মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর::
শিউলী-কাশফুলের সুবাস ছড়িয়ে হেমন্তের মওসুমে দরজায় কড়া নাড়ছে শারদ উৎসব। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা প্রস্তুতি চলছে সৈয়দপুর জুড়ে।
উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ৬৭ ও পৌর এলাকার ১৮টি মন্ডপ স্থাপন করা হয়েছে। এসবের প্রতিটি মন্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির ব্যস্ততা। মৃৎশিল্পীরা নিপুণ হাতে তৈরি করেছেন প্রতিমা। অধিকাংশ মন্ডপে রঙের প্রলেপ দেয়া শুরু হয়েছে।
গত ১৪ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দূর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। এজন্য প্রতিমা তৈরি শেষে শেষ মুহুর্তের কাজ হিসেবে রংতুলির আঁচড়ে প্রতিমায় সাজ সজ্জার মাধ্যমে ব্যস্ত সময় পার করছে প্রতিমা শিল্পীরা।
২০ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর আগেই মন্ডপে সাজ সজ্জার কাজ শেষ হবে বলে আয়োজকদের সুত্র জানিয়েছে।
এদিকে দুর্গোৎসব উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিটি পরিবারে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। পূজা উদযাপনে সব ধরণের প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সৈয়দপুরে কাপড়, প্রসাধনী ও পাদুকা দোকানে জমে উঠেছে পূজার কেনাকাটা। পূজার বেশি ভিড় দেখা যাচ্ছে শাড়ী ও তৈরি পোশাকের দোকানগুলোতে। সবাই হাল ফ্যাশনের শাড়ি, থ্রি-পিস ও বাচ্চাদের পোশাক কিনতে ব্যস্ত। এছাড়াও ভিড় দেখা যাচ্ছে প্রসাধনী ও পাদুকা দোকানেও। পূজায় এ বছর ভালোই বেচাবিক্রি হচ্ছে বলে জানান মার্কেটের দোকানীরা। তবে তৈরী পোশাকের কারণে টেইলার্সগুলোতে তেমন ভীড় দেখা যাচ্ছেনা।
গতকাল শহরের মার্কেটগুলো ঘুরে পূজোর বাজারের এসব চিত্র দেখা গেছে। শহরের পৌর সুপার মার্কেটে সন্তানদের জন্য পোশাক কিনতে এসেছেন তারাগঞ্জের চাকুরিজীবী নারায়ন চন্দ্র (৪৫)। তিনি বলেন, মার্কেটের এ দোকান থেকে ও দোকানে গিয়ে সন্তানদের জন্য পোশাক দেখছেন। কিন্তু দাম বেশী হওয়ায় তেমন বনিবনা হচ্ছেনা দোকানীর সাথে। প্রায় একই কথা বলেন খানসামা উপজেলার কাচিনিয়া এলাকার রমেশ রায় (৫৬)। তিনি জানান,এবার পোশাক, পাদুকাসহ সব পণ্যরই দাম বেশি। তাই সন্তানদের পোশাক কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। তবে উৎসব বলে কথা। তাই নিজের ও তার স্ত্রীর বাজেট কমিয়ে সন্তানদের পছন্দের পোশাক কিনেছেন। সৈয়দপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রাজ কুমার পোদ্দার জানান, এবার সৈয়দপুর উপজেলায় পাঁচ ইউনিয়ন ও শহরের পাড়া-মহল্লা মিলিয়ে ৮৫ মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
আগামী ২০ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গোৎসব। ২৪ অক্টোবর মহাদশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই উৎসব। এ বছর শান্তির আগমনী বার্তা নিয়ে দেবী দুর্গা পিত্রালয়ে আসবেন ঘোটকে করে। আর স্বামীর গৃহ কৈলাশে ফিরেও যাবেন ঘোটকে চড়ে।
তিনি বলেন পূজার উৎসব শান্তিপূর্ণ করতে পূজামন্ডপ কমিটির পক্ষ থেকে গঠন করা স্বেচ্ছাসেবকরা পূজা শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি মন্ডপে পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেয়া হয়েছো ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা।