1. sheikhnadir81@gmail.com : admin :
  2. tapon.tala@gmail.com : Tapon Chakraborty :
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
সাংবাদিকের ভাইয়ের মুত্যুতে কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবের শোক ডুমুরিয়ায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রস্তুতি সভা খালেদা জিয়ার নামে নামকরণ থাকায় ১৭ বছর সংস্কার হয়নি ছাত্রী নিবাস মুন্সীগঞ্জে শ্রীনগরে সিএনজি-পিকআপ সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ আহত ৭ সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা অধিবাস অধিকারীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সৎকার কয়রায় জিঙ্ক সমৃদ্ধি বিরি ১০২ ধানের মাঠ দিবস পালন পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চুরি: সিসিটিভির সরঞ্জাম উদ্ধার, আটক-৩ ডুমুরিয়ায় এসিআই’র সূর্যমুখী বীজ হাইসান ৩৬’র মাঠ দিবস সুন্দরবনের ডাকাত ছোট সুমন বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ডকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা, সৈয়দপুরে ছয়টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত অনুপস্থিত ২৮ জন

চার মাসের প্রচেষ্টায় কোরআন শরীফ হাতে লিখলেন মসজিদের খাদেম সেলিম

  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ৩ মে, ২০২৪
  • ২৪৩ বার পঠিত
koran-9803

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি::


টানা চার মাসের প্রচেষ্টার সফলতা পেলেন অসুরখাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জামে মসজিদের খাদেম হাফেজ সেলিম উদ্দিন রেজা।

ওই সময়ে তিনি পবিত্র কোরআন শরীফের ৩০ পারা হাতে লিখেছেন। তার অভাবনীয় এ সাফল্যের খবর পত্র পত্রিকাসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তার হাতে লেখা কোরআন শরীফ এবং মসজিদের খাদেম রেজাকে দেখতে মানুষজন প্রতিদিনই যাচ্ছেন তার গ্রামের বাড়ি কামারপুকুর ইউনিয়নের ব্রহ্মোত্তর এলাকায়।

দর্শনার্থীদের দেখার সুবিধার্থে হাতে লেখা কোরআন শরীফের কয়েকটি ফটোকপি বাঁধাই করে রেখেছেন তিনি। প্রয়োজনীয় সময় বাদে সার্বক্ষণিক সময় দিয়েছেন কোরআন শরীফ লেখায়। কোরআন শরীফটি হাতে লেখা হলেও দেখতে হুবহু প্রিন্টিং প্রেসে ছাপানোর মতো। মসজিদেই চার মাস ধরে পবিত্র কোরআন শরীফ লিখেছে সে ৷

২০ বছর বয়সী হাফেজ সেলিম উদ্দিন রেজা সৈয়দপুর শহরের বাঙ্গালিপুর নিজপাড়া এলাকার দারুল উলুম মাদরাসার ছাত্র। তার পিতার নাম ইমান আলী ও মাতা সুরজী বেগম।

কামারপুকুর এলাকার বাসিন্দা সাংবাদিক জয়নাল আবেদীন হিরো জানান, সেলিম দক্ষিণ অসুরখাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জামে মসজিদে খাদেম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া সেলিমরা তিন ভাই। সে সবার ছোট। তাঁর অপর দু ভাই দিন মজুর ৷

তিনি জানান, ছোট বেলা থেকে সেলিমের হাতে লেখা তেমন ভালো ছিলনা। এজন্য মাদরাসার শিক্ষকদের কাছে হাতের লেখা নিয়ে অনেক কথা শুনতে হয়েছে তাঁকে। তাঁর তখন থেকে সে সিদ্ধান্ত নেয় হাতের লেখা ভালো করতে হবে। এজন্য লেখতে হবে প্রচুর লেখা। তাঁর মাথায় আসে সে ৩০ পারা কোরআন শরীফ লিখবেন। যেমন সিদ্ধান্ত, তেমন কাজ। গেল বছরের ডিসেম্বরে শুরু করেন কোরআন শরীফ লেখার কাজ। প্রয়োজনীয় সময় ও নামাজের ওয়াক্ত বাদে মনোযোগ দেন কোরআন শরীফ লেখায়। সে মাত্র
চার মাসের চেষ্টায় পুরো পবিত্র কোরআন শরীফটি হাতে লিখে শেষ করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে তাঁর মাদরাসার শিক্ষকসহ পরিচিতজনদের সাথে কথা বলেন। প্রথমে তাঁরা হাতে কোরআন শরীফ লেখার কথাটি বিশ্বাস করেননি। পরে তাঁরা সেলিমের বাসায় এসে দেখেন সে আসলেই পুরো কোরআন শরীফ হাতে লিখেছেন এবং তা প্রিন্টিং প্রেসে ছাপানোর মতই। সেলিমের হাতে অত্যন্ত পরিস্কার করে লেখা কোরআন শরীফ দেখে মুগ্ধ হন তারা।

সেলিমের অভাবনীয় সাফল্যে এলাকাবাসী জানান, এটা তাঁর জীবনের সেরা অর্জন এই হাতে লেখা পবিত্র কোরআন শরীফ । তাঁর এ সাফল্যের খবর চাউর হলে বিভিন্ন এলাকার মানুষজন ছুটে আসছে তার হাতে লেখা কোরআন শরীফটি দেখার জন্য। শুক্রবার ( ৩ মে) দুপুরে তার সাথে সাক্ষাৎ করেন কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনসহ অন্যান্যরা। এসময় ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে তাঁকে পোশাকসহ অন্যান্য উপহার সামগ্রী এবং সহায়তা হিসেবে অর্থ দেওয়া হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক জয়নাল আবেদীন হিরোসহ এলাকার সুধিজন। জানতে চাইলে হাতে লেখা কোরআন লেখক সেলিম উদ্দিন রেজা বলেন, আমি পবিত্র কোরআন হাতে লিখেছি নিজের ভালো লাগা থেকে। হাতে লেখা পবিত্র কোরআনের ওইসব কপি আমি কখনোই বিক্রি করব না।

তিনি বলেন, আমি ভাইরাল হতে পবিত্র ৩০ পারা কোরআন শরীফের কলেমা লিখিনি। লিখেছি আমার এ কাজ দেখে যাতে অন্যরাও অনুপ্রাণিত হয়। হাতে লেখা পবিত্র কোরআনটি বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমি যখন থাকবোনা, তখন আমার এ কাজ মানুষের কাছে সংরক্ষিত থাকবে। পবিত্র কোরআনটি যদি কেউ পড়েন তবেই আমার কষ্ট সার্থক হবে। ধর্মীয়ভাবে বললে, এতে আমার ছওয়াব হবে ৷

তিনি বলেন এ কাজটি করতে পেরে আমি মহান আল্লাহর কাছে লাখো কোটি শুকরিয়া আদায় করছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

একই বিভাগের সকল খবর