মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর থেকে::
আগামি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আর বেশীদিন নেই। জানুয়ারীর প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন হলে আনুমানিক হিসেবে ধরে নেওয়া যায় হাতে সময় রয়েছে মাত্র ২ মাস। সে হিসেবে কেন্দ্রের আশির্বাদ পেতে নীলফামারী- ৪ আসনের ( সৈয়দপুর – কিশোরগঞ্জ) সংসদ সদস্য প্রার্থী হতে ব্যাপক জোর তৎপরতা শুরু করেছেন আওয়ামী লীগ ও জাতীয়পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।
তবে নির্বাচন নিয়ে নীরব রয়েছে বিএনপিসহ বেশকিছু রাজনৈতিক দল। সুত্র জানায়, বিএনপিসহ সরকার বিরোধী দলগুলো সরকারের পদত্যাগসহ তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে একদফার আন্দোলন চালিয়ে আসছে। তাদের ঘোষণা তত্বাবধায়ক
সরকার ছাড়া নির্বাচনে যাবেনা। ফলে নির্বাচন নিয়ে এখন তাদের মাথা ব্যথা নেই।
অপরদিকে আগামি সংসদ নির্বাচন সংবিধানের আলোকে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে আওয়ামী লীগ। ফলে বিরোধী দলের আন্দোলন মোকাবেলার পাশাপাশি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে তৎপর রয়েছে দলটি। গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে আগামি সংসদ নির্বাচনে নৌকায় ভোট দেওয়ার জন্য অনেক আগে থেকেই দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা তাদের কর্মী সমর্থকদের নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন।
এ অবস্থায় নীলফামারী -৪ আসনে অন্যান্য দলের চাইতে প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জের প্রতিটি এলাকার গলি থেকে রাজপথে ছেয়ে গেছে তাদের পোস্টার ও ব্যানার। নির্বাচনী আসনটি থেকে আওয়ামী লীগের একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীর নাম শোনা গেলেও পোস্টার ও ব্যানার শোভা পাচ্ছে মাত্র কয়েকজনের।
আসনে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিন, সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহসিনুল হক মহসিন, কিশোরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এবং সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কিশোরগঞ্জ উপজেলা শাখার আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা জাকির হোসেন বাবুল, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেত্রী আমেনা কোহিনুর আলম, কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি উপ কমিটি ও নীলফামারী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মোশাররফ হোসেন, স্বেচ্ছাসেবকলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নাফিউল করিম নাফা, বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের নির্বাহী সদস্য ব্যারিস্টার মোকসেদুল ইসলাম, নীলফামারী জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি প্রকৌশলী সেকেন্দার আলী, সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের জেষ্ঠ্য নেতা অধ্যাপক সাখাওয়াৎ হোসেন খোকন, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাবু, সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি প্রকৌশলী একেএম রাশেদুজ্জামান রাশেদ প্রমুখ। তারা দলীয় মনোনয়ন পেতে চালিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড।
নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি যোগাযোগ রাখছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে। উত্তরাঞ্চল সফরে আসা এবং সফর শেষে ঢাকায় ফিরে যাওয়ার জন্য কেন্দ্রের যে কোন নেতা সৈয়দপুর বিমানবন্দরে এলেই তাদেরকে অভ্যর্থনা জানাতে কর্মী সমর্থকদের নিয়ে বিমানবন্দরে হাজির হচ্ছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।
এক্ষেত্রে প্রচারণায় এগিয়ে থেকে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশা করে বর্তমান সরকারের সকল উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরে সভা সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছেন সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিন। তিনি তার কর্মী ও সমর্থকদের সাথে নিয়ে সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নসহ হাটেবাজারে করছেন সমাবেশ। করছেন গনসংযোগও। দলীয় কর্মসূচিতে স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও চলছে তার এসব কর্মকাণ্ড।
এ আসনের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে নৌকার মনোনয়ন পেতে অনেকেই চালাচ্ছেন প্রচারণা। তবে সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিন রয়েছেন এগিয়ে।
তারা বলেন, অবাঙ্গালী অধুষ্যিত সৈয়দপুর পৌর এলাকাসহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করেছেন। করোনাকালীন সময়ে অসুস্থ রোগীদের অক্সিজেন সেবা, ওষুধ পত্রের সহায়তা প্রদানসহ খাদ্য সহায়তা দিয়ে গোটা উপজেলায় সর্বত্র প্রশংসিত হয়েছেন। সবমিলিয়ে সৈয়দপুর উপজেলায় আওয়ামীলীগের অবস্থান খুবই মজবুত। এছাড়া কিশোরগঞ্জেও দলের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করতে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তাই আগামি সংসদ নির্বাচনে এ আসনের জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিনকে মনোনয়ন দেওয়া হলে এবং সকল বিভেদ ভুলে একসাথে কাজ করলে আওয়ামী লীগের ঘরে ফিরে আসবে এ আসনটি ৷
জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিন বলেন, আওয়ামী লীগের কর্মী হয়ে নৌকার জন্য কাজ করছি।
বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডসহ সার্বিক সফলতার বিষয় জানাতে জনগনের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি। সভা সমাবেশের পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে চালিয়ে যাচ্ছি গণসংযোগ। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে এ আসনটি জননেত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে পারবো। আশাকরি দল আমাকে সবদিক বিবেচনা করে মূল্যায়ন করবে।
অপরদিকে দেশের বৃহৎ বিরোধী দল বিএনপি থেকেও আগামি সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শওকত চৌধুরী, বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী বেবী নাজনীন, সাবেক সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম, সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার। তবে এখন পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে তাদের তৎপরতা দেখা যায়নি।
তবে ওইসব সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ঘনিষ্ঠ সুত্র এবং দলটির একাধিক সুত্র জানায়, দলের সকল নেতাকর্মী এখন একদফার আন্দোলনে রয়েছেন। সরকারের পদত্যাগ ও তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দেওয়ার দাবি না মানা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। তাই নির্বাচন নিয়ে তাদের এখন মাথা ব্যথা নেই।
তবে দলটির তৃণমুলের নেতাকর্মীরা জানান, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই আমাদের একদফার আন্দোলন। দাবি পূরণ হলেই বিএনপির জন্য নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে সময় লাগবেনা।
এদিকে মহাজোট থেকে নির্বাচিত হওয়া জাতীয় পার্টির বর্তমান সংসদ সদস্য আহসান আদেলুর রহমান আদেলসহ জাতীয় পার্টি থেকে আরও দুজন আগামি নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা হলেন সৈয়দপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক বিশিষ্ট শিল্পপতি আলহাজ্ব সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক ও জাতীয় পার্টির রওশনপন্থী নেতা ব্যবসায়ী এজাজ আহমেদ খান।
বর্তমান সংসদ সদস্য আহসান আদেলুর রহমান নির্বাচন উপলক্ষে এখন ঘনঘন আসছেন তার নির্বাচনী এলাকায়। তিনি নির্বাচনী প্রচারণার পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করছেন। নেতাকর্মীদের নিয়ে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনাসহ গনসংযোগ করছেন নির্বাচনী এলাকায়। এক্ষেত্রে তার কর্মী সমর্থকরা নিশ্চিত যে তিনি এবারও দলের মনোনয়ন পাবেন।
অপরদিকে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশা করে লাঙ্গলের প্রার্থী হতে গোটা নির্বাচনী এলাকায় শিল্পপতি সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিকের পোস্টার শোভা পাচ্ছে। তিনি কর্মী সমর্থকদের নিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যাপক গনসংযোগ ও সমাবেশ। দফায় দফায় কিশোরগঞ্জ ও সৈয়দপুর উপজেলা জাতীয় পার্টি ও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে করছেন বৈঠকও। ওইসব বৈঠকে নেতাকর্মীরা সিদ্দিকুলকে জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সমর্থনও জানিয়েছেন।
এদিকে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশা করে রওশনপন্থী নেতা ব্যবসায়ী এজাজ আহমেদ খানের পোস্টার দেখা যাচ্ছে সৈয়দপুরে। তবে এখন পর্যন্ত তাকে কোন গনসংযোগে অংশ নিতে দেখা যায়নি। এছাড়া জামায়াতে ইসলামী, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশসহ অন্যান্য দলগুলোর পক্ষে নির্বাচন নিয়ে কোন তৎপরতা এখনও দেখা যায়নি।