- নিজস্ব প্রতিবেদক, পাইকগাছা ::
পাইকগাছার দেলুটির কালীনগরে প্রধান শিক্ষক শ্যামল ঘোষের বসতঘরে অগ্নিসংযোগে ঘরে রক্ষিত ল্যাপটপ, ফটোস্ট্যাট মেশিন, আসবাবপত্র ও কাপড়-চোপড় ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে। গত ১৩ অক্টোবর সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে কেউ ঘটনাটি ঘটিয়ে থাকতে পারে।
এ ঘটনায় গত ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেলে পাইকগাছা থানায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ হয়েছে।
অভিযোগটি দায়ের করেন, দেলুটির কালীনগর উদয়ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কুমার ঘোষের স্ত্রী অঞ্জনা ঘোষ। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সন্দেহ, পূর্বশত্রুতা’র জের ধরে কেউ অগ্নিসংযোগের ঘটনাটি ঘটিয়ে থাকতে পারে।
অঞ্জলী ঘোষ জানান, গত ১৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে স্বামী তার কর্মস্থলে গেলে তিনি মাঠে যান ছাগল চরাতে। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিলনা। এ সুযোগে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা তার বসতঘরে আগুন দিলে ঘরের জিনিসপত্রসহ ১টি ল্যাপটপ, ১টি ফটোস্ট্যাট মেশিন ও আলমারীর কাপড়-চোপড় পুড়ে ভষ্মিভূত হয়। তিনি তার লিখিত অভিযোগে সন্দেহজনক ভাবে স্থানীয় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন বলে জানানো হয়।
অঞ্জলীর স্বামী প্রধান শিক্ষক শ্যামল ঘোষ বলেন, তার ছেলে তনুজ কুমার ঘোষ কালীনগরস্থ কে,বি টেকনিক্যাল ও এন্ড ভোকেশনাল ইস্টিটিউটের হেডক্লার্ক পদে চাকুরী করেন।
তিনি জানান, গত ৭ অক্টোবর দুপুরে তার স্কুলের সামনে তরুন-আকাশসহ ৩ ব্যক্তি তাকে ডেকে নিয়ে ভারতে অবস্থানরত ইস্টিটিউট এর কথিত সভাপতি দিবাকর বাওয়ালীকে মোবাইল ধরিয়ে তাকে কথা বলতে বলেন।
তার অভিযোগ, এসময় মোবাইলে দিবাকর বাওয়ালী তার কাছে বড় অংকের টাকা দাবি করেন অন্যথায় তার ছেলের চাকুরী থাকবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় মোবাইলের অপরপ্রান্ত থেকে।
তবে তিনি তাকে টাকা দিতে অস্বীকার করায় সর্বশেষ তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগের এ ঘটনা ঘটে।
তবে প্রধান শিক্ষকের ডেকে নিয়ে মোবাইল ধরিয়ে দেয়া বা পরে অগ্নিসংযোগের ঘটনার সাথে কোন সম্পৃক্ততার প্রমান পাওয়া যায়নি তাৎক্ষণিক। এনিয়ে কারো কোন মতামতও জানাযায়নি।
এ বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আব্দুল আউয়াল কবির জানান, অভিযোগের বিষয়ে তদন্তকারি পুলিশ অফিসারের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।