সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি ::
কর্মী সমর্থকদের নিয়ে পিকনিকের আয়োজন করেছিলেন তিনি। সাজানো প্যান্ডেলে খাওয়া দাওয়াও করছিলেন তাঁরা। এমন সময় হাজির সৈয়দপুর থানা পুলিশের একটি দল। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও পৌর যুবলীগের সাবেক আহবায়ক সাবেক পৌর কাউন্সিলর কাজী মনোয়ার হোসেন হায়দার (৫৬) দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে ধাওয়া করে পুলিশ সদস্যরা তাঁকে আটক করেন।
গতকাল শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) জুম্মার নামাজের পর শহরের কাজীপাড়া হঠাৎ বস্তির পিছনে পুকুর পাড় নামক স্থান থেকে তাঁকে আটক করা হয়।
পরে গেল বছরের ৪ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনে ছাত্র জনতার আন্দোলন চলাকালে বিএনপি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও নিরীহ জনতার ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সন্ধিগ্ধ আসামী হিসেবে গ্রেফতার দেখিয়ে গতকালই তাঁকে নীলফামারী জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
সুত্র জানায়, আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর কাজী মনোয়ার হোসেন হায়দার পিকনিকের নামে তাঁর কর্মী সমর্থকদের সাথে মিলিত হন। এমন সংবাদ আসে পুলিশের কাছে। খবর পেয়ে সৈয়দপুর থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মো. ফইম উদ্দিন উদ্দিনের নেতৃত্বে থানা পুলিশ ও সদর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ওই এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পিকনিকে আসা লোকজন দৌড়ে এদিক সেদিক পালিয়ে ।
সেখানে উপস্থিত আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর কাজী মনোয়ার হোসেন হায়দারও পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে একটি ধান খেত থেকে আটক করে।
পুলিশের অভিযানে সৈয়দপুর সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক নয়ন কুমার, থানার উপ পরিদর্শক আমিনুর রহমান, সোহরাব হোসেন, মেহেদি হাসান মারুফ, আব্দুল হামিদ, সুভাষ রায়সহ সঙ্গীয় ফোর্সরা অংশ নেন।
তবে মনোয়ার হোসেন হায়দারের পরিবারের দাবি ওই এলাকায় পুকুর লীজ নেওয়া উপলক্ষে পরিবার ও আত্মীয়স্বজনকে নিয়ে খাওয়া দাওয়ার আয়োজন করা হয়েছিল। তাদের অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিলো না।
জানতে চাইলে সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ফইম উদ্দিন বলেন, পিকনিকের নামে আওয়ামী লীগ নেতা কাজী মনোয়ার হোসেন হায়দার কর্মী সমর্থকদের সাথে মিলিত হয়েছেন এমন সংবাদে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। পরে গেল বছরের ৬ সেপ্টেম্বর থানায় সন্ত্রাস ও নাশকতার মামলায় সন্ধিগ্ধ৷ আসামী হিসেবে গ্রেফতার দেখিয়ে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও নাশকতা আইনে দায়ের করা মামলার আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা।