সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি ::
জুলাই আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নাশকতার অভিযোগে থানায় দায়ের হওয়া মামলায় সৈয়দপুর উপজেলা কৃষক লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক দুলাল হোসেন (৩৫) ও আওয়ামী লীগ কর্মী মো. হানিফ (৩০) কে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারী) ভোরে সৈয়দপুর শহরের ইসলামবাগ চিনি মসজিদ এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
জানা যায়, জুলাই – আগস্ট গনঅভ্যুত্থানে গত ৪ আগস্ট শহরের শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কস্থ বিএনপি কার্যালয়ে হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ এবং শহরে নাশকতার ঘটনায় সৈয়দপুর পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক শেখ আশিকুর রহমান বাবলু বাদী হয়ে ওই বছরের ৩১ আগস্ট ৯০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতদের আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ২০। ওই মামলায় শহরের ইসলাম বাগ এলাকার মৃত মোজাফফর হোসেনের ছেলে আওয়ামী লীগ কর্মী হানিফ ৪৩ নং আসামী। এছাড়া মামলার তদন্তে পাওয়া সন্দিগ্ধ আসামী একই এলাকার মমতাজ হেসেনের পুত্র সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক দুলাল হোসেন।
সৈয়দপুর থানা পুলিশের উপ পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, মামলার পর থেকে তারা দীর্ঘদিন থেকে আত্মগোপনে ছিল। শুক্রবার গভীর রাতে পুলিশ গোপন সংবাদে জানতে পারেন উল্লিখিত আসামীরা তাদের নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে গোলাহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে উপ পরিদর্শক আবু বক্কর সিদ্দিকসহ সঙ্গীয় ফোর্স আসামীদের গ্রেফতারে তাদের বাড়ী ঘেরাও করে রাখে। পরে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালিয়ে ভোরে হানিফ ও দুলালের শয়নকক্ষ থেকে অপারেশন ডেভিল হান্টের আওতায় তাদের গ্রেফতার করা হয়।
শনিবার সকালে তাদেরকে নীলফামারী জেল হাজতে পাঠায় পুলিশ।
ওই মামলা হওয়ার পর থেকে প্রধান আসামিরা আত্মগোপনে থাকলেও উল্লিখিত দুই আসামী জনসম্মুখে চলাফেরা করছিল। এনিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হলে থানা পুলিশ আসামী গ্রেফতারে তৎপর হয়।
এব্যাপারে জানতে চাইলে সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ফইম উদ্দিন আসামীদের গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন তাদেরকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, মামলার অন্য আসামীদের গ্রেফতারে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে।