- শেখ নাদীর শাহ্ ::
খুলনার পাইকগাছায় বোরো ধানের বাম্পার ফলনেও স্বস্তিতে নেই কৃষক। কাল বৈশাখীর চোখ রাঙানীর সাথে শ্রমিক সংকটে খানিকটা দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষককূল। গত কয়েক দিনের ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিতে কোন কোন এলাকার ক্ষেতের পাকা ধান গাছ এলামেলো হয়ে পড়েছে। যদিও আগামী কয়েক দিন আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ধান কেটে ঘরে তুলতে পারবেন বলে মনে করছেন তারা। তবে আবহাওয়ার প্রতিকূলতা নিয়ে যত দুশ্চিন্তা।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ৬ হাজার ১৭ হেক্টর হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ডিজেল ও বিদ্যুতের সরবরাহ সংকটের মধ্যেও আশানুরুপ আবাদ ও বাম্পার ফলন হয়েছে বোরোর।
উপকূলীয় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝড়-বৃষ্টি খানিকটা আগেভাগেই শুরু হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই কমবেশি এর প্রভাব পড়ছে। উপজেলায় কোন কোন এলাকায় আরো কয়েক দিন আগে ধান কর্তন শুরু হলেও আগামী সপ্তাহ খানেকের মধ্যে সর্বত্র ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হবে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে নানা সংকটে উৎপাদন ও কর্তন মৌসুমে শ্রমিকের মূল বেশি হওয়ায় নানা আশংকায় যোগ করেছে আবহাওয়ার প্রতিকূলতা। এমন পরিস্থিতিতে উৎপাদন খরচ ওঠা নিয়ে রীতিমত শঙ্কা তৈরি হয়েছে কৃষকের মধ্যে।
উপজেলার কপিলমুনির কাশিমনগর এলাকার কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, তিনি আগে-ভাগে আবাদ করেছেন তাই আগেই তিনি ধান উঠাতে পেরেছেন। উৎপাদনও ভাল হয়েছে তাই খরচ নিয়ে খুব বেশি ভাবনায় নেই তার।
তবে হিতাম পুরের কৃষক আব্দুর সালাম বলেন, ঝড়বৃষ্টির কারণে ধান কেটে মাঠে পালা দিয়ে পলিথিনে ঢেকে রাখা হয়েছে। এতে তার ধান ও বিচুলির ক্ষতি হচ্ছে। ধান কাটার শ্রমিক মিলছে না। গ্রামের লোকজন গার্মেন্ট, ইটের ভাটাসহ বিভিন্ন কাজে দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থান করায় এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে।
বিধায় কৃষি কাজে দিন দিন শ্রমিক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে কর্তন মৌসুমে চড়া দামেও শ্রমিক মিলছেনা। ফলে শ্রমিকসহ উৎপাদন খরচও বেড়ে যাচ্ছে।
পাইকগাছা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ একরামুল হোসেন বলেন, উপকূলের এ উপজেলায় ইতোমধ্যে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। আর ৫/৭ দিনের মধ্যে মাঠে ধান কর্তন পুরাদমে শুরু হবে। চলতি মৌসুমে বোরোর ফলন ভাল হয়েছে।
নানা সংকটেও তাই আবহাওয়া অনুকুল পরিবেশে ক্ষেতে সঠিক পরিচর্যা করতে পারায় বোরোর ফলন বাম্পার হয়েছে। কৃষকরা বিচুলীতে অধিক দাম পাওয়ায় বোরো চাষে আগ্রহ বেড়েছে তাদের।