মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর::
জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ এলাকা নিয়ে গঠিত নীলফামারী-৪ আসনের প্রতিটি এলাকার হাটবাজার অলিগলিতে শোভা পাচ্ছে পোস্টার,ব্যানার। চলছে মাইক প্রচার। প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকরা সকাল থেকেই হ্যান্ডবিল হাতে নিয়ে ছুটছেন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি। এবার প্রচারণায় ঝাপিয়ে পড়েছেন বিভিন্ন বয়সী নারীরাও। তারা ভোটারদের কাছে নিজ নিজ প্রার্থীর জন্য ভোট চাইছেন।
অপরদিকে দুই উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ১৪১ টি ওয়ার্ডে প্রার্থীরা চালিয়ে যাচ্ছেন সভা সমাবেশ। সবমিলিয়ে এ আসনটিতে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা। নানা কৌশল অবলম্বন করে নির্বাচনের মাঠকে জমিয়ে তুলেছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পাওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিন ও জাতীয় পার্টির মনোনয়ন বঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক। তাদের জোড়ালো প্রচারণায় এখনও পিছিয়ে রয়েছে জাতীয় পার্টি (এ) মনোনীত প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য আহসান আদেলুর রহমান আদেলের প্রচারণা। অপরদিকে এ আসনে নির্বাচনে অংশ নেওয়া অন্য চারটি দলের প্রার্থীদের প্রচারণা তেমন একটা নেই বললেই চলে। শুধুমাত্র কয়েক জায়গায় ফেস্টুন চোখে পড়লেও দেখা যায়নি তাদের কোন পোস্টার।

জাতীয় পার্টির স্বতন্ত্র প্রার্থী সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক নির্বাচনী প্রচারনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
সুত্র মতে এ আসনে গত ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো এবারও জাতীয় পার্টির সাথে সমঝোতা হওয়ায় আওয়ামী লীগের। দলটি জাতীয় পার্টিকে ছাড় দেওয়ায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে এবারও ব্যালটে থাকছে না নৌকা। এবারও লাঙ্গল প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করছেন বর্তমান সংসদ সদস্য আহসান আদেলুর রহমান আদেল।
আসনটিতে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী মোখছেদুল মোমিনের (ট্রাক) ও সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিকের (কাঁচি) প্রতিকের জমজমাট প্রচারণায় পিছিয়ে রয়েছেন লাঙ্গল প্রতিকের আহসান আদেলুর রহমান আদেল এমপি। এছাড়া জাসদ (ইনু)’র আজিজুল ইসলাম (মশাল), তৃণমুল বিএনপির ড. আব্দুল্লাহ আল নাসের (সোনালী আঁশ), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আব্দুল হাই সরকার (আম ), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সাজেদুল করিম (নোঙর) প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করলেও তাদের প্রচারণা নেই বলা চলে। মাইক প্রচারসহ কোন সভা সমাবেশও চোখে পড়ছেনা তাদের।
নীলফামারী-৪ আসনের সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলার হাটবাজারসহ ১৪১ টি ওয়ার্ডের পাড়া মহল্লায় চলছে স্বতন্ত্র দুই প্রার্থীর ট্রাক ও কাঁচি মার্কার জমজমাট প্রচারণা। ওই দুই প্রার্থীর প্রচারণার দিক থেকে পিছিয়ে পড়েছে জাতীয় পার্টির প্রতিক লাঙ্গলের প্রচারণা। এ আসনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিয়ে তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে শক্ত অবস্থানে থেকে ট্রাক প্রতিকে জোরালো প্রচারণা ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোখছেদুল মোমিন ও জাতীয় পার্টির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে কাঁচি প্রতিক নিয়ে ভোট যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন সৈয়দপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আলহাজ্ব সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক। ফলে স্বস্তিতে নেই জাতীয় পার্টি। দলটির প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য আহসান আদেলুর রহমান আদেলকে নির্বাচনের মাঠে কঠিণ লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে হচ্ছে। মূলত ওই দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীই মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আদেলের।
সুত্র জানায়, সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলার বিপুল সংখ্যক ভোটারের মন জয় করতে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোখছেদুল মোমিন তার কর্মী সমর্থকদের নিয়ে ট্রাক প্রতিকে ভোট চেয়ে সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জে প্রতিটি এলাকায় শুরু করেছেন ব্যাপক প্রচার প্রচারণা। সৈয়দপুর উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগসহ দলটির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে সেই কাক ডাকা ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত নাওয়া খাওয়া ছেড়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন তিনি। গণসংযোগের মাধ্যমে কর্মী সমর্থকরা ট্রাক প্রতিকে চাইছেন ভোট। এসবের পাশাপাশি চলছে সভা সমাবেশ। ওইসব সমাবেশে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার বিনির্মানে এ আসনের সকল সমস্যা সমাধান করে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করারও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ পেশাজীবী সংগঠনের সাথেও করছেন মতবিনিময় সভা। দিন যতই যাচ্ছে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোখছেদুল মোমিনের প্রচারণার মাত্রা ততই বাড়ছে।
অপরদিকে একইভাবে জাপার মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিকের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন সৈয়দপুর উপজেলা ও পৌর জাতীয় পার্টিসহ দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বৃহৎ অংশ। তারা সকাল থেকে শুরু করে গভীররাত পর্যন্ত সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলার হাটবাজার ও পাড়া মহল্লায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। আসনটির সার্বিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী সিদ্দিকের কাঁচি মার্কায় একটি করে ভোট প্রার্থনা করছেন। পাশাপাশি চালিয়ে যাচ্ছেন সভা সমাবেশ। প্রার্থী সিদ্দিকও যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। তাদের সাথে কুশল বিনিময় করে কাঁচি মার্কায় ভোট ও দোয়া চাইছেন। করছেন খুলি বৈঠকও। নির্বাচনে জনগনের আস্থা অর্জনে করণীয় নিয়ে কৌশল অবলম্বন এবং প্রচারণার মাত্রা বাড়াতে নিচ্ছেন নানা কৌশল।
এদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য আহসান আদেলুর রহমান আদেলের লাঙ্গল মার্কার সমর্থনে দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকরাও চালিয়ে যাচ্ছেন বিরামহীন প্রচারণা। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে আসনটি ছাড় দেওয়ায় মহাজোট হিসেবে আওয়ামী লীগের সমর্থন পাবে বলে তারা শতভাগ আশাবাদি। এজন্য দলটির নেতাকর্মীর সার্বিক সহযোগিতা চাইছেন তারা। নির্বাচনী প্রচারণায় তারা সংসদ সদস্য আদেলের ৫ বছরের দায়িত্বকালে সকল উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরছেন। এবং আগামিতে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে পুনরায় লাঙ্গল মার্কায় ভোট চাইছেন। সৈয়দপুরে প্রচারণার মাত্রা একটু কম থাকলেও কিশোরগঞ্জের প্রতিটি ইউনিয়নের পাড়া মহল্লায় দেখা গেছে লাঙ্গলের ব্যাপক প্রচারণা। এছাড়া এ আসনে সংসদ সদস্য হতে যে অন্য চার দলের প্রার্থীরা নির্বাচনের মাঠে ভোট যুদ্ধে অবতীর্ণ হলেও তাদের প্রচারণা তেমন নেই। মাঝে মাঝে মাইক প্রচার ও দু এক জায়গায় ফেস্টুন দেখা গেলেও আর কোন তৎপরতা দেখা মেলেনি তাদের।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে নীলফামারী- ৪ আসনে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোখছেদুল মোমিনের ট্রাক ও জাপার মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিকের কাঁচি প্রতিকের জমজমাট প্রচারণা।
সোমবার দুপুরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের সাথে কথা হলে তারা কাঁচি ও ট্রাক মার্কার কথা বলেছেন বেশি। তবে লাঙ্গল মার্কার প্রার্থী সংসদ সদস্য আহসান আদেলুর রহমান আদেলের কথাও শোনা গেছে দু এক জায়গায়। বর্তমানে সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জে ওই তিন প্রার্থীকে নিয়েই চলছে আলোচনা। ওইসব আলোচনায় ওই তিন প্রার্থীর মাঝে ত্রিমুখী লড়াই হবে বলে পক্ষে বিপক্ষে যুক্তি তুলে ধরছেন ভোটাররা।