সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি ::
নীলফামারীর সৈয়দপুরে বিরোধীয় হিন্দু পরিবারের পৈত্রিক সম্পত্তি ভাড়া নিয়ে দখলের অপচেষ্টার অভিযোগ করা হয়েছে সৈয়দপুর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে।
গতকাল শনিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পৈত্রিক সম্পত্তির ওয়ারিশ বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপ্#ি৩৯;র সহ সভাপতি ও হিন্দু
কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুমিত কুমার আগারওয়ালা নিক্কি ওই অভিযোগ করেন।
শহরের শহীদ তুলশীরাম সড়কস্থ নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসময় উপস্থিত ছিলেন, তার মা উমা দেবী আগরওয়ালা, ছোট ভাই অমিত কুমার আগারওয়ালা রিক্কি, সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপ্#ি৩৯;র সভাপতি আলহাজ্ব
আব্দুল গফুর সরকার, সহ সভাপতি শফিকুল ইসলাম জনি, সহ সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার প্রামাণিক ও এম এ পারভেজ লিটন, সৈয়দপুর পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি শাহীন হোসেন ও সাধারন সম্পাদক সভাপতি শেখ বাবলুসহ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব পারভেজ আলম গুড্ডুসহ বিএনপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সুমিত কুমার আগারওয়ালা নিক্কি বলেন, শহরের শহীদ তুলশীরাম সড়কে আমার বাপ দাদার পৈত্রিক সম্পত্তি রয়েছে। এই ভূ- সম্পত্তির অন্য ওয়ারিশ প্রদীপ কুমার আগরওয়ালা ও স্বজন কুমার আগরওয়ালা। তারা বর্তমানে ভারতে বসবাস করছেন।
ফলে জমির ভাগ বাটোয়ারা না হওয়ায় ২০১৮ সালে আদালতে বাটোয়ারা মামলা করা হয়। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।
এ অবস্থায় সৈয়দপুর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শহরের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন প্রদীপ কুমার আগরওয়ালার বাড়ী ভাড়ার নামে দখলে নেয়। গত ৮ মার্চ তিনি শতাধিক লোকবল নিয়ে বাড়ীটি নিজ হেফাজতে নেন।
ভাড়াটিয়া আলতাফ হোসেন বাড়ীর মালিক প্রদীপ কুমার আগরওয়ালার ক্ষমতাপ্রাপ্ত পাওয়ার অব এ্যাটর্নি এ্যাড. হিল্লোল রায়ের কাছ থেকে বাড়ীটি ভাড়ায় নিয়েছেন বলে দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সুমিত কুমার আগরওয়ালা বলেন, প্রদীপ কুমার আগরওয়ালা একজন ভারতীয় নাগরিক। তিনি কিভাবে ভাড়া দেন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন এটি ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেনের সাজানো নাটক। এই দখলবাজির ঘটনার বিষয়ে গত ৯ মার্চ হিন্দু কল্যাণ সমিতিকে অবহিত করলে তাদেরই পরামর্শে দখলের প্রতিবাদে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। অথচ ব্যবসায়ী আলতাফ
হোসেন তার সমিতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে।
তিনি বলেন,আমাদের বাড়ীটি ঐতিহাসিক। প্রায় দেড়শ বছর আগের ওই বাড়ীতে আমার দাদা, বাবা এবং আমাদের জন্ম। ওই বাড়ীতেই আমাদের বসবাস। তাছাড়া আগরওয়ালা পরিবারের একমাত্র আমরাই দেশে অবস্থান করে বিএনপ্#ি৩৯;র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত রয়েছি। বাবা বেঁচে থাকা অবস্থায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আমাদের এই বাড়িতে এসেছেন। অথচ ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন নিজেকে ভাড়াটিয়া সাজিয়ে পৈত্রিক এই বাড়িসহ গুদামঘর দখলে নিতে নানা ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছেন। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় এই নেতা বলেন আমি বিএনপির রাজনীতি করলেও এক্ষেত্রে কোন প্রভাব না খাটাইনি। অথচ আলতাফ হোসেন আমার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালানো সহ আদালতে মামলা পর্যন্ত করেছেন। একটি মহলের ইন্ধনে তিনি এসব করছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে
অভিযোগ করেন তিনি। নিক্কি আরও বলেন, আলতাফ দাবী করেছেন বাড়িটি তিনি চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে ভাড়া নিয়েছেন আমার কাকা প্রদীপ কুমার আগারওয়ালার কথিত পাওয়ায় অব এ্যাটর্নি প্রাপ্ত হিল্লোল রায়ের কাছে। অথচ প্রদীপ কুমার তার প্রাপ্যতার চেয়ে অনেক বেশি সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়ে সপরিবারে ভারতে চলে গেছেন এবং ভারতীয় নাগরিকত্ব গ্রহণ করে দীর্ঘদিন ধরে সেখানেই বসবাস করছেন। তিনি কিভাবে বাংলাদেশে কাউকে পাওয়ায় অব এটর্নি দিয়েছেন। প্রশ্ন রাখেন তিনি।
নিক্কির ভাই অমিত কুমার আগারওয়ালা রিক্কি বলেন, আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি হওয়ায় এবং প্রদীপ কুমার তার অংশের চেয়ে বেশি সম্পত্তি বিক্রি করায় আদালতে বাটোয়ারা মামলা করা হয়েছে। যা বিচারাধীন রয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমাদের দাবী বা কাগজপত্র ঠিক থাকলে হয় আমরা পাবো নয়তো প্রদীপ কুমার পাবেন। তাই আমরা আদালতের রায়ের অপেক্ষায় আছি। তিনি ন্যায়ের পক্ষে থাকার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল গফুর সরকার বলেন, কোন বিভেদ নয়, আমরা নিক্কি ও আলতাফের মধ্যে শান্তিপূর্ণ মিমাংসা চাই। এজন্য আমার কাছে প্রস্তাব এসেছে উভয়পক্ষের কাগজ দেখে সে অনুযায়ী একটা সমাধান করার।
জানতে চাইলে ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন বলেন, বাড়ী দখলের অভিযোগ সত্য নয়। তিনি বলেন, আমি ওই বাড়ীর ভাড়াটিয়া মাত্র। কিন্তু সুমিত কুমার আগরওয়ালা নিক্কি আমার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। আমার ব্যবসায়ীক ও সামাজিক সুনাম ক্ষুন্ন করতে উঠেপড়ে লেগেছে। এজন্য আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি এবং বিষয়টি জানাতে গত ১৩ মার্চ সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।