মুন্সীগঞ্জে সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আবু ইলিয়াস শান্ত হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে পরিবার ও গ্রামবাসী। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে এক ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধন পালন করে সহস্রাধিক নারী-পুরুষ। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি দেন।
মানববন্ধনে বক্তব্যকালে বক্তারা বলেন , সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইলিয়াসকে আহমেদ শান্তকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু হত্যা মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলার প্রধান আসামি টিপু মোল্লা ও নৌ ডাকাত কিবরিয়া মিজিসহ এজহারনামীয় আসামিদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ বিচার করতে হবে।
নিহত যুবদল নেতা শান্তের স্ত্রী শান্তা ইসলাম বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে শান্ত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।
পরে একই দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভকারীরা জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দাখিল করেন।
মামলার বিবরণ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু ইলিয়াছ শান্ত সরকার ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর রাত সাড়ে ৭ টার দিকে মুক্তারপুর পুরাতন ফেরীঘাট থেকে অভিযুক্ত এজাহার নামীয় আসামিসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও ৫/৬ জন স্প্রিডবোট যোগে নৌপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পরে রাত সোয়া ১০ টার দিকে মামলার প্রধান আসামি টিপু মোল্লার মোবাইল থেকে ফোন করে বলা হয়, শান্ত সরকার নৌ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। তাকে চিতলিয়া থেকে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে সেখান থেকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সেখানে রাত দেড়টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যায় যুবদল নেতা শান্ত সরকারের মরদেহ মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরমশুরা গ্রামস্থ কবরস্থানে দাফন করা হয়।
ঘটনার পর নিহতের ছোট ভাই মো. মামুন সরকার বাদী হয়ে সদর থানায় আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও পাঁচ থেকে ছয়জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল আলম জানান, মামলাটি সিআইডির তদন্তাধীন রয়েছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।