সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি
এবারের এসএসসি পরীক্ষায় প্রকাশিত ফলাফলে শতভাগ পাসের দেখা না পেলেও সৈয়দপুর উপজেলায় পাসের দিক থেকে ৭ম এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে ৮ ম হওয়ার চমৎকার সাফল্য দেখিয়েছে সৈয়দপুরের আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ। একই সাথে সৈয়দপুরের ৪টি বালিকা বিদ্যালয়ের মধ্যেও দ্বিতীয় হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
গত ১২ মে প্রকাশিত ফলাফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির এমন সাফল্য এসেছে। পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবারে ২৯টি বিদ্যালয়ের মধ্যে শুধুমাত্র তুলশীরাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় শতভাগ পাসের গৌরব অর্জন করে। তবে এবার শতভাগের সাফল্য না পেলেও আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ পাসের দিক থেকে নারী শিক্ষায় ২য় ও উপজেলায় ৭ম হয়েছে। একই সাথে জিপিএ -৫ প্রাপ্তিতে উপজেলায় ৮ম হয়েছে।
পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায় ২৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে শীর্ষে রয়েছে ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ। পরের অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে- লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজ,সরকারি বিজ্ঞান কলেজ, আল-ফারুক একাডেমি, তুলশীরাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সানফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজ, হাজারীহাট স্কুল ও কলেজ, আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ, সৈয়দপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড উচ্চ বিদ্যালয়, শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়,লক্ষণপুর স্কুল এন্ড কলেজ, বোতলাগাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, চওড়া উচ্চ বিদ্যালয়, খালিশা বেলপুকুর স্কুল এন্ড কলেজ, কয়ানিজপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, বোতলাগাড়ি আদর্শ বালিকা নিকেতন, বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়,বাঙ্গালিপুর উচ্চ বিদ্যালয় এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড স্কুল। বালিকা বিদ্যালয়গুলোর ফলাফলে দেখা যায়, এবার সৈয়দপুর উপজেলায় ২৯ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে একমাত্র শতভাগ পাসের সাফল্য দেখিয়েছে তুলশীরাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। জিপিএ -৫ প্রাপ্তিতে নারী শিক্ষায় প্রথম ও উপজেলায় ৫ম হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি।
এ প্রতিষ্ঠানের ৮৫ জনের সকলে পাস করেছে। জিপিএ -৫ পেয়েছে ৩৭ জন। নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এরপরের অবস্থানে রয়েছে আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ। এ বিদ্যালয়ের ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৮২ জন। এদের মধ্যে মানবিকে ২৩ জনের মধ্যে ২১ জন, ব্যবসায় শিক্ষায় ৩২ জনের মধ্যে ৩১ জন এবং বিজ্ঞানে ৩২ জনের মধ্যে ৩০ জন পাস করে। জিপিএ-৫পেয়েছে ৬ জন। এদের মধ্যে বিজ্ঞানে ৪ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২ জন জিপিএ-৫ পায়। পাসের হার ৯৪.২৫ ভাগ। পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ পাসের হারের দিক থেকে তৃতীয় হয়েছে।
এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১১৬ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ১০৮ জন। তবে জিপিএ -৫ এর সাফল্য পায়নি কেউ। আর বোতলাগাড়ী আদর্শ বালিকা নিকেতন থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়া ২৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২১ জন পাস করেছে। তবে এ প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র একজন পরীক্ষার্থী। নারীদের প্রতিষ্ঠানে দ্বিতীয় এবং উপজেলায় পাসের হারে ৭ম ও জিপিএ -৫ প্রাপ্তিতে ৮ম হওয়ার সাফল্য প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মো.হাবিবুর রহমান বলেন, এসএসসি পরীক্ষার জন্য পরীক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। ক্লাশের পড়াশোনার পাশাপাশি বাসায় যাতে পরীক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে সেজন্য শিক্ষকেরা নিয়মিত তদারকি করতেন। শিক্ষকবৃন্দ আন্তরিকতার সাথে অভিভাবকদেরও নানা পরামর্শ দিয়েছিলেন। প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীরা যাতে ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারে সেজন্য আমাদের আন্তরিকতার কোন কমতি ছিলনা।
তিনি বলেন এসব কারণেই আমরা এবার শতভাগ পাশ এবং আরও বেশি জিপিএ – ৫ প্রাপ্তির আশা করেছিলাম। কিন্তু সে লক্ষ্যে আমরা পৌছাতে পারিনি। তারপরেও ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতি পৌর কাউন্সিলর কাজী মনোয়ার হোসেন হায়দারসহ প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি বলেন, আগামিতে শতভাগ পাসসহ আরও বেশি সাফল্য বয়ে আনতে শিক্ষক এবং অভিভাবকদের সাথে আরও বেশি যোগাযোগ রক্ষাসহ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী করতে প্রয়োজনীয় সবধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর এখন থেকেই এসব বাস্তবায়ন করা হবে। যাতে আগামিতে আমরা সেরা হতে পারি।