগে রোববার দুপুরে নিরাপত্তা শঙ্কায় আসামিদের আদালতে হাজির করতে পারেনি পুলিশ। পরিস্থিতি বিবেচনায়, গভীর রাতে তাদের রিমান্ড শুনানি করেন আদালত।
ধর্ষণের ঘটনার বিচারের দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে দেশ। রাজপথে নামে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এরপর ওই ঘটনার বিচার জন্য ১৮০ দিনের মধ্যে শেষ করতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।