1. sheikhnadir81@gmail.com : admin :
  2. tapon.tala@gmail.com : Tapon Chakraborty :
শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য জানালেন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের জব্দ করা ইরানি জাহাজে আছে ডায়ালাইসিস আর চিকিৎসার সরঞ্জাম গাজায় ইসরায়েলের হামলায় তিন ফিলিস্তিনি নিহত তরমুজ বিক্রি করে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় পাইকগাছার ২ জন নিহত পাইকগাছায় এতিমখানার শিশুদের মাঝে পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার বিতরণ সৈয়দপুরে প্রসূতি মায়ের মাঝে পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রী বিতরণ সৈয়দপুরে বাউস্ট পরিদর্শন করলেন রংপুর সেনানিবাসের জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার তালায় অ্যাম্বুলেন্স ইস্যু: আরএমও ডা. খালিদকে ঘিরে অপ-প্রচার স্বাস্থ্য খাতে অনিয়মের অভিযোগে মুন্সীগঞ্জে ৩ কর্মকর্তা বরখাস্ত ডুমুরিয়ায় ধানের দামের চেয়ে শ্রমিকের মজুরির মূল্যে বেশি

দীর্ঘ দিনে সৈয়দপুর পৌর এলাকায় উন্নয়নের পরশ

  • প্রকাশিত : রবিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৫
  • ১৩১ বার পঠিত
saidpur-11740

মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর :

আগে টিআর প্রকল্পের মাধ্যমে নাম মাত্র কাজ হলেও এবার তা হয়নি। দীর্ঘ কয়েক বছর পর সৈয়দপুর পৌর এলাকায় দেখা মিলেছে উন্নয়নমূলক কাজ। সিসি ড্রেন, ইটের ড্রেন, সিসি রাস্তা, সলিং রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। সংস্কার করা হয়েছে মাছ ও মাংসের বাজারের অবকাঠামো। স্থাপন করা হয়েছে পৌর কমিউনিটি সেন্টারের সিসি ক্যামেরা ও পুকুরের সৌন্দর্য বর্ধনে চারপাশে নির্মাণ করা হয়েছে গাডওয়াল।

পৌর প্রশাসক ও সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুর-ই- আলম সিদ্দিকীর কঠোর নির্দেশনায় দৃশ্যমান উন্নয়ন কাজ হয়েছে সৈয়দপুর পৌর এলাকায়। তাঁর নির্দেশেই প্রকল্প চেয়ারম্যানরা এসব কাজ বাস্তবায়ন করেছেন। এসব বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেছেন সাবেক পৌর কাউন্সিলর, পৌরসভার কর্মকর্তাবৃন্দ স্থানীয় সুধিজন।

গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষন উন্নয়ন প্রকল্পের (টিআর) আওতায় সৈয়দপুর পৌর এলাকার ১৫ টি ওয়ার্ডে ২৯ টি প্রকল্পের মাধ্যমে এসব উন্নয়ন কাজ চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে শেষ হয়েছে।

এতে ব্যয় হয়েছে ৫৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। এসব কাজ বাস্তবায়ন হওয়ায় পৌরবাসীর জনদুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে বলে উন্নয়নের চিত্র দেখে এমন মন্তব্য করেছেন সুধিসমাজ ও এলাকাবাসী।

পৌর এলাকার ১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হামিদুল ইসলাম জানান, এবারে যেভাবে এলাকার রাস্তাঘাট, ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে তা বিগত পৌর পরিষদ সিঁকি পরিমাণও করেনি। এবার কাজের মান নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

১০ নং ওয়ার্ডের কাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা আরমান হোসেন বলেন, শহরের বিভিন্ন এলাকায় বর্ষার সময় বৃষ্টির পানিতে রাস্তা ডুবে একাকার হতো। এখন বিভিন্ন এলাকায় ড্রেন নির্মাণ হওয়ায় সে সমস্যা আর থাকবে না। তিনি বলেন, বর্তমান পৌর প্রশাসকের নেতৃত্বে পৌর এলাকার উন্নয়ন কাজ হওয়ায় আমরা আনন্দিত। পৌর সভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের নানা শ্রেনী পেশার মানুষজনের সাথে কথা বললে তারা প্রায় একই মন্তব্য করেন।
শহরের ইসলামবাগ চিনি মসজিদ এলাকার বাসিন্দা সমাজসেবক আলতাফ হোসেন জানান, এবার যে কাজ হয়েছে তা গত ১৫/২০ বছরেও হয়নি। আমরা নিজেরা উপস্থিত থেকে সিসি রাস্তা ও ড্রেনের সংস্কার কাজ করিয়েছি। এজন্য আমরা পৌর কর্তৃপক্ষকে জানাই সাধুবাদ।

সমাজকর্মী তোফায়েল মোহাম্মদ আজম বলেন, বর্তমানে পৌরসভার যেসব উন্নয়ন কাজ চলছে,তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আগামিতে এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।

সুত্র জানায়, সৈয়দপুর পৌরসভার তৎকালীন মেয়র সাবেক এমপি আমজাদ হোসেন সরকার পৌর মেয়রের দায়িত্ব পালন অবস্থায় শহরের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট সহ অলিগলিতে ড্রেন, রাস্তাঘাট নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ হয়। তারপরে ২০২১ সালে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ভোট কারচুপির নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের প্রার্থী রাফিকা আকতার জাহান বেবি। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর পৌর এলাকার উন্নয়নে মনোযোগী না হয়ে লিপ্ত থাকেন লুটপাটে। দলীয় কয়েকজন কাউন্সিলরকে নিয়ে একের পর এক জড়িয়ে পড়েন নানা অনিয়ম ও দূর্নীতিতে। ফলে এসব অনিয়মের প্রতিবাদে তারই পরিষদের একাধিক কাউন্সিলর আন্দোলন শুরু করেন। পৌরসভায় শুরু হয় বিশৃঙ্খল পরিবেশ। এ অবস্থায় ছাত্র জনতার গনঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের পতন হলে গেল বছরের সেপ্টেম্বর মাসে পৌর পরিষদ বিলুপ্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

পরে পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব পান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুর – ই আলম সিদ্দিকী। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পরেই পৌরসভায় ফিরে আসে শৃঙ্খলা। গতি আসে দাপ্তরিক কাজে। নেওয়া হয় একের পর উন্নয়ন কার্যক্রম। বাস্তবায়ন করা হয় কোভিড-১৯ প্রকল্পের থমকে যাওয়া কাজ। এছাড়া বিশ্বব্যাংক, এডিপি, স্থানীয় সরকার থেকে পাওয়া অর্থ, ও পৌরসভার নিজস্ব অর্থায়নেও বিভিন্ন রাস্তাঘাটের নির্মাণ কাজ শুরুর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। এসবের মধ্যে কিছু উন্নয়নমূলক কাজ শেষ হয়েছে। তবে মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে বলে পৌরসভার সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়।

সুত্রটি জানায়, এরই মধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ত্রাণ ও পূনর্বাসন মন্ত্রণালয় থেকে ৫৩ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৭ টাকা বরাদ্দ মেলে সৈয়দপুর পৌরসভায়। পরে বরাদ্দ মেলা ওইসব টাকার বিপরীতে পৌর এলাকায় ২৯ টি প্রকল্পের মাধ্যমে গত মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে শুরু হয় পৌর এলাকার ১৫ টি ওয়ার্ডে দৃশ্যমান বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ। যা শেষ হয়েছে চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে।

পৌর প্রশাসক ও সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুর -ই আলম সিদ্দিকীর কঠোর নির্দেশনায় এসব উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। বাস্তবায়ন হওয়া কাজ গুলো হলো- পৌর কমিউনিটি সেন্টারে ২৪ টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন, নিয়ামতপুর বাঙালিপুরে যক্ষা ক্লিনিকেের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ, বিভিন্ন ওয়ার্ডে পয়ঃনিস্কাশনে সিসি ড্রেন ও ইটের ড্রেন নির্মাণ, সলিং রাস্তা নির্মাণ, মাছ ও মাংসের বাজারে অবকাঠামো সংস্কার, ডাস্টবিন নির্মাণ, পানির লাইন সংস্কার,পুকুরের সৌন্দর্য বর্ধনে গাডওয়াল নির্মাণ ছাড়াও নানা ধরণের কাজ।

পৌরসভার বিভিন্ন টিআর প্রকল্পের কাজ প্রসঙ্গে এলাকার মানুষজনের সাথে কথা বলে জানা যায়,
দীর্ঘ কয়েক বছর পর পৌর এলাকায় উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন হওয়ায় তারা খুবই আনন্দিত। তারা বলেন আসছে বর্ষায় কিছুটা হলেও জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পাবেন তারা। কমবে নানা দুর্ভোগ।

মাংস ও মাছ বাজারের বিক্রেতারা জানান, বাজারে টিনের ছাউনি নষ্ট হওয়ায় বর্ষা মওসুমে তাদের ভোগান্তি ছিল চরমে। এখন বাজারের দোকানে নতুন টিন স্থাপন হওয়ায় কমবে দুর্ভোগ। তারা পৌরসভার এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।
পৌর পান বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, এ বাজারে ড্রেন নির্মাণ হওয়ায় জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবেন তারা। পৌর প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ হওয়ায় আমরা আনন্দিত তাঁরা।

বিএনপি নেতা ও সাপ্তাহিক জনসমস্যা পত্রিকার সম্পাদক অধ্যাপক শওকত হায়াত শাহ বলেন, টিআর প্রকল্পের মাধ্যমে এবার যে সব দৃশ্যমান কাজ হয়েছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, এরআগে টিআর এর বরাদ্দ এলেও সে সময়ের পৌর মেয়র রাফিকা আকতার জাহান বেবি ছিলেন লুটপাটে ব্যস্ত। নামকা ওয়াস্তে দু এক জায়গায় কাজ করে বাকী টাকা পকেটস্থ করেছেন। এমনকি বিভিন্ন সংস্থা থেকে উন্নয়নের জন্য আসা টাকা করেছেন হরিলুট। তবে বর্তমান পৌর প্রশাসক মো. নুর- আলম সিদ্দিকী মেধা আর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রশাসক হিসেবে পৌর এলাকার উন্নয়নে রয়েছেন সচেষ্ট। এজন্য তিনি ধন্যবাদ জানান পৌর প্রশাসককে।

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক নুর-ই আলম সিদ্দিকী বলেন,পৌর এলাকার ১৫ টি ওয়ার্ডে পরিদর্শন করে অবহেলিত এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন কাজের মান নিয়ে যাতে কোন প্রশ্ন না ওঠে,সেজন্য পৌরসভার কর্মকর্তা ও প্রকল্প চেয়ারম্যানদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া ছিল। ফলে সার্বিক তদারকিতে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (টিআর) কাবিটা ২৯ প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ায় শহরের দৃশ্যপট বদলে যাবে। একইসাথে

মানুষের জীবন যাত্রার মানোন্নয়ন হবে। তিনি জানান, খুব শিগগির পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু হবে। এছাড়া ওয়ার্ডগুলোর উন্নয়নে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এজন্য তিন পৌরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

একই বিভাগের সকল খবর