সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি ::
বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়াকে কেন্দ্র করে স্ত্রীর সাথে ঝগড়া হওয়ায় রাগে ও ক্ষোভে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্নহত্যা করেছে মাহমুদ (৪৮) নামে দুই সন্তানের জনক। শহরের সাহেবপাড়া আমিন মোড়ের লিচু বাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
শনিবার (২৬ এপ্রিল) গভীর রাত থেকে রবিবার (২৭ এপ্রিল) ভোরের মধ্যে আত্মহত্যার এ ঘটনা ঘটে বলে ধারণা মৃতের পরিবরের । খবর পেয়ে রবিবার সকালে ঘটনাস্থলে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মাহমুদের মরদেহ নীলফামারী মর্গে পাঠানো হয়।
এলাকাবাসী জানায়, শহরের পুরাতন বাবুপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল্লাহর ছেলে মাহমুদ পেশায় একজন ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি। সে স্ত্রী নাসরিন (৩৬), দুই সন্তান নাফিজা মিম (১৪) ও মাহিত (১৩) কে নিয়ে উল্লিখিত এলাকায় টিনসেট বাড়িতে বসবাস করতেন।
শুক্রবার তাঁর স্ত্রীর ভাগিনার বিয়েতে যাওয়া নিয়ে ঝগড়া হয় মাহমুদের সাথে। পরদিন শনিবার (২৬ এপ্রিল) স্ত্রী নাসরিন ও তাঁর দুই সন্তান বিয়ের অনুষ্ঠানে যায় এবং সন্ধ্যায় বাড়ীতে আসে।
এনিয়ে আবারও তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে রাতে না খেয়ে সে পাশের রুমে ঘুমাতে যায়। সকালে স্ত্রী নাসরিন ওই রুমের দরজা খোলা দেখতে পেয়ে ভিতরে গিয়ে ঘরের তীরে নাইলনের রশিতে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় তাঁর স্বামীকে ঝুলতে দেখেন। পরে তাঁর (স্ত্রী নাসরিন) চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসেন। সাথে সাথে খবর দেওয়া হয় পুলিশে। খবর পেয়ে সৈয়দপুর থানার উপ পরিদর্শক আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার এবং সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে মাহমুদের মরদেহ থানায় নিয়ে আসেন। সেখানে আইনী প্রক্রিয়া শেষে এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কিছু তা নিশ্চিত হতে মৃতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী মর্গে পাঠানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, মাহমুদের সাথে তার স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ীর লোকজনের সাথে পারিবারিক কলহ লেগে থাকতো। এনিয়ে একাধিকবার বিচার সালিশও হয়েছে। কয়েকদিন আগেও তাদের মধ্যে ঝগড়া হলে মাহমুদকে লাঞ্চিত করা হয়। এসব কারণে হয়তো সে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।
এব্যাপারে মাহমুদের বড় শ্যালক সাদ্দামের সাথে কথা হলে তিনি মাহমুদকে নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, মাহমুদ ও তার স্ত্রীর সাথে বিভিন্ন বিষয়ে মনোমালিন্য ছিলো। আমরা তাদের সংসার টিকিয়ে রাখতে একাধিকবার মিমাংসা করেছি। তাঁকে নির্ঢ়াতনের প্রশ্নই ওঠেনা।
সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ফইম উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় মাহমুদের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নীলফামারী মর্গে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় তাঁর স্ত্রীর লিখিত সংবাদের ভিত্তিতে সৈয়দপুর থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।