সৈয়দপুরে রমজানের শুরুতেই কলা,লেবু ও শসার দামে আগুন: বাজার মনিটরিংয়ের দাবি
প্রকাশিত :
রবিবার, ২ মার্চ, ২০২৫
১৫৭
বার পঠিত
মিজানুর রহমান মিলন,সৈয়দপুর:
রোজার শুরুতেই ইফতার পণ্যসহ অন্যান্য সবজির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি করে ক্রেতা সাধারণের পকেট কাটা শুরু করেছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। তারা রমজান মাসের আগের দিন শনিবার (১ মার্চ) থেকে এ অবস্থার সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী ক্রেতারা বলছেন বাজার মনিটরিং কমিটির সদস্যরা যদি শুরুতেই মূল্য বৃদ্ধির লাগাম টেনে না ধরেন, তাহলে অবস্থা কোথায় গিয়ে দাড়াবে তা বলা মুশকিল।
শহরের হাতিখানা এলাকার বাসিন্দা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন (৫০)। তিনি পহেলা রোজার ইফতার সামগ্রী কিনতে গিয়ে হতভম্ব হয়ে পড়েন। দুপুরে কথা হলে তিনি বলেন, ৩/৪ দিন আগেও মালভোগ কলার দাম প্রকার ভেদে ২০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪০ টাকা হালি বিক্রি হতে দেখেছেন। সে কলা আজ (২ মার্চ) বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা হালিতে। কোন কোন জায়গায় মালভোগ ৬০ টাকা হালিতেও বিক্রি হতে দেখা গেছে। একইভাবে ১৫/২০ টাকার শসা ৩৫/৪০ টাকা কেজি, ১৫/২০ টাকা হালির লেবু ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি জানান, হঠাৎ মূল্য বৃদ্ধিতে তাঁর মতো অনেকেই হতাশ হয়েছেন। বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের মাঝা পাড়ায় বসবাস বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী মতিউর রহমানের।
তিনি বলেন, আশা করেছিলাম প্রথম রোজায় পরিবারকে নিয়ে একটু ভালো ইফতারি করবো, কিন্তু বাজারে এসে ইফতার সামগ্রীর দাম শুনে সে আশায় গুড়েবালি হয়েছে।
অফিসার্স কলোনী এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী সুলতানা বেগম বলেন, এসেছিলাম মালভোগ কলা ও লেবু কিনতে। কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় ২৫ টাকা হালিতে চিনি চম্পা কলা নিয়েছেন। যা কয়েকদিন আগেও ওই কলা ১২ থেকে ১৫ টাকা হালিতে বিক্রি হয়েছে। তাদের মতো অসংখ্য ক্রেতা ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা অবিলম্বে বাজার নিয়ন্ত্রণে বাজার মনিটরিং কমিটি ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান পরিচালনা করার দাবি জানিয়েছেন।
গতকাল রবিবার (০২ মার্চ) দুপুরে সৈয়দপুর শহরের
প্রধান সবজি বাজার, ফল বাজার ও কারখানা গেট বাজারে ইফতারের প্রয়োজনীয় পণ্য লেবু- শসা-কলা চড়া মূল্যে বিক্রি হতে দেখা গেছে। শুধু লেবু নয় কাঁচা মরিচ ও বেগুনের বাজারেও আগুন। বেড়েছে কলার দামও। এগুলো পণ্য গত ৩/৪ দিন আগেও ১৫ থেকে ২৫ টাকা কমে বিক্রি হয়েছে।
বাজারে এক হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। অথচ আগে লেবুর সর্বোচ্চ মূল্য ছিল ২০ টাকা হালি। সে সময় ১৫ টাকাতেও এক হালি লেবু কেনা গেছে। এখন আকারে ছোট লেবু ৪০ টাকার নিচে মিলছে না। লেবু প্রসঙ্গে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন লেবুর হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি খুবই অস্বাভাবিক। রোজায় শরবত তৈরির জন্য লেবুর চাহিদা বেড়ে যায়। এটাকেই সুযোগ হিসেবে নিয়ে আড়তদারা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। পাইকারি কলা ব্যবসায়ী আনসার আলী বলেন,রোজায় ইফতারিতে কলার চাহিদা অনেক বেশী থাকে। কিন্তু সে তুলনায় আমদানি অনেক কম। ভেড়ামারা, চুয়াডাঙ্গা, ঈশ্বরদীসহ বিভিন্ন মোকামে মালভোগ কলা (কাঁচা) সৈয়দপুরে নিয়ে আসা পর্যন্ত প্রকার ভেদে প্রতি হালি কলা কেনা পড়ে ২৫ থেকে ৩৫ টাকা। তাই দাম একটু বেশি। তবে আমদানি বেড়ে গেলে দাম কমবে বলে জানান তিনি।
অপরদিকে ফলের মধ্যে আপেল, আনারস, আনার, পেপে, পেয়ারা, আঙ্গুর, মাল্টার দাম আগের চেয়ে বেড়েছে কেজি প্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্তু। তবে আপেল কুলসহ অন্যান্য জাতের বড়ইয়ের দাম কিছুটা কমেছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে একটি বেল ৫০/৬০ টাকার কমে মিলছে না। তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। কার্টুনে থাকা খেজুরের দামও প্রকার ভেদে কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে। তবে খোলা খেজুরের দাম তেমন একটা না বাড়লেও প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ দরে। এদিকে বেগুনের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। লম্বা বেগুন ৪০ টাকা এবং গোল বেগুন ৬০/৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্য সবজির দামও ১০ থেকে ১৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে কেজিতে।
ত্রেুতাদের অভিযোগ , রমজানে ইফতার পণ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অসাধু ব্যবসায়ীরা বাড়তি মুনাফার সুযোগ নিচ্ছেন। বিশেষ করে বাজার তদারকির কোন প্রশাসনিক তৎপরতা না থাকায় যথেচ্ছাভাবে পণ্যের দাম বাড়িয়ে যাচ্ছেন সব ধরণের ব্যবসায়ীরা। ভুক্তভোগী ক্রেতারা বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের জোরালো তদারকির দাবি জানান।
জানতে চাইলে বাজার মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুর- ই- আলম সিদ্দিকী বলেন, রোজায় বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে মনিটরিং কমিটির অভিযান শুরু হবে কাল (সোমবার) থেকে । কেউ যাতে অধিক মুনাফার লোভে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি না করতে পারে সেসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।