মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর :
সারিবদ্ধ হয়ে চলা শুরু করেছে যানবাহনগুলো। কেউ কাউকে ওভারটেকও করছে না। একদিক দিয়ে আসা অপরদিকে দিয়ে যাওয়া চলছে। আবার সবিনয়ে মোটরসাইকেল চালকদের মাথায় হেলমট পড়ার অনুরোধও করছে তারা। ট্রাফিক পুলিশের অভাব পূরণ করতে শিক্ষার্থী, আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের সাথে বিএনসিসি, স্বেচ্ছাসেবক ও স্কাউটস সদস্যদের এমন সুশৃঙ্খল দায়িত্ব পালনে সৈয়দপুর শহর হয়ে উঠেছে যানজটমুক্ত নগরী। সৈয়দপুর শহরকে শৃঙ্খলায় আনতে দৃঢ় সংকল্প তাদের মনে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরের যানজট নিরসনে এভাবে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে তারা। তাদের এমন পরিশ্রমের কারণে সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) সারাদিনই সৈয়দপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচমাথা মোড়, সোহেল রানা মোড়, মদিনা হোটেল মোড়, শহীদ আবু সাইদ চত্বর (সাবেক সিএসডি মোড়,) সৈয়দপুর বাসটার্মিনাল চত্ত্বরসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এভাবে স্বেচ্ছায় কাজ করে যাচ্ছেন শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবীরা। তাদের এমন মহৎ কর্মকাণ্ড দেখে শহরবাসী বলছেন যেভাবে এই শিক্ষার্থীসহ স্বেচ্ছাসেবকরা যেভাবে ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে এনেছে, ট্রাফিক বিভাগও তেমন পারিনি।
শিক্ষার্থী রিয়া, শাহবাজ, রানাসহ অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবকরা জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে পুলিশ মাঠে নেই। নেই ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরাও। ফলে গোটা শহরে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে গত কয়েকদিন ধরে তারা পালাক্রমে যানজট নিরসনে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের সহযোগিতা করছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সুভা, পূবালী স্কাউট ও বিজ্ঞান ক্লাব, বিএনসিসি ও আনসার সদস্যরা।
পাঁচমাথা মোড় এলাকায় ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করা শিক্ষার্থী মোজাহিদুল ইসলাম মাসুম বলেন, দেশগড়ার কাজ করছি। দেশটা আমাদের। সকলে মিলে দেশকে সাজাতে হবে। কয়েকজন শিক্ষার্থীকে দেখা গেলো পাঁচমাধা মোড়ের পুড়িয়ে যাওয়া
পুলিশ বক্স পরিস্কার করতে। শহরের ফুটপাথ থেকেও আবর্জনা সরাচ্ছিলেন তারা। কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী রাফেতুজ্জামান রিফাত জানান, মাঠে পুলিশ না থাকায় ভয়াবহ যানজট চলছিলো শহরে। এতে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস ও বিমান যাত্রীসহ অনেকেই দুর্ভোগ পোহাচ্ছিলেন। ফলে আমরা সামাজিক ও মানবিক বোধ থেকে ট্রাফিকের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছি। আনসারসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা আমাদের সহযোগিতা করছেন। শহরের মদিনা মোড়ে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করছিলেন মিলন মোস্তফিজ নামে এক শিক্ষার্থী।
তিনি বলেন, যতক্ষণ না ট্রাফিক পুলিশ কাজে ফিরছে ততক্ষণ দায়িত্ব পালন করে যাবো। শিক্ষার্থী শামীম আল-সাজিদ বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে শহীদদের স্মরণ করতে শহরের শহীদ স্মরণীর নাম বদলে শহীদ আবু সাঈদ চত্বর করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কর্মকান্ড দেখে মুগ্ধ শহরের ব্যবসায়ীরা। সৈয়দপুর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলতাফ হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীরা ভালো কাজ করছে। শহরে ভয়াবহ যানজট কমেছে। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। আমরা চাই দ্রুত সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে উঠুক। এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে সৈয়দপুর উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াদ আরফান সরকার রানা শহরের পাঁচমাথা মোড়ে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করা শিক্ষার্থীসহ সকলের সাথে কথা বলেন। এসময় তিনি ব্যক্তিগতভাবে তাদের হাতে তুলে দেন শুকনো খাবার ও কোমল পানীয়। এছাড়া সৈয়দপুর প্লাজা ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন পয়েন্টে শিক্ষার্থী ও অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেন।
এছাড়া বিভিন্ন জনের পক্ষ থেকে পানি ও বিস্কুট বিতরন করতেও দেখা যায়।
সৈয়দপুর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা নুর বানু খাতুন বলেন, তার দপ্তরের পক্ষ থেকে ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনসার ভিডিপি সদস্যদের নিয়োজিত করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যতদিন প্রয়োজন মনে করবেন তাদের ততদিন পর্যন্ত কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুর-ই আলম সিদ্দিকী বলেন, শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবীদের যতই প্রশংসা করি কম হবে। ক্রান্তিকালে তাঁরা যেভাবে সহযোগিতা করেছে জাতি তাঁদের অবদান আজীবন মনে রাখবে