- শেখ নাদীর শাহ্ ::
উপকূলীয় খুলনার পাইকগাছার সুন্দরবন সংলগ্ন গড়ইখালীতে ১কোটি সাড়ে ২৮ লাখ টাকা ব্যায়ে সংস্কার হচ্ছে দুর্যোগ রক্ষা বাঁধ। ইতোমধ্যে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের ৩৫ শতাংশ কাজ শেষ করেছে বলে জানানো হয়েছে। বাস্তবায়নকারী সংস্থার দাবি, আগামী মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।
উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে গড়ইখালীসহ আশ-পাশের কয়েকটি ইউনিয়ন ভাঙ্গন ও প্লাবনের হাত থেকে নিরাপদ থাকবে। একই সাথে এ অঞ্চলের হাজার হাজার বিঘা জমির মৌসুমী ফসল ও মৎস্য সম্পদ রক্ষা হবে বলেও মনে করা হচ্ছে। এ ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের কারণে শঙ্কায় থাকা এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
প্রাকৃতিক দূর্যোগে জেলার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর মধ্যে পাইকগাছা অন্যতম। আর এখানকার সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা ইউনিয়ন গড়ইখালী।
সুন্দরবন সংলগ্ন ইউনিয়নটি প্রতিবছর দুর্যোগের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ঘুর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের প্রথম ও প্রধান ভিকটিম হয় গড়ইখালী। বিশেষ করে টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকায় শিবসা নদীর বাঁধ ভেঙ্গে প্রতিবছর সেখানকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
গড়ইখালী বাজার আবাসন এলাকা থেকে গাংরখী বাজার পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার ওয়াপদার বেড়িবাঁধ খুবই দুর্বল। এছাড়া ক্ষুদখালী এলাকায় রয়েছে দীর্ঘদিনের ভাঙ্গন। সর্বশেষ দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ সংস্কারে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচী বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করেছে।
দুর্যোগ ঝুঁকি হৃাস কমিউনিটি সম্পদ সৃষ্টি প্রকল্পের আওতায় গড়ইখালীর ৪ ও ৫ নং ওয়ার্ডের ক্ষুদখালী কানু বাবুর বাড়ির হতে গাংরখী বাজার পর্যন্ত ২ হাজার ১৫ মিটার ওয়াপদার রাস্তা সংস্কার এবং ইটের কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পের বরাদ্দকৃত চুক্তি মূল্য ধরা হয়েছে ১ কোটি ২৮ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৬ টাকা। প্রকল্পের কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা করছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি।
সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। বাস্তবায়ন করছে গড়ইখালী ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি। প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগী সংস্থা হিসেবে রয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সুশীলন। সংস্থার কাজ করছে কয়রার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাব্বী এন্টারপ্রাইজ।

প্রকল্পের কাজ বর্তমানে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে ৩৫ ভাগ কাজ শেষ করেছে।
চলমান প্রকল্পের এ সংষ্কার কাজ পরিদর্শন করেছেন, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির প্রতিনিধি, সুশীলনের পরিচালক সচ্চিদানন্দ বিশ্বাস, ডিআরআর কো অর্ডিনেটর মোঃ ইমরান হোসেন, মিল্কো খালিদ মাহমুদ, কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ার আয়ুব আলীসহ সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পিইসি কমিটির সদস্যবৃন্দ।
এসময় প্রতিনিধিবৃন্দ কাজের অগ্রগতি সন্তোষ জনক বলে জানানা। কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে ঠিকাদার আফজাল হোসেন জানান, আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যে সংস্কার কাজ শেষ হবে। সংস্কার কাজ শেষ হলে দুর্যোগের ঝুঁকি বহুলাংশে হ্রাস পাবে। গড়ইখালী, লস্কর, চাঁদখালী ও আমাদিসহ কয়েকটি ইউনিয়ন দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে।
এছাড়া হাজার হাজার বিঘা জমির ফসল ও মৎস্য সম্পদ উৎপাদন ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন গড়ইখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম আব্দুস সালাম কেরু।
বাঁধের সংস্কার কাজ শুরুর পর থেকে স্থানীয়রা স্বস্তিতে রয়েছেন বলেও জানিয়েছেন স্থানীয় এ জনপ্রতিনিধি।