- নিজস্ব প্রতিবেদক ::
খুলনার পাইকগাছায় আলোচিত শ্রীলেখা (৫৫) হত্যা মামলায় আটক সন্দিগ্ধ দু’ আসামী সম্ভু সানা (৬৫) ও সঞ্জয় মন্ডল (৪৫)কে ৩ দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশ তাদের আদালতের মাধ্যমে ফের জেল-হাজতে পাঠিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, থানা হেফাজতে আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার ঘটনায় উল্লেখযোগ্য কোন তথ্য বা ক্লু উদঘাটন না হলেও তাদের পুণ:জিজ্ঞাসাবাদের কোন আবেদন করেনি পুলিশ।
এর আগে থানা পুলিশ গত ১০ এপ্রিল সম্ভু সানা ও সঞ্জয় সানা’কে ওই সামলায় সন্দিগ্ধ আসামী হিসেবে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদনসহ আদালতে সোর্পদ করে।
এদিকে আটক সম্ভু’ সানার মেয়ে ও সঞ্জয় মন্ডলের স্ত্রী দাবি করেন, নির্মম এ হত্যাকান্ড’কে ইস্যু করে পূর্বশত্রুতার জেরে এলাকার কতিপয় ব্যক্তিরা তাদেরকে হত্যার ঘটনায় দোয় চাপাতে চাইছে। এর আগেও পুলিশ নিহত শ্রীলেখার দেবর প্রসেন সানা-বিজলী দম্পতি ও তাদের ছেলে হিরক পুত্রবধূ রাখি দম্পতি’কে একাধিকবার থানা হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
অনেকেই ঘটনায় ওই পরিবারের দেখভালকারীদের প্রতি সন্দিগ্ধ হলেও মামলার বাদি গোবিন্দ সানা তা মানতে চাইছেননা।
অন্যদিকে স্থানীয়দের দাবি, বন্দোবস্তকৃত খাস জমির উপর দিয়ে পানি সরবরাহের ক্যানেল ও গাছ কাঁটা নিয়ে শ্রীলেখার পরিবারের সাথে ঘের মালিক সম্ভু সানার বিরোধ ছিল। বিষয়টি নির্বাহী আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এ সংক্রান্তে সন্দেহে সম্ভুকে গ্রেফতার করা হতে পারে।
সুত্রটি আরোও জানান, শ্রীলেখা’র স্বামী ফনি (আমিন) সানার মৃত্যু, একমাত্র ছেলে গৌবিন্দ’র চাকুরী সূত্রে ঢাকায় অবস্থান করায় দেবর প্রসেন সানা এ পরিবারটির বিভিন্ন সময় দেখভাল করতেন। যদিও ঘটনার ক্লু উদ্ধারে পুলিশ বিভিন্ন বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রেখেছেন।
ঘটনার পর ইতোমধ্যে হত্যার ক্লু উদ্ধারে থানা পুলিশ থেকে শুরু করে পিবিআই, সিআইডি’র উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
তথ্যানুসন্ধানে জানাযায়, চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি রাতে পশ্চিম দীঘায় মৃত ফনিন্দ্র সানার স্ত্রী শ্রীলেখা’কে অজ্ঞাত দূর্বত্তরা রান্না ঘরে কুপিয়ে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়। ঘটনার রাতে নিহত ঐ নারী বাড়িতে একাই ছিলেন। পরের দিন সকালে প্রসেনের স্ত্রী’র খবরে বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
ঘটনার দু’দিন পর ২৩ জানুয়ারী নিহতের ছেলে গোবিন্দ সানা বাদী হয়ে থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নিহতের স্বজনরা দাবি করেছেন, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এ পর্যন্ত হত্যাকান্ডে উল্লেখযোগ্য ক্লুকিংবা মোটিভ উদ্ধার হয়নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আঃ আজিজ জানান, এরই মধ্যে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, যার সাথে মামলা ও ঘটনার সংশ্লিষ্টতার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ গোলাম কিবরিয়া বলেন, ঘটনায় কোন নিরাপরাধ ব্যাক্তিকে হয়রাণি এড়াতে গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। এছাড়া অচিরেই পুলিশ ঘটনার মোটিভ উদ্ঘাটন করবে বলেও আশাবাদি তিনি।