মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর::
উপজেলা পরিষদের নির্বাচনকে সামনে রেখে সৈয়দপুরের প্রিন্টিং প্রেসগুলোর মেশিনগুলো অব্যাহতভাবে চলছে।
নির্বাচন উপলক্ষে বিভিন্ন উপজেলার প্রার্থীরা প্রেসগুলোতে আসছেন প্রেস পাড়ায়। অর্ডার দিচ্ছেন, পোস্টার, হ্যান্ডবিল, স্টীকার, ফেস্টুন ও ব্যাজ ছাপানোর। এবার রঙীন পোস্টার ছাপানো নিয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে কোন বাঁধা না থাকায় সাদাকালোর পাশাপাশি রঙীন পোস্টারও ছাপাতে অর্ডার দিচ্ছেন প্রার্থীরা। ফলে ব্যস্ততা বেড়েছে প্রেস মালিক ও শ্রমিকদের। বর্তমানে তাদের দম ফেলবার ফুরসত নেই। সকাল থেকে গভীররাত পর্যন্ত চালু থাকছে অফসেট মেশিনগুলো। দিনরাত মিলিয়ে কর্মব্যস্ত সময় পার করছে প্রেসের অপারেটর ও সহকারি অপারেটররা। বর্তমানে প্রেসগুলোতে পোস্টার, হ্যান্ডবিল ও স্টীকার প্রিন্ট করার হিড়িক পড়েছে। এদের মধ্যে কেউ পোস্টার, কেউবা হ্যান্ডবিল ও স্টীকার ছাপাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
বুধবার (০৮মে) শহরের ছোট বড় মিলিয়ে নয়টি অফসেট প্রিন্টিং প্রেসে শ্রমিক কর্মচারিদের কর্মব্যস্ততার এসব চিত্র দেখা গেছে।
সৈয়দপুর শহরের শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কস্থ অত্যাধুনিক ছাপাখানা একতা অফসেট এন্ড ডিজিটাল প্রিন্টিং প্রেসের ব্যবস্থাপক রেজাউল করিম রিপন জানান, আমাদের প্রেসের কাজের মান অত্যন্ত ভালো থাকে বলে আশেপাশের জেলা উপজেলা থেকে বিভিন্ন কাজের অর্ডার আসে। এজন্য সব সময় আমরা ব্যস্ত থাকি। বিশেষ করে নির্বাচনকালীন সময়ে আমাদের ব্যস্ততা অনেক বেড়ে যায়। বর্তমানে চলছে উপজেলা নির্বাচনের মওসুম। এজন্য সৈয়দপুর ছাড়াও,নীলফামারী সদর, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ,ডোমার, ডিমলা, খানসামা, চিরিরবন্দর, পার্বতীপুর,দেবীগঞ্জ,বীরগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলার প্রার্থীদের অর্ডারের কারণে প্রেসের মেশিন চলছে দিনরাত।
তিনি বলেন, এবার সাদাকালোর পাশাপাশি রঙীন পোস্টার, হ্যান্ডবিল, স্টীকারও ছাপা হচ্ছে। বিশেষ করে রঙীন পোস্টারে ছাপাতে সময় বেশি লাগায় ২৪ ঘন্টা মেশিন চালু রাখতে হচ্ছে। এজন্য প্রেসের অপারেটর ও সহকারি অপারেটদের অতিরিক্ত সময়ের পারিশ্রমিক দিতে হচ্ছে।
একতা প্রেসের অপারেটর শিহাব ও জুয়েল জানান, প্রেস মালিক যেহেতু নির্বাচনী কাজের অর্ডার নিচ্ছেন। তাই কষ্ট হলেও অতিরিক্ত সময় কাজ করে যাচ্ছেন। এজন্য মালিকপক্ষের কাছ থেকে অতিরিক্ত সময়ের কাজের জন্য পারিশ্রমিক পাচ্ছেন। তবে তারা বলেন, লোডশেডিং না হলে কাজের গতি আরও বাড়বে।
অপরদিকে ইকু প্রিন্টিং প্রেসের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হোসেন বলেন, প্রেসে আমাদের নির্বাচনের কাজের জন্য শ্রমিকদের দিয়ে ওভারটাইম করানো হচ্ছে। এজন্য তাদেরকে অতিরিক্ত পারিশ্রমিক দেওয়া হচ্ছে। তারপরেও কুলিয়ে ওঠা যাচ্ছেনা ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে। তারপরেও তারা চেষ্টা করে যাচ্ছেন প্রার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া কাজের অর্ডার সময়মতো সরবরাহ করার।
সৈয়দপুরের ঐতিহ্যবাহী আলম প্রিন্টিং প্রেসের মালিক সাজু বলেন, প্রতিক বরাদ্দের পর থেকে কাজের ভীষন চাপ বেড়েছে তাদের। রাতেও প্রেসে থাকতে হচ্ছে প্রেস কর্মীদের সঙ্গে। গোটা মে মাস জুড়ে প্রেস পাড়ায় কর্মব্যস্ততা থাকবে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য এবার সৈয়দপুর উপজেলায় পৌর ও ইউনিয়ন মিলিয়ে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ১৮ হাজার ১৬ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৮৬৯ এবং নারী ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ১৪৭ জন। এরমধ্যে ৫টি ইউনিয়নে ভোটার ১ লাখ ১৬ হাজার ৩৬৭ জন এবং পৌর এলাকায় ১৫ টি ওয়ার্ডে ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৬৪৯ জন।
নীলফামারী জেলা নির্বাচন দপ্তরের সুত্র জানায়, প্রথম ধাপে ৮ মে অনুষ্ঠিত হয়েছে জেলার ডোমার ও ডিমলা উপজেলা পরিষদের নির্বাচন। দ্বিতীয় ধাপে আগামি ২১ মে অনুষ্ঠিত হবে সৈয়দপুর, কিশোরগঞ্জ ও জলঢাকা উপজেলা পরিষদের নির্বাচন। এছাড়া তৃতীয় ধাপে আগামি ২৯ মে অনুষ্ঠিত হবে নীলফামারী সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের মাধ্যমে শেষ হবে উপজেলা নির্বাচনের ব্যস্ততা।