- শেখ দীন মাহমুদ ::
মাত্র কয়েক বছরে ভরাট হয়ে গেছে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার লতা উইনয়নের উলুবুনিয়া নদীটি। দীর্ঘ দিন ধরে অবাধ নদী শাষন ও দখল এ অবস্থার জন্য দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে। আর এই সুযোগে নদী তীরে বসবাসরত প্রভাবশালীরা ভরাটি জমির দখল উৎসবে মেতে উঠেছেন। কেউবা গড়ে তুলছেন বসতি, কেউবা কৃষি জমি-গাছ রোপন, কেউবা ধর্মীয় স্থাপনা আবার অনেকে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছেন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে সবাই যেন দখল মহোৎসবে মেতেছেন। প্রকাশ্য দিবালোকে এ দখল উৎসব চললেও এক অজ্ঞাত কারণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কোন প্রকার পদক্ষেপ নিচ্ছেননা। সচেতন মহলে প্রশাসনের এ নিরবতাকে মারাত্নকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
সরেজমিনে প্রতিবেদনকালে দেখা যায়, সরকারি গেজেট অনুযায়ী ৫৫.৮৯ একরের উলুবুনিয়া নদীর আশ্রায়ন প্রকল্প এলাকার কার্লভার্টের মুখ প্রশান্ত মন্ডল ও কুমারেশ মন্ডলের (ইউপি সদস্য) দখলি বাড়ির সীমাণা অতিক্রম করেছে নদীর অপর পাড় পর্যন্ত।
তথ্য সংগ্রহকালে উপস্থিত কুমারেশ মন্ডলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা এখনও নদীর অভ্যন্তরে জমি পাবেন। ইতোমধ্যে তারা নাকি সরকারের কাছ থেকে সাড়ে ৪ বিঘা জমির বন্দোবস্ত নিয়েছেন। তবে এসময় তিনি কোন প্রকার কাগজ-পত্র না দেখিয়ে উল্টো প্রতিবেদন করতে তথ্য দাতাদের তথ্য জানতে চান।
স্থানীয়রা জানান, আওয়ামী লীগের শাষনামলের ১৭ বছরে তারা সব থেকে বেশি পরিমাণ জমির দখল নিয়েছেন। এরপর সর্বশেষ তিনি ইউপি নির্বাচনে সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে এর বৈধতা পেতে নানা প্রক্রিয়া শুরু করেন।
জানাগেছে, নদীর পানির প্রবাহ ত্বরান্বিত রাখতে ও দখল ঠেকাতে সর্বশেষ সরকার গত ২০২১ সালে উলুবুনিয়া নদীতে ৩০ লক্ষ টাকা ব্যায়ে খনন কার্যক্রম শুরু করলেও দূর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে ম্যানেজ করে দখলদাররা নদীর পূর্ব প্রান্তে সরিয়ে ৮০ ফুট প্রশস্ততায় ও মাত্র ৩/৪ ফুট গভীরতায় খনন করে প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখায়। আর সেই সুযোগে দখলদাররা খনন কিনারা পর্যন্ত পৌছে বর্তমানে আরোও দখল প্রসারতা বাড়িয়েছে।
এব্যাপারে জানতে স্থানীয় ইউএলএও’র নিকট মোবাইলে কল দিলেও তাকে ফোনে না পাওয়ায় তার প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি। (আরোও বিস্তারিত আসছে)