মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর::
নীলফামারীর সৈয়দপুর থানায় দায়েরকৃত সাইবার নিরাপত্তা আইনের মামলায় পলাতক আসামি সাগর হোসাইন (২৪) নামে আরও এক থাই জুয়া (লটারি) ও ভিসা প্রতারককে গ্রেফতার করেছে সৈয়দপুর থানা পুলিশ।
শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ভোরে উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের চওড়া বাগিচাপাড়া এলাকার নিজ বাড়ী থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে ওই এলাকার বাহারাম হোসেনের ছেলে। ওইদিন দুপুরে আসামি সাগরকে নীলফামারী আদালতে প্রেরণ করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
থানা পুলিশের সুত্র জানায়, দীর্ঘদিন থেকে কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ার ভিসা প্রদানসহ থাই লটারিতে জিতিয়ে দেওয়ার নামে বাংলাদেশী প্রবাসীদের সাথে প্রতারণা করে আসছিল স্থানীয় একটি চক্র। তাদের এ প্রতারণার ফাঁদে পড়ে অনেক প্রবাসী সর্বশান্ত হয়েছে। ফলে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সৈয়দপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কল্লোল কুমার দত্তের নির্দেশনায় থানা পুলিশ থাই জুয়ারি ও ভিসা প্রতারক চক্রের সদস্যদের ধরতে অভিযান শুরু করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ জানুয়ারি রাতে অভিযান পরিচালনা করে উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের সিপাইগঞ্জ ফকিরপাড়া থেকে মো. হাবিব (২২) নামে একজনকে গ্রেফতার করেন। পরদিন ৩০ জানুয়ারি থানার উপ পরিদর্শক অপূর্ব চন্দ্র সরকার বাদী হয়ে সাইবার নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় গ্রেফতার হাবিবের স্বীকারোক্তিমতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম রাসেল পারভেজ এ চক্রের সাথে জড়িত সাগর হোসাইনকে গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেন। পরে সোর্সের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার ভোরে উল্লিখিত এলাকা থেকে সাগরকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে গ্রেফতার সাগর প্রবাসীদের সাথে প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তারমতো সৈয়দপুরসহ আশেপাশের থাই জুয়াড়ি ও ভিসা প্রতারকরা একই কাজ করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। তাদের প্রায় সকলেই ঢাকায় কেনাকাটা করতে বিমানে যাতায়াত করছে। একসময়ে দিন এনে দিন খাওয়া ওইসব প্রতারক চক্রের সদস্যরা আলিশান বাড়ী তৈরি করেছে। ঘুরে বেড়াচ্ছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নামিদামী মোটরসাইকেলে।
সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহা আলম জানান, জিজ্ঞাসাবাদে সাগর প্রতারণার সাথে নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য সৈয়দপুর, কিশোরগঞ্জসহ গোটা জেলার পাড়া মহল্লা এখন থাই জুয়াড়ি এবং ভিসা প্রতারকদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এ খেলায় মেতে উঠেছে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও। এখনই সময় তাদের লাগাম টেনে ধরার। এ দাবি উঠেছে সর্বমহল থেকে।