মোঃ লিটন মাহমুদ, মুন্সীগঞ্জ::
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী থানার আব্দুল্লাপুর ইউনিয়নের অধ্যনগর গ্রামের ৩৫ বছরের এক প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় স্থানীয় শালিসে ধর্ষ ককে ৭০ হাজার টকজরিমানা ও ৫০ টি বেত্রাঘাতের জরিমানা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগে বলা হয়, একই গ্রামের সিএনজি চালক সিয়াম সিমান্ত (২৪) ঐ প্রতিবন্ধী নারীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। সর্বশেষ ৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭ টার দিকে বিদ্যুৎ না থাকার সুযোগে সিয়াম সীমান্ত তাকে ধর্ষণ করে। ধর্ষিতা জানান, এর আগেও ৬/৭ বার তার সাথে এমন অপকর্ম করেছে।
ধর্ষণের শিকার প্রতিবন্ধীর ভাতিজি বলেন, সর্বশেষ ঘটনার দিন সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে তার ফুফুকে তার ঘরের আশপাশে দেখতে না পেয়ে তিনি পাশের বাড়ির একটি দেওয়ালের চিপায় মোবাইলের আলোতে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখতে পান। একই সময় তার দাদী সিয়াম সীমান্তকে পাশের দেওয়াল টপকিয়ে পালিয়ে যেতে দেখে।বিষয়টি সীমান্তের মাকে জানানো হলেও কান ব্যবস্থা নেয়নি। এ ঘটনায় প্রতিবন্ধীকে জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, সীমান্ত তার সাথে আগেও ৬/৭ বার এমন কাজ করেছে।
ঘটনায় গত ৯ সেপ্টেম্বর (শনিবার) রাত সাড়ে আটটার দিকে স্থানীয় ৩ নং ওয়ার্ড সদস্য খোরশেদ আলম তালুকদার প্রতিবন্ধীর বাড়িতেেএকটি শালিসী বসান। যেখানে ধর্ষককে দোষী সাব্যস্ত করে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা ও ৫০ টি বেত্রাঘাতের সিদ্ধান্ত হয়। এরপর ধর্ষক সিয়াম সিমান্তকে তার পিতা আমজাদের কথা মতো এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
বিষয়টি এলাকাবাসী প্রথমে সাংবাদিকদের জানালে পরে বিষয়টি গতকাল রাত ১২ টার দিকে টঙ্গীবাড়ী ইউএনকে জানানো হয়। পরে থানা পুলিশ ভিকটিমের বাড়ী পরিদর্শন করে।
এ দিকে প্রতিবন্ধী ধর্ষণ ও পরে স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্যের নের্তৃত্বে শালিসের নামে প্রহসেনর ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।তারা ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। পাশাপাশি তারা ধর্ষিতা পরিবারের নিরাপত্তায় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পুলিশি হস্তক্ষেপকমনা করেন।
এ বিষয় আব্দুল্লাহপুর ৩নং ওয়ার্ড সদস্য খোরশেদ আলম তালুকদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী মেয়েটি তার ওয়ার্ডের অন্তর্ভূক্ত হওয়ায় তিনি তার সম্মান রক্ষার্থে বোর্ড বসিয়ে ঐ শালিসের আয়োজন করেন।
যেখানে বোর্ডের মাধ্যমে ধর্ষকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ৫০টি বেত্রাঘাত দেওয়ার হুকুম দেন। এসময় শালিসীতে অন্যান্যদের মধ্যে কামাল বেপারী, মোসলেম, সুমন, মোঃ আওলাদ হোসেন পুস্তি, জাহাঙ্গীর ও মনির উপস্থিত ছিলেন বলেও জানান তিনি।
এসময় ধর্ষককে তার বাবাও চড় থাপ্পড় মেরে কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাইতে বলেন বলে জানানো হয়।
এসময় বিষয়টি নিয়ে তার ইউপি চেয়ারম্যান কিংবা থানা পুলিশকে জানিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছোট-খাটো বিষয়ে তারই বিচার-আচার করতে পারেন বলেও দাবি তার।
এ বিষয়ে টংগিবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রাজীব খান বলেন, তিনি রাতেই বিষয়টি অবগত হয়ে ঐ রাতেই পুলিশ পাঠিয়ে বিষয়টির তদন্ত করেছেন। পর্যায়ক্রমে আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ আবু জাফর রিপন বিপিএএ বলেন, বিষয়টি অবগত হলাম তদন্তর্পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।