- নিজস্ব প্রতিবেদক ::
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়ন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিভিন্ন সৃষ্ট পদে কর্মচারী নিয়োগের নামে অর্থ গ্রহনের অভিযোগে তদন্ত প্রতিবেদন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর প্রেরণ করেছে খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শিক্ষা ও কল্যাণ শাখা। অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কানিজ ফাতেমা লিজার স্বাক্ষরিত এক পত্রে বিষয়টি জানানো হয়েছে। যার স্মারক নং-০৫.৪৪. ৪৭০০.০০০.০২০.০১৮.০০৬৫.২৬-৮০৬, তাং ৪/১০/২৬।
এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী গত ১৪/০৯/২৬ তারিখে ০৫.৪৪. ৪৭৬৪. ০১. ০৩৮.২৬-১৩১৬ নং স্মারকে অভিযোগ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনটি জেলা ও কল্যাণ শাখায় প্রেরন করেন।
তার আগে গত ২৩ জুলাই ২৬’ হরিঢালী ইউনিয়ন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুধাংশু শেখর মন্ডলের বিরুদ্ধে চাকুরী দেওয়ার নামে ১১ লক্ষ ৫ হাজার টাকা গ্রহনের পর চাকুরী না দিয়ে তা আত্নসাতের অভিযোগ করেন, তালা উপজেলার কানাইদিয়া গ্রামের জনৈকা প্রিয়াংকা মল্লিক।
যার প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের আহ্বায়ক কমিটির সভাপতি ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী গত ২৭ জুলাই উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তাকে প্রধান করে উপজেলা মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে সদস্য করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। যার স্মারক নং- ০৫.৪৪.৪৭৬৪.০০১.৩৪.০০৩.২৬-১০২৪। এরপর তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা: পার্থ প্রতিম রায় গত ৩ আগস্ট ৩৩. ০১. ৪৭৬৪. ০০০. ২৭.০০২.২৬-২৪৬ নং স্মারকে একপত্রে তদন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিবর্গকে গত ৬ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০ টায় প্রথমত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে বলেন।
এদিন তদন্ত কমিটি বিদ্যালয়ে তাদের তদন্ত কার্যক্রম শুরু করলেও অভিযুক্ত শিক্ষক প্রথমত ঘুস গ্রহন এমনকি অভিযোগকারী প্রিয়াংকার স্বামীকে আগে কখনও দেখেননি বলে জানান। এরপর বিভিন্ন অডিও রেকর্ডিংসহ নানা প্রমানাদি উপস্থাপন করে অনলাইন দৈনিক দীপ্তনিউজ২৪.কম-এ নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ অব্যাহত থাকায় এক পর্যায়ে তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা বরাবর ৯ লক্ষ ৫ হাজার টাকা প্রিয়াংকাকে চাকুরী দিতে অগ্রীম গ্রহন করেছেন বলে লিখিতভাবে স্বীকার করেন।

তদন্ত কমিটি উভয় পক্ষকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ ও অভিযুক্ত শিক্ষক সুধাংশু শেখর মন্ডল প্রিয়াংকার নিকট থেকে তাকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে চাকুরী দেওয়ার কথা বলে ৯ লক্ষ ৫ হাজার টাকা গ্রহনের কথা স্বীকার করে লিখিত দিয়ে লঘু দন্ডের আবেদন করেন। যার প্রেক্ষিতে গত ২৪/৮/২৬ তারিখে ০৫.৪৪.৪৭৬৪.০০১.৩৪.০০৩.২৬-১০২৪ নং স্মারকে তদন্ত কমিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
এরপর তিনি বিষয়টি মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বরাবর অগ্রায়নের অবশ্যকতা নিয়ে মতামত জানালে তা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অভিযোগ পত্র, তদন্ত প্রতিবেদনসহ ৮০ পাতার সংযুক্তি প্রেরন করেন। যার অনুলিপি সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগসহ অন্যান্য দপ্তরে প্রেরন করা হয়েছে।
জানাযায়, অভিযোগের প্রেক্ষিতে অনলাইন দৈনিক দীপ্তনিউজ২৪.কম সহ বিভিন্ন মিডিয়ায় এ সংক্রান্তে ধারাবাহিক প্রতবেদন প্রকাশিত হয়। যার প্রেক্ষিতে কপিলমুনি প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক ও নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সভাপতি এইচ,এম শফিউল ইসলাম আইন-শৃঙ্কলা কমিটির সভায় বিষয়টি উত্থাপন ও ২৩ জুলাই প্রিয়াংকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর এ লিখিত অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
লিখিত অভিযোগে প্রতারণার শিকার চাকুরি প্রার্থী প্রিয়াংকা মল্লিক জানান, উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়ন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জনবল কাঠামো ও এমপিও নিতিমালা/২০২১ অনুসারে সৃষ্টপদে যথাক্রমে নৈশপ্রহরী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, অফিস সহায়ক প্রতিটি পদে একজন করে এবং নিরাপত্তা কর্মী পদে একজন সহ মোট ৪ জন কর্মচারী পদে লোক নিয়োগের জন্য গত ১২/১০/২০২৩ তারিখে খুলনা থেকে প্রকাশিত দৈনিক পূর্বাঞ্চল পত্রিকায় পূন:নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ৫ শত টাকার পোস্টাল অর্ডারসহ প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) বরাবর আবেদন করতে বলা হয়।
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর বিদ্যালয়ের ভারপ্রপ্ত প্রধান শিক্ষক সুধাংশু শেখর মন্ডল পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে পরীক্ষার আগেই তার কাছ থেকে ৪ কিস্তিতে ১১ লক্ষ ৫ হাজার টাকা গ্রহন করেন। তবে নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হলেও পরীক্ষা গ্রহন করতে না পারায় সুধাংশুর কাছে তাকে দেওয়া সমুদয় টাকা ফেরৎ চান। প্রথমত পরীক্ষা গ্রহনে নানা টালবাহানা ও পরে টাকা দিতে অস্বীকার এমনকি সেসব টাকা ঐসময় তিনি সাবেক এমপিসহ বিভিন্ন জনকে প্রদান করেছেন মর্মে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে প্রথমত স্থানীয় প্রেসক্লাবের মাধ্যমে সাংবাদিক ও পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর ঐ লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।