1. sheikhnadir81@gmail.com : admin :
  2. tapon.tala@gmail.com : Tapon Chakraborty :
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:

তালায় শিক্ষার্থীকে মারপিটকারী সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে প্রমানিত হলেও ব্যবস্থা নেয়নি কতৃপক্ষ

  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭৬ বার পঠিত
Raypur-student-dipto-16226
  • নিজস্ব প্রতিবেদক ::

তালায় শিক্ষকের প্রহারে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে মারপিট করে রক্তাক্ত যখমের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ অভিভাবকসহ এলাকাবাসীর সংশ্লিষ্ট শিক্ষক আবুল হাশেমকে অবরুদ্ধ ও পরে পুলিশ কর্তৃক উদ্ধারের ঘটনার প্রায় ২ সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কার্যত কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি কতৃপক্ষ।

ঘটনায় ইতোমধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষক জি,এম আবুল হাশেমের বিরুদ্ধে তালা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় বিক্ষোভের মুখে সংশ্লিষ্ট ৬৫ নং রায়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে নেওয়া হলেও তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি কতৃপক্ষ।

তালা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলছেন, তারা ঘটনায় তদন্তপূর্বক উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, গত ২ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) স্কুল খোলার পর কোন প্রকার পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক জি,এম আবুল হাশেম দ্বিতীয় শ্রেণির ক্লাস টিউটোরিয়াল (গণিত) পরীক্ষার আয়োজন করেন। এতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ও সজল বাঁছাড়ের মেয়ে শিবাঙ্গী বাঁছাড় (৭) একাধিক অংক ভূল করায় ক্রুদ্ধ শিক্ষক তাকে চড়, কিল, ঘুষি ও লাঠিপেটা করে। এতে তাৎক্ষণিক সঙ্গা হারিয়ে ফেলে কোমলমতি ঐ শিক্ষার্থী।

খবর পেয়ে তার অভিভাবকসহ ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী স্কুলে পৌছে শিক্ষককে প্রত্যাহার ও শাস্তির দাবিতে ঝাড়– মিছিল করে। একপর্যায়ে তারা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক আবুল হাশেমকে শ্রেণিকক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে।

খবর পেয়ে তালা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মৃনাল কান্তি মন্ডল, পাইকগাছা থানা ছাত্রদলের সভাপতি সরোজিৎ ঘোষ দেবেনসহ স্থানীয় খলিলনগর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সোহরাব সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
একপর্যায়ে এলাকাবাসীর কাছে মুচলেকা দিয়ে তারা ঐ শিক্ষককে উদ্ধার করে নিজ বাড়ি পাইকগাছার কপিলমুনি ইউনিয়নের কাশিমনগরে পৌছে দিয়েছে।

এরপর রবিবার ৫ এপ্রিল তালা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের পক্ষে ঘটনাস্থল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে সেখানে শিক্ষাথী শিবাঙ্গী তার বাবা সজল ও মা দীপা বাঁছাড়সহ শত শত অভিভাবক ও সচেতন এলাকাবাসী, শিক্ষক, রাজনীতিক সাংবাদিকরা উপস্থিত হয়ে ঘটনার বিবরন দিলে এর সত্যতা পায় কতৃপক্ষ। এদিন অভিযুক্ত শিক্ষক আবুল হাশেম স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তিদের প্রহরায় স্কুলের অনতি দূরে অবস্থান করলেও বিদ্যালয়ে ঢুকতে পারেননি।

ঘটনার শিকার শিবাঙ্গীর পরিবারের পক্ষে তালা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী অফিসারনহ বিভিন্ন দপ্তরে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক আবুল হাশেমের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

এরপর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক জি,এম আবুল হাশেম শিক্ষা অফিসের তত্বাবধায়নে রাখা হলেও তাকে কোথাও বদলী কিংবা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি।

সর্বশেষ তার বিরুদ্ধে কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহন না করায় নতুন করে ফুঁসে উঠেছে অভিভাবকসহ এলাকাবাসী। তার তার বিরুদ্ধে উপজেলা সদরে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

এব্যাপারে অভিযুক্ত জি,এম আবুল হাশেমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আবেগের বশে তিনি শিবাঙ্গীকে দুটি চড় মেরেছিলেন। এরপর তার বিরুদ্ধে স্থানীয়দের আন্দোলন, অবরুদ্ধ ও শিক্ষা অফিসের তদন্তের কথা স্বীকার করে বলেন, তদন্তর্পর্বক কতৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নিবেন তিনি তা মেনে নিবেন।

সূত্র জানায়, জি,এম আবুল হাশেম তালা উপজেলার মুড়াগাছা এলাকার মৃত গহর আলী গাজীর ছেলে। তিনি দীর্ঘ দিন বাড়ি ছেড়ে পাইকগাছার কপিলমুনি ইউনিয়নের কাশিমনগর এলাকায় জমি ক্রয়পূর্বক বসবাস করেন। তার বিরুদ্ধে ইতোপূর্বেও এহেন বহু অভিযোগসহ এলাকায় আরোও অভিযোগ রয়েছে।

সর্বশেষ অভিভাবকসহ এলাকাবাসী তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ##

সংবাদটি শেয়ার করুন

একই বিভাগের সকল খবর