সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি::
এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রকাশিত ফলাফলে নারী শিক্ষায় পাসের হারে সেরাসহ উপজেলায় ৫ম হয়ে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে সৈয়দপুরের আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ।
একই সাথে সৈয়দপুরের ৩ টি মহিলা কলেজের মধ্যে জিপিএ -৫ প্রাপ্তিতে ২য় উপজেলায় ৭ম হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
গত ২৬ নভেম্বর প্রকাশিত ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটি এমন সাফল্যের পেয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবারে ১৪ টি কলেজের মধ্যে মাত্র কোন প্রতিষ্ঠানই শতভাগ পাসের সাফল্য দেখাতে না পারলেও গোটা উপজেলায় পাসের হারে ৭ম এবং মহিলা কলেজগুলোর মধ্যে সেরা হয়েছে আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ।
এবার এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১১৯ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ১১৭ জন। এদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৩৩ জন ও ব্যবসায় শিক্ষায় ৪ জনের সকলেই শতভাগ এবং মানবিকে ৮২ জনের মধ্যে ৮০ জন পাস করেছে। পাসের হার শতকরা ৯৮.৩২ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ জন। এদের মধ্যে বিজ্ঞানে ৪ ও মানবিক বিভাগে ৫ জন জিপিএ-৫ পায়। পাসের হারের ভিত্তিতে ফলাফলে দেখা যায় ১৪টি কলেজের মধ্যে জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ উপজেলায় ৭ম, পাসের দিক থেকে ৫ম এবং নারী শিক্ষায় শীর্ষে রয়েছে।
উপজেলায় পাসের হারে নবম এবং জিপিএ -৫ প্রাপ্তিতে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে সৈয়দপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ। এ প্রতিষ্ঠানের মোট পরীক্ষার্থী ২৯৮ জনের মধ্যে পাস করেছে ২৪৬ জন।জিপিএ – ৫ পেয়েছে ১০ জন। পাসের হার শতকরা ৮২.৫৫ ভাগ। তবে পাসের দিক থেকে নারী শিক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান ২য়।
অপর দিকে পাসের দিক থেকে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে পাইলট বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ। এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এবারে ১২৭ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এদের মধ্যে পাস করেছে ১২০ জন। পাসের হার শতকরা ৯৪.৪৯ ভাগ। তবে জিপিএ -৫ এর সাফল্য পায়নি কোন পরীক্ষার্থী। আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ পাসের দিক থেকে উপজেলায় ৫ম ও জিপিএ -৫ প্রাপ্তিতে ৭ম এবং নারী বিদ্যাপীঠে পাসের দিক থেকে সেরা হওয়ার সাফল্য প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মো. হাবিবুর রহমান বলেন প্রতিষ্ঠানটির এ সাফল্য আরও পরিপূর্ণ পেত যদি আমরা শতভাগ পেতাম। এবারে ২ জন পরীক্ষার্থীর ফলাফল খারাপ হওয়ায় আমরা কিছুটা পিছিয়ে।
তিনি বলেন, আগামিতে যাতে শতভাগ সাফল্যসহ জিপিএ -৫ প্রাপ্তির সংখ্যা বৃদ্ধি পায় সে ব্যাপারে এখন থেকে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সবধরনের প্রস্তুতি নেয়া হবে।
এবারে সাফল্যের পিছনে প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষকদের অবদান সবচেয়ে বেশি জানিয়ে তিনি শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অধ্যক্ষ হাবিবুর বলেন, প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি কাজী মনোয়ার হোসেন হায়দারের দিক নির্দেশনায় শিক্ষকরা পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী করতে ছিলেন আন্তরিক। তারা অভিভাবকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখাসহ পরীক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রতিটি বিষয়ের পড়া বুঝিয়েছেন।
তিনি বলেন পরীক্ষার বিষয়টিকে মাথায় রেখে পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী করতে শিক্ষকরা অভিভাবকদের বিশেষ পরামর্শ দেন। ফলে শিক্ষকদের পরিশ্রম আর অভিভাবকদের সচেতনতায় প্রতিষ্ঠানটির সাফল্য আসে। আগামিতে যাতে আরও ভাল ফলাফল অর্জন হয় সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।