সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি::
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম বলেছেন, জামায়াতের ইসলামীর এখন রাজনৈতিক কোন কর্মসূচী নেই। এখন আমাদের কর্মসূচি হলো বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পরিবারের খোঁজ নিয়ে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা।
তিনি বলেন, ছাত্র – জনতার এ আন্দোলনের সফলতা ব্যর্থ করতে আওয়ামীলীগ এখনও ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। তাদের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বাংলার জমিনে আর কোন স্বৈরাচারী সরকার যেন রাজনীতি করতে না পারে সেজন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন,আজকে আন্দোলন চলছে স্বৈরাচারীর বিরুদ্ধে। এই আন্দোলনের যথার্থ সুফল পেতে হলে শুধু তথাকথিত সরকার পরিবর্তন নয় সামগ্রিক রাষ্ট্রযন্ত্রের নীতিরও পরিবর্তন তথা সংষ্কার করতে হবে।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে ঢাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত সৈয়দপুরের শহীদ সাজ্জাদ হোসেনের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান কালে তিনি ওইসব কথা বলেন।
শনিবার (১৭ আগস্ট) সন্ধায় সৈয়দপুর শহরের ড্রিমপ্লাস হোটেল এন্ড রিসোর্টের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শহীদ সাজ্জাদের বাবা আলমগীর হোসেনের হাতে ১ লাখ টাকা তুলে দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী মাওলানা আব্দুল হালিম। এসময় উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী জেলা নায়েবে আমীর ড. খায়রুল আনাম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সভাপতি মনিরুজ্জামান জুয়েল, সৈয়দপুর উপজেলা আমীর হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম, সেক্রেটারি মাজাহারুল ইসলাম, শহর আমীর শরফুদ্দিন খান, সেক্রেটারি মাওলানা ওয়াজেদ আলী, কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল মুহিদ, প্রমুখ।
মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, দেশপ্রেমিক নীতিবান রাজনৈতিক দলকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিতে হবে। তাহলে তারা দেশকে একটি সুন্দর সংবিধান উপহার দেওয়ার মাধ্যমে সকল শ্রেণীর মানুষের জন্য আদর্শিক রাষ্ট কাঠামো গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে সুখি সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে সর্বাত্মক ভুমিকা রাখতে পারবে।
তিনি বলেন, আগামীতে যেন একটি সুন্দর রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে সেজন্য সকলকে সচেষ্ট থাকতে হবে। তাহলেই আমরা এই বিপ্লবের সুফল দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌছে দিতে পারবো এবং দেশের সার্বভৌমত্বকে সুদৃঢ় করতে পারবো। এজন্য কাজ করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তাই তাদের সহযোগিতা করছে জামায়াত। এই মুহূর্তে আইন শৃঙ্খলা স্থিতিশীল করাই মূল দায়িত্ব। যাতে এই সরকার সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিতে পারে।
এর আগে আন্দোলনে অংশ নিয়ে নীলফামারী দেন জামায়াত নেতৃবৃন্দ। সদরের শহীদ রুবেল ও কিশোরগঞ্জ উপজেলার শহীদ নাঈমের বাড়িতে এছাড়াও নীলফামারীর চৌরঙ্গী মোড়ে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত জলঢাকা উপজেলার কাজিরহাট এলাকার বাসিন্দা ফটো সাংবাদিক রায়হানুল ইসলাম ও শিক্ষার্থী ইয়াসিন আলীকেও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
দীপ্ত নিউজ/মিলন/এসকে-ডি