- শেখ নাদীর শাহ্ ::
তালায় শিক্ষকের প্রহারে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে মারপিট করে রক্তাক্ত যখমের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ অভিভাবকসহ এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট শিক্ষক আবুল হাশেমকে অবরুদ্ধ করে রাখে।
খবর পেয়ে স্থানীয় ফাঁড়ি পুলিশ ও বিএনপি নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মুচলেকা দিয়ে তারা ঐ শিক্ষককে উদ্ধার করে নিজ বাড়ি পাইকগাছার কপিলমুনির কাশিমনগরে পৌছে দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সকালে তালার ৬৫ নং রায়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
শিক্ষার্থীসহ অভিভাবক ও এলাকাবাসী জানায়, স্কুল খোলার পর আকষ্মিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জি,এম, আবুল হাশেম দ্বিতীয় শ্রেণীর অংক পরীক্ষা নেন। আকষ্মিক কোন প্রকার পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শিবাঙ্গী বাঁছাড় (৭) একাধিক অংক ভূল করে বসে। তাৎক্ষণিক মূল্যায়নপত্র দেখে শিক্ষক আবুল হাশেম ঐ শিক্ষার্থীকে প্রথমে কিল,ঘুঁষি, চড় ও পরে লাঠিপেটা করে গুরুতর যখম করে। এসময় কোমলমতি ঐ শিক্ষার্থী সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলে।
খবর পেয়ে তার অভিভাবকসহ এলাকাবাসী স্কুলে পৌছে ক্ষুব্ধ হয়ে মিছিল সহকারে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক আবুল হাশেমকে শ্রেণিকক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে।
এসময় তারা তাকে স্কুল থেকে প্রত্যাহারের দাবিতে মিছিল করতে থাকে। খবর পেয়ে তালা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মৃনাল কান্তি মন্ডল, পাইকগাছা থানা ছাত্রদলের সভাপতি সরোজিৎ ঘোষ দেবেনসহ স্থানীয় খলিলনগর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সোহরাব সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরে তাকে তারা সেখান থেকে উদ্ধার করে মুচলেকা নিয়ে পাইকগাছার কপিলমুনির কাশিমনগরস্থ নিজ বাড়িতে পৌছে দেয়।
শিবাঙ্গী রায়পুর গ্রামের সজল বাঁছাড় ও দীপা বাঁছাড়ের মেয়ে ও ৬৫ নং রায়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। অন্যদিকে জি,এম আবুল হাশেম কাশিমনগর গ্রামের মৃত গহর আলী গাজীর ছেলে।
স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষক আবুল হাশেম বরাবরই একজন উগ্রপন্থী শিক্ষক। বিভিন্ন সময় তিনি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সাথে খারাপ আচারণ করেন। তারা ঐ শিক্ষককে সেখান থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানান।