1. sheikhnadir81@gmail.com : admin :
  2. tapon.tala@gmail.com : Tapon Chakraborty :
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
সৈয়দপুর পৌর প্রশাসকের তদারকিতে মশক নিধনসহ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত অস্ত্র মামলায় যুবকের ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ডুমুরিয়ায় নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনে প্রস্তুতিমূলক সভা রাকসুর জিএস আম্মারের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবিতে কয়রায় বিক্ষােভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা কয়রায় দুই দিন পর নিখোঁজ ২ জেলের মরদেহ উদ্ধার পাইকগাছায় তাঁতিদল সভাপতির বহিষ্কারাদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি ফুটপাত ও সড়ক দখল, যানজটের যন্ত্রণায় নাকাল সৈয়দপুরবাসী কয়রায় মাদ্রাসা সুপারকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ পাইকগাছায় পুলিশ কর্মকর্তার মায়ের খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন পাইকগাছায় পাউবোর জমিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

ফুটপাত ও সড়ক দখল, যানজটের যন্ত্রণায় নাকাল সৈয়দপুরবাসী

  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৯৬ বার পঠিত
Saidpur-Nilphamari-16265
  • মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর ::

বাণিজ্য ও শিল্পে কর্মচঞ্চল নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরে ভেতরে প্রতিদিন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে যানজট। প্রতিদিনের যানজট শহরবাসীর যন্ত্রণা, বিরক্তি ও দৈনন্দিন দুর্ভোগের অন্যতম ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

এর সঙ্গে সড়ক দখল করে মালামাল রাখা ও ফুটপাতের ওপর দোকান বসানোয় পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে।

পৌরসভার পক্ষ থেকে দপ্তরটির কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ স্বেচ্ছাসেবকরা যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক বিভাগকে সহযোগিতা করে আসলেও যানবাহন চালকরা ট্রাফিক আইন না মানায় সৈয়দপুর শহরে প্রবেশের ৮টি প্রধান পথেই প্রতিদিন লেগে থাকে দীর্ঘ
যানজট।

এ কারণে দিন দিন অফিস, বাজার কিংবা হাসপাতাল- ক্লিনিক-কোথাও সময়মতো পৌঁছানো ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। আর যানজটে প্রতিদিন নষ্ট হচ্ছে মানুষের মূল্যবান সময়, হারিয়ে যাচ্ছে স্বস্তির চলাচল।

সুত্র মতে, শহরের প্রতিটি সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে যে যার মত অটোরিকশা ও রিকশাভ্যানগুলো দাঁড় করিয়ে রাখায় অন্যান্য যানবাহন চলাচলে বাঁধার সৃষ্টি হচ্ছে। শহরের ট্রাফিক চত্বরের তামান্না সিনেমা হল মোড়, শহীদ তুলশীরাম সড়কের দিনাজপুর রোড মোড়, মুন্সিপাড়া মোড়, সবজিবাজার রোডের সোহেলরানা মোড় ও সৈয়দপুর থানা রোড মোড়ে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা ও রিক্সাভ্যানের জট লেগেই থাকে।

বেলা বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যানজট ভয়াবহ রূপ নেয়। সকাল থেকে তা চলে মধ্যরাত পর্যন্ত। একবার যানজটে আটকে পড়লে সহজে মুক্তি মেলে না। বিশেষ করে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স যানজটে আটকে পড়লে পরিস্থিতি হয়ে ওঠে ভয়ানক,
কখনো কখনো তা প্রাণহানির আশংকা তৈরি করে। তবে যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ ও পৌরসভার কর্মচারীরা সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করলেও জটমুক্ত হচ্ছে না সড়ক। সড়কে ধারণ ক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে সব চেষ্টায় ব্যর্থ হচ্ছে।

সুত্র জানায়, ব্যস্ততম সড়ক মোড়ে যানজট সহনীয় মাত্রায় আনতে সড়কে স্থাপন করা অস্থায়ী ডিভাইডার পাল্টে স্থায়ী ডিভাইডার স্থাপন করা হচ্ছে। শহরের ভিতর দিয়ে ভারী যানবাহনের প্রবেশে কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ জন্য সড়কের ওপর গতিরোধক (ব্যারিয়ার) দেওয়া হলেও যান চালকরা তা অমান্য করে বেরিয়ার ভেঙ্গে ফেলছে। অভিযোগ রয়েছে ট্রাফিক বিভাগের ঢিলেমি ও একটি চক্রের মদদে চালকরা দিনের বেলা তাদের ভারী যানবাহন শহরে প্রবেশ করাচ্ছে। ফলে চালকদের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার প্রবণতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে পৌর প্রশাসন। এসব উদ্যোগ কার্যকর হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে যানজটের দুর্ভোগ অনেকাংশে লাঘব হবে।

অন্যদিকে ট্রাফিক বিভাগ বলছে, সড়কে যত্রতত্র পার্কিং ও চালকরা শৃঙ্খলা না মানায় যানজট পরিস্থি উন্নতি হচ্ছে না। এছাড়া ট্রফিক বিভাগের জনবল স্বল্পতা ও বিদ্যমান সড়ক অনুপাতে প্রয়োজনীয় ট্রাফিক পয়েন্ট না থাকায় যানজট সৃষ্টিতে প্রভাব ফেলছে।

অপরদিকে সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিল্প কারখানা ছুটির পর প্রতিটি সড়কের একদিকে প্রবেশকারী যানবাহন, অন্যদিকে ঘরে ফেরা মানুষের যানবাহনের জটলায় সৃষ্টি নিত্যদিন হচ্ছে সীমাহীন দুর্ভোগ।ভুক্তভোগী শহরবাসীর অভিযোগ, যানবাহন চালকরা ট্রাফিক আইনের তোয়াক্কা করেন না। সড়কের যত্রতত্র যানবাহন দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানায় স্বাভাবিক যান চলাচল বাধাগ্রস্থ করছে। সড়কে ডিভাইডার স্থাপন করলেও পার্কিং স্পেসের অভাবে জট সমস্যা কাটছে না। এমন বিশৃঙ্খলায় সড়কের মোড়ে মোড়ে পৌরসভার কর্মচারী ও স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করায় আশানুরূপ ফল মিলছে।

সূত্র মতে, শহরের প্রবেশ পথের সড়ক মোড়ের মাত্র তিনটি পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করেন। অন্য সড়ক মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ নেই। এসব পয়েন্টে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে দেখার কেউ নেই। যার প্রভাব অন্য সড়ক ও সড়ক মোড়ে পড়ায় জটের ধকল পোহাতে হয়। এছাড়াও বেশীরভাগ দোকানীরা রাস্তা ও ফুটপাত দখলে রাখায় বিঘিœত করছে যান ও পথচারীর চলাচল । এর সঙ্গে সড়কের ওপর ব্যবসা করা ভ্রাম্যমাণ হকাররা পরিস্থিতি আরও নাজুক করে তুলেছে। এ অবস্থায় সড়ক, ফুটপাত স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত করতে পৌর কর্তৃপক্ষের শক্ত ভূমিকা গ্রহনের দাবি জানায় সূত্রটি।

এছাড়া সম্প্রতি শহর উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় শহরের বিভিন্ন সড়কে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ব্যবসায়ী সংগঠন ব্যবস্থা নিবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পৌরসভাকে সাথে নিয়ে সে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা। তবে ব্যবসায়ীদের এমন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এখন পর্যন্ত কোন উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

জানতে চাইলে, সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা জানান, শহরের যানজট নিরসনে সড়কের ওপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদ ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে পৌরসভার পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দিনের বেলা যাতে শহরে ভারী যানবাহন প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে লোহার ব্যারিয়ার দেয়া হয়েছে। অথচ যানবাহন চালকরা সেসব ভেঙ্গে শহরে প্রবেশ করছে। বিষয়টি নজরে আসার পর ওই পয়েন্টগুলোয় পৌরসভার নিজস্ব জনবল নিয়োজিত করা হয়েছে।

পৌর প্রশাসক বলেন, যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশকে সার্বক্ষণিক সহায়তা করছে পৌরসভার কর্মীরা। এছাড়া সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে স্টিলের ডিভাইডার বসানোর কাজ চলছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে শহরের যানজট পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হবে বলে জানান তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

একই বিভাগের সকল খবর