শেখ মাহতাব হোসেন (ডুমুরিয়া) খুলনা::
রবিবার(৮নভেম্বার )সকাল ১০টার সময় ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় ৩দিনব্যাপী কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত প্রশিক্ষণে সভায় সভাপতিত্ব করেন ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ ইনসাদ ইবনে আমিন, প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির প্রকল্পের মনিটরিং অফিসার জাহাঙ্গীর আলম, বক্তব্য রাখেন ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ওয়ালিদ হোসেন, আরাফাত জামিল, সূর্যমুখীর সঙ্গে পরিচয় ঘটেছিল সেই সত্তুরের দশকে। প্রতিবেশী শেখ নিজাম উদ্দিন টিপনা মাঠে সূর্যমুখীর চাষ করেছিলেন। মাঠের মধ্যে একটি জমিতে তিনি চাষ করেছিলেন। আর কেউ করেননি। তারপর আমাদের মাঠে কোনো দিনও সূর্যমুখী নজরে আসেনি। বলতে গেলে তিনিই প্রথম, তিনিই শেষ সূর্যমুখীচাষি আমাদের গ্রামে। তিনিও জীবনে একবারই এই সূর্যমুখী চাষ করেছিলেন, সূর্যমুখী উৎপাদনে বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ হতে পারে সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার অনুকূলে শারীরিক সুস্থতার বিষয়টি মাথায় রেখে।
সরকারিভাবে রিফাইন্ড মেশিনারি সরঞ্জাম আমদানির মাধ্যমে রিফাইন্ড মেশিন স্থাপন করা গেলে ও সূর্যমুখীর বীজ থেকে তেল সংগ্রহ ও রিফাইন্ড সূর্যমুখী তেল বোতলজাত, বাজারজাত করা গেলে, প্রয়োজনে সরকারি ভর্তুকি দিয়ে হলেও সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা গেলে, তেল সহজলভ্য হবে।
আমার চাচা বীজ পেয়েছিলেন বিদেশিদের কাছ থেকে। বিদেশিরা তখন সূর্যমুখী উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ, উৎসাহিত ও পরামর্শ দিতে কাজ করছিলেন বাংলাদেশে। যাহোক শৈশবে সেই সূর্যমুখীখেতে ছুটে যাওয়ার স্মৃতি আমার এখনো স্পষ্ট। যখন ফুটেছিল সেই দৃষ্টিনন্দন (আমাদের কাছে অচেনা) ফুলটি। আহা, কত সুন্দর, একটি জমিতে ফুটেছে সূর্যমুখী, যেন পুরো মাঠ হাসছে প্রাণ খুলে। শিশু মন নেচে উঠেছে সেই হাসির দোলায়। কিন্তু রহস্যটা অনেক জটিল, যখন দেখলাম সূর্যের সঙ্গে সঙ্গে ঘাড় ঘুরিয়ে সেই ফুল সূর্যের দিকেই মুখ করে থাকে। এই জন্যই নাম তার সূর্যমুখী?
সূর্যমুখী দেখতে রূপময় নয় গুণেও অনন্য। সূর্যমুখীর বীজের তেল স্বাস্থ্যর জন্য অসাধারণ। অন্যান্য তেলবীজে যেসব ক্ষতিকারক উপাদান (বিশেষ করে কোলেস্টেরল) থাকে সূর্যমুখীতে তা নেই। বরং আরও উপকারী উপাদান ও পুষ্টিগুণ বিদ্যমান। মার্কেটে ও সাধারণ মুদিদোকানে এমনকি সারা দেশের শহর–গ্রামের বাজারের প্রসিদ্ধ কিছু কিছু মুদিদোকানগুলোতে বোতলজাত সূর্যমুখীর তেল দেখতে পাওয়া যায়। এগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন বহুজাতিক কোম্পানির নিজস্ব উৎপাদিত ও বিদেশ থেকে আমদানি করা। দাম অনেক, তাই সাধারণের খাদ্যতালিকায় সূর্যমুখী তেলের প্রচলন নেই। সুস্বাস্থ্যের জন্য সূর্যমুখীর তেলের বিকল্প নেই। ভারতে এই তেল খুবই জনপ্রিয় ও প্রচলন আছে চোখে লাগার মতো। অন্য তেলের চেয়ে যদিও একটু দাম বেশি, তা সহনশীল ভারতের বাজারে। তাই ভারতীয় জনগোষ্ঠীর মাঝে অঞ্চলভেদে সূর্যমুখী তেলের ব্যবহার লক্ষণীয়। উৎপাদনও ভারতে সূর্যমুখীর মন্দ নয়। সব কটি তেলবীজের তালিকায় সূর্যমুখীও ভারতীয় উৎপাদিত তেলবীজের অন্তর্ভুক্ত ও প্রচলিত মোটামুটি সহজলভ্য তেলবীজ, যা আমাদের দেশে সূর্যমুখী তেল সাধারণের সঙ্গে সাধারণ পরিচয় ঘটাতে এখনো অসফল।
বাংলাদেশের আবহাওয়া, পানি, মাটি সূর্যমুখী চাষের অনুকূলে। বাংলাদেশের অনেক অঞ্চলে এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে, প্রসার লাভ করছে না সে রকমভাবে সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে তার দাম। অথচ বাংলাদেশে সূর্যমুখীর সম্ভাবনা উজ্জ্বল। আমরা বিদেশ থেকে রিফাইন্ড সয়াবিন তেল আমদানি করি, তাতে আছে ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান। অথচ আমরা যদি দেশীয়ভাবে সূর্যমুখীর বীজকে প্রধান্য দিয়ে রিফাইন্ড না করেও শুধু ঘানিতে সূর্যমুখীর বীজ থেকে তেল সংগ্রহ করি। আমাদের এই ভোজ্যতেলও হতে পারে পুষ্টিসমৃদ্ধ ও সুস্বাস্থ্যকর।
সুস্বাস্থ্যের জন্য সূর্যমুখীর তেলের বিকল্প নেই।