- পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ।।
পাইকগাছায় মৎস্য লীজ ঘেরে জবর দখল, চাঁদা দাবি, ভাংচুর ও মাছ লুটপাটের অভিযোগ এনে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন ঘের মালিক রেজাউল করিম। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে পাইকগাছা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে রেজাউল করিম বলেন, তিনি উপজেলার পারিশামারী মৌজায় বিভিন্ন জমির মালিকদের কাছ থেকে ডিড ও হারী পরিশোধের মাধ্যমে প্রায় ১০ বছরের অধিক সময় ধরে প্রায় ১৭০ বিঘা জমিতে মৎস্য ও ধান চাষ করে আসছেন। তবে একই এলাকার বাসিন্দা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা বিল্লাল হোসেন মোল্লা ও আবুল কালাম আজাদ তাদের জমি থাকার দাবি তুলে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ সৃষ্টি করে আসছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয়ভাবে একটি শালিসি বৈঠকে তাদের ডিড অনুযায়ী ৩০ বিঘা জমি পাওনা নির্ধারণ হলেও তারা বহিরাগত লোকজন নিয়ে জোরপূর্বক প্রায় ৪১ বিঘা জমি দখল করে নেয়। চলতি বছরের শুরু থেকেই তারা তার মৎস্য ঘের দখলের জন্য নানা ধরনের হুমকি ও চাপ সৃষ্টি করে আসছে।রেজাউল করিম আরও অভিযোগ করেন, সোলাদানা ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর গ্রাম্য ডাক্তার শফিকুল ইসলাম তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালে তাদের নেতৃত্বে একদল লোক তার মৎস্য ঘেরে প্রবেশ করে ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর করে প্রায় ৭৫ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে।
একই সময় ঘরের ক্যাশ ভেঙে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে যায় এবং ঘের থেকে প্রায় ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকার মাছ ধরে নিয়ে যায় বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার পর তিনি পাইকগাছা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানায় বলে জানান তিনি। তবে অভিযুক্তরা আইনের তোয়াক্কা না করে পুনরায় ঘের দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, গত ৯ মার্চ ভোরে শফিকুল ইসলাম নেতৃত্বে শতাধিক বহিরাগত লোকজন তার ঘেরে প্রবেশ করে লক্ষাধিক টাকার বাগদা পোনা ও বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নষ্ট করে এবং জোরপূর্বক প্রায় ৫০ বিঘা জমি ঘিরে বাঁধ নির্মাণ করে দখল করে নেয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার মৎস্য ঘের রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।