মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর::
সারাদেশের মতো সৈয়দপুরসহ আশেপাশের পাইকারি ও খুচরা বাজারে পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে পেঁয়াজ নিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। ভারত আগামি ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কোন পেঁয়াজ রপ্তানি করবে না বলে গত ৮ ডিসেম্বর এমন সিদ্ধান্তের খবর প্রচার হওয়ার পরেই পেঁয়াজের বাজারে ওই অস্থিরতা দেখা যায়। ফলে রাতারাতি পাইকারি দেশি ও ভারতীয় পেঁয়াজ একলাফে কেজি প্রতি ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে যায়। আর এর প্রভাব পড়ে খুচরা বাজারেও। সেখানে কেজি প্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেড়ে ১৭০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শনিবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে সৈয়দপুর শহরের পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে মূল্যবৃদ্ধির এমন দৃশ্য দেখা গেছে। রাতারাতি মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি স্বীকার করে পাইকারি বাজারের কমিশন এজেন্ট ও আড়তদাররা জানিয়েছেন পেঁয়াজ রপ্তানি করবেনা ভারতের এমন ঘোষণা দেওয়ার পরই আমদানিকারকরা পেঁয়াজের দাম বাড়িয়েছে। এখানে আমাদের কিছুই করার নেই।
এদিকে বাজারে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির লাগাম টেনে ধরতে নীলফামারী জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অভিযান শুরু করেছে বলে প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বস্ত সুত্র জানিয়েছে।
শনিবার সৈয়দপুরের বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে খুচরা ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে শুক্রবার রাতেও প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ১৩০-১৪০ টাকায় বিক্রি হলেও ভারতের ঘোষণার পরেই শনিবার (৯ ডিসেম্বর) হঠাৎ ৫০ থেকে ৭০ বেড়ে ১৮০- ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ শুক্রবার কেজি প্রতি ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হলেও শনিবার তা বেড়ে দাড়িয়েছে কেজি প্রতি ১৫০ -১৭০ টাকায়।
খুচরা ব্যবসায়ী নুর নবী ও আরেফিনসহ অনেকেই জানান,পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজ কেজিতে ৪০- ৫০ এবং আমদানি করা পেঁয়াজও ৩০ -৪০ টাকা বেড়েছে। ফলে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে।
এ অবস্থায় ক্রেতাদের সাথে বাকবিতন্ডাও হচ্ছে বলে তারা জানান। খুচরা বিক্রেতারা বলেন, হঠাৎ ভারতের এমন ঘোষনায় অস্থির হয়ে উঠেছে পেঁয়াজের বাজার। তবে বাজারে নতুন পেঁয়াজ পুরোদমে আমদানি শুরু হলে দাম কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে আসতে পারে।
জানান খুচরা ব্যবসায়ীরা। শহরের বাঁশবাড়ি টালি মসজিদ এলাকার কাঁচামাল ব্যবসায়ী শাহিদ জাানান, শুক্রবার আমদানি করা পেঁয়াজ ১১০ টাকা কেজি হিসেবে কিনেছি। কিন্তু শনিবার বাজারে এসে দেখি বিক্রেতারা সেই পেঁয়াজের দাম চাইছে ১৫০-১৬০ টাকা।
তাই পেঁয়াজ কেনা হয়নি তার। গৃহিণী সুলতানা রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির কারণে তরকারিতে পেঁয়াজ কম ব্যবহার করছেন। এভাবে মূল্য বাড়লে পেঁয়াজ খাওয়াই ছেড়ে দিবেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সৈয়দপুর পাইকারি কাঁচামাল সবজি বাজারের ব্যবসায়ী ও কমিশন এজেন্ট ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজের জুয়েল মন্ডল, মেসার্স ফরিদুল ট্রেডার্সের ফরিদুল ইসলাম ও অপর ব্যবসায়ী মুকুল বলেন,ভারত রপ্তানি করবেনা এমন ঘোষনা আসামাত্রই পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তারা বলেন, আমরা কমিশনে পেঁয়াজ বিক্রি করি। বিভিন্ন আমদানিকারকদের নির্দেশনা ও দেশি পেঁয়াজের মহাজনদের বেঁধে দেওয়া দরে তারা পেঁয়াজ বিক্রি করছেন।
তারা বলেন বিভিন্ন স্থলবন্দরে পেঁয়াজের মূল্য বেড়েছে। শনিবার দুপুরেই তারা কেজি প্রতি ১৮০-২০০ টাকা দর দিয়েছেন। ফলে পেঁয়াজের মূল্য আরও বাড়তে পারে। তবে আশার কথা হলো দেশে আবাদ হওয়া নতুন পেঁয়াজ পুরোদমে বাজারে উঠলেই দাম কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে আসবে। বলেন ওইসব ব্যবসায়ীরা। এদিকে হঠাৎ করে দেশি ও আমদানি করা পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধির পিছনে বড় বড় পাইকারি ব্যবসায়ীর কারসাজি রয়েছে বলে সচেতন মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে। তাদের মতে ভারতের ঘোষনায় মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে বাজারগুলোতে পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি কারসাজি ছাড়া আর কিছু নয়। কারণ সৈয়দপুরসহ আশেপাশের পাইকারি বাজারগুলোতে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ মজুদ রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে নাগরিক সমাজের নেতা তামিম রহমান বলেন, পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির লাগাম এখনই যদি টেনে না ধরা হয় তাহলে বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়বে।
পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে জানতে শনিবার বিকেলে মুঠোফোনে কথা হয় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নীলফামারী জেলা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক মো সামসুল আলমের সাথে। তিনি বলেন, হঠাৎ পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। এজন্য মূল্যবৃদ্ধির লাগাম টেনে ধরতে শনিবার থেকে বাজারগুলোতে অভিযান শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে নীলফামারী জেলা সদর ও জলঢাকা উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
সৈয়দপুরসহ অন্যান্য উপজেলাতেও অভিযান পরিচালনা করা হবে। বাজার নিয়ন্ত্রণ না আসা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান দপ্তরটির কর্মকর্তা।