সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি::
বিকেলে প্রাইভেট পড়ে বাসায় আসে স্কুল ছাত্রী সিনথিয়া ইসলাম ইলা (১৫)। তার মা রুবী পারভীনকে চা বানিয়ে দেয়, মায়ের চুলের বেনিও বেঁধে দেয় সে। হাসিমুখে বাড়ির কাজও করছিল। সন্ধ্যার দিকে মেয়ে ও তার ছোট ছেলেকে রেখে পাশের বাড়িতে যায় মা রুবী। কিছুক্ষণ পরে ছোট ছেলের কান্নাকাটি শুনতে পেয়ে বাসায় এসে দেখেন তার মেয়ে ঘরে সিলিং ফ্যানে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছে। এমন বর্ণনা দিয়ে মেয়েকে হারিয়ে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন মা রুবী পারভীন।
বুধবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এমনই হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটেছে সৈয়দপুর শহরের নয়াটোলা ডিআইবি রোড এলাকায়। সাথে সাথে বাড়ির লোকজন ইলাকে উদ্ধার করে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করে। খবর পেয়ে থানা পুলিশের একটি দল রাতে হাসপাতালে পৌছে মহিলা পুলিশের মাধ্যমে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে লাশ থানায় নিয়ে আসেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করা থানার উপ- পরিদর্শক মো. মারুফ -উল – ইসলাম।
মৃত সিনথিয়া ইসলাম ইলা ওই এলাকার মৃত সাঈদ হোসেনের কন্যা। সে শহরের তুলশীরাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেনীর ছাত্রী ছিল। এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে থানা পুলিশ জানায়, তিন বছর বয়সে সিনথিয়ার বাবা মারা যায়। পরে প্রায় তিন বছর পর তার মা রুবী পারভীন ফারুক হোসেন নামে একজনকে বিয়ে করেন। সে ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তিনি চাকুরির কারণে বেশিরভাগ সময় ঢাকাতেই অবস্থান করেন। মেয়ে সিনথিয়া ইসলাম ইলা ও ৬ বছর বয়সী ছোট ছেলেকে নিয়ে ভাড়ায় বসবাস করেন নয়াটোলা ডিআইবি রোডের একটি বাসায়। ঘটনার দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত মা রুবী পারভীনসহ সকলের সাথে হাসিখুশিতে ছিল সিনথিয়া। এরপরেই সে সিলিং ফ্যানে গলায় ফাঁস আত্মহত্যা করে সে। তবে কি কারণে সে আত্মহত্যা করেছে তা পরিবারের কেউ বলতে পারছেনা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সৈয়দপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম রাসেল পারভেজ বলেন লাশের সুরতহাল প্রতিবেদনে কোথাও কোন আঘাতের চিহৃ পাওয়া যায়নি।
লাশের ময়নাতদন্তের জন্য বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) নীলফামারী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।