মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর::
নীলফামারীর সৈয়দপুরে মাত্র ১৫/২০ মিনিটের আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপড়ে গেছে অসংখ্য গাছপালা।
বুধবার (২৯ মে) দিনগত রাত পৌনে ২ টার দিকে ওই ঝড় শুরু হয়। এতে শহর ও গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় কাঁচা বাড়ীঘর ভেঙে যায়, অসংখ্য গাছপালা ভেঙে বিচ্ছিন্ন হয় গোটা উপজেলার বিদ্যুৎ সংযোগ।
দোকানপাটেরও ক্ষতি সাধিত হয়। বৃহস্পতিবার (৩০মে) সকালে শহর ও গ্রামের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঝড়ের তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্থের চিহৃ দেখা গেছে।
শহরে সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হয়েছে সাহেবপাড়া, বাঁশাবড়ি, (আমিন মোড়) মোড়ে। সেখানে একটি শতবর্ষী পুরাতন পাকুড় গাছ ঝড়ে উপড়ে পড়ে। এতে আশপাশের বেশ কয়েকটি দোকান, হোটেল ও বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এছাড়া শহরের অন্যান্য এলাকাতেও কালবৈশাখী ঝড় ক্ষতির চিহৃ রেখে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বরিশাল বিভাগীয় কল্যাণ সমিতি,
হোটেল মুদিখানা ও অন্যান্য বাসাবাড়ি।১৫ মিনিটের ঝড়ে গোটা উপজেলায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

ক্ষতিগ্রস্থরা জানান, রাতে আকস্মিক ঝড়ে শতবর্ষী ওই পাকুড় গাছটি উপড়ে পড়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে। তারা বলেন, আমাদের ব্যবসা বাণিজ্য শেষ। বাড়িও ভেঙ্গে গেছে।
উপজেলার কামারপুকুর, কাশিরাম বেলপুকুর, বাঙ্গালীপুর, বোতলাগাড়ি ও খাতামধুপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকাতেও কাঁচা বাড়ীঘর ভেঙ্গে গেছে, উপড়ে গেছে অসংখ্য গাছপালা। ধান ও গ্রীস্মকালীন সবজিরও ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ মে) সকাল দশটায় সৈয়দপুর আবহাওয়া অফিসের দেয়া তথ্য মতে বুধবার দিবাগত রাত ১টা ৪৫ মিনিট থেকে ২ টা পর্যন্ত স্থায়ী ওই কালবৈশাখী ঝড়ের গতিবেগ ছিল ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মির্জা আবু সাইদ বলেন, এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা পাওয়া যায়নি। তালিকা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর- ই- আলম সিদ্দিকী বলেন, আকস্মিক ঝড়ের কারণে সৈয়দপুর উপজেলায় বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় গাছপালা কাঁচা ঘরবাড়ি,ব্যবসা প্রতিষ্ঠান,ধানসহ গ্রীস্নকালীন সবজিরও ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সে হিসেবে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক ক্ষতিগ্রস্থদের সবধরণের সহযোগিতা করা হবে।