সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি :
কোটা বিরোধী আন্দোলনের পথ ধরে গণ অভ্যুত্থান পরবর্তী চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের লক্ষ্যে আমাদের করণীয় বিষয়ে সংবাদকর্মীদের সাথে মত বিনিময় করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সৈয়দপুরের নেতৃবৃন্দ।
উদ্ভুত পরিস্থিতির আলোকে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও তাদের পরামর্শ গ্রহণ এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ নানা ক্ষেত্রে হামলা ও নৈরাজ্য বিষয়ে সৃষ্ট গুজব পরিহার এবং নিরাপত্তার আশ্বাস প্রদানে ধারাবাহিক মতবিনিময়ের অংশ হিসেবে ওই সভার আয়োজন করা হয়।
সোমবার (১২ আগস্ট) দুপুরে সৈয়দপুর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামী সৈয়দপুর উপজেলা আমীর হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন শহর আমীর মুহা. শরফুদ্দিন খান।
সৈয়দপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু বিন আজাদের সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক শাহজাহান আলী মননের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বক্তব্য বলেন, সৈয়দপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক আলাপন সম্পাদক আমিনুল হক, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জিকরুল হক, সহ সভাপতি নজির হোসেন নজু, সময় টিভির স্ট্যফ রিপোর্টার সাকির হোসেন বাদল, প্রথম আলোর সৈয়দপুর ও পার্বতীপুর উপজেলা প্রতিনিধি এম আর আলম ঝন্টু, দৈনিক যুগান্তর প্রতিনিধি রুখসানা জামান শানু, দৈনিক জনকণ্ঠের এম আর মহসিন, দৈনিক নয়াদিগন্তের জাকির হোসেন।
মতবিনিময় সভার প্রধান অতিথি সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম বলেন, বাকশালি আওয়ামী লীগের অপশাসনের ফলে দেশের সব ক্ষেত্রেই চরম দলীয়করণে বৈষম্য তৃণমূল থেকে শীর্ষ পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। যা দেশ ও জাতির নাভিশ্বাসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে ছাত্র জনতার গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন হলেও এর শিকড় রয়ে গেছে। এর উৎপাটন না করা পর্যন্ত আন্দোলনের সুফল ঘরে তোলা সম্ভব হবেনা।
তিনি বলেন এজন্য দেশের আপামর জনতাকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। তাহলেই সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে পারবো আমরা। এক্ষেত্রে সংবাদকর্মীদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি জানিয়ে তিনি বলেন, তারাই পারবে কলমের ক্ষুরধার মুক্ত লেখনির মাধ্যমে পরাজিত শক্তির অপপ্রচার রোধ করে জাতিকে আশ্বস্ত করতে। হাফজ আব্দুল মুনতাকিম বলেন, স্বৈরশাসক আওয়ামীলীগের আমলে সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে জামায়াতের নেতাকর্মীরা। ১৬ বছর মুখ খুলতে পারিনি, কোন কারণ ছাড়াই হামলা মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে তার উপরে ১৯ টি মামলা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের নামে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তাঁকে গ্রেফতার করে কি ধরণের নির্যাতন করা হয়েছে তার বর্ণনা দেন হাফেজ মুনতাকিম।
উপজেলা জামায়াতের এই আমীর বলেন, তারপরেও আমরা প্রতিহিংসা রাজনীতিতে বিশ্বাস করিনা, আমরা শান্তির পক্ষে। তাই আসুন ছাত্র শিক্ষক জনতা সাংবাদিক পেশাজীবী, শ্রমিক এক কাতারে এসে নতুন বাংলাদেশ গড়ায় অগ্রণী হই। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এক্ষেত্রে আপনাদের সহযোগী হয়ে বাংলাদেশ তথা আমাদের প্রাণের শহর সৈয়দপুরকে শান্তি ও সমৃদ্ধির মডেল হিসেবে উপস্থাপন করি৷ আমরা সকলে সৈয়দপুরীয়ান হয়ে দল মত ভুলে অতীতের বৈষম্যমুলক মানসিকতা ঝেড়ে ফেলে সকলে মিলে প্রত্যয়ী হই। তাহলে সুফল আসবে।
এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সৈয়দপুর উপজেলা শাখার পেশাজীবি বিভাগের সভাপতি খালিদ সাহাব, সেক্রেটারি ফারহান আলমসহ প্রেসক্লাবের সদস্যসহ সৈয়দপুরের সংবাদকর্মীগণ৷