- সৈয়দপুর প্রতিনিধি ::
ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষক – কর্মচারীদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশী হামলায় শিক্ষকদের আহত করার প্রতিবাদে এবং তিন দফা দাবিতে সৈয়দপুরে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে আন্দোলনরত শিক্ষক কর্মচারীরা।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) বেলা ৩ টায় সৈয়দপুর প্রেস ক্লাবের সামনে ওই কর্মসূচি পালন করা হয়। সৈয়দপুর উপজেলা স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ফোরামের ব্যানারে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
শিক্ষক কর্মচারিদের আন্দোলনে পুলিশী হামলায় শিক্ষকদের আহত করার তীব্র নিন্দা ও এ ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও শতভাগ উৎসব ভাতা প্রদানের দাবিতে শহরের শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কস্থ সৈয়দপুর প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দপুর উপজেলা স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ফোরামের সভাপতি ও হাজারীহাট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. লুৎফর রহমান চৌধুরী।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ফোরামের অন্যতম নেতা খালিশা বেলপুকুর স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ মো. আমিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও আল ফারুক একাডেমির প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম, উত্তর সোনাখুলি কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আহম্মদ আলী, লক্ষণপুর স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ রেজাউল করিম রেজা, সৈয়দপুর আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের প্রভাষক আলমগীর সরকার, আসমতিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার আনোয়ারুল ইসলাম, রাজ্জাকিয়া গফুরিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা মো. রফিকুল ইসলাম, পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সহকারী শিক্ষক রাজিব উদ্দিন বাবু, উত্তর সোনাখুলি দাখিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক শফিউল ইসলাম ও কয়ানিজপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. হায়দার আলী প্রমুখ।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও শতভাগ উৎসব ভাতার দাবিতে ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে অন্দোলনরত শিক্ষক-কর্মচারীদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশের হামলার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। আর এ শিক্ষকরাই জাতিকে শিক্ষিত করে গড়ে তুলছেন। পিতামাতার পরেই শিক্ষকের স্থান। অথচ এ দেশের শিক্ষক সমাজ নানাভাবে বঞ্চনার শিকার আজ। তারা প্রতিনিয়ত বিভিন্নভাবে অবহেলিত, বঞ্চিত ও উপহাসের শিকার হচ্ছে। এখন শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি আদায়ের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ বর্বরোচিত ও ন্যাক্কারজনক হামলা ও নির্যাতন করেছে।
তারা বলেন, শিক্ষকদের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করার ঘটনা কোন ক্রমেই মেনে নেওয়া যাবেনা। এ ঘটনা যেমন শিক্ষক সমাজের জন্য চরম অপমান তেমনি জাতির জন্য লজ্জাজনক।
সমাবেশে বক্তারা শিক্ষকদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে শিক্ষক সমাজের ন্যায্য দাবি মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহবান জানান। অন্যথায় শিক্ষকরা রাজপথ ছাড়বে না, লাগাতার আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করে তবেই ঘরে ফিরবে বলে হুশিয়ারি দেওয়া হয় বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে।
এর আগে সৈয়দপুর প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। পরে সেখান থেকে বের করা হয় বিক্ষোভ মিছিল। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান হাবিব, সানফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান জুয়েল, পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমানসহ সৈয়দপুর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীরা অংশ নেন।
এদিকে একই দাবিতে সৈয়দপুর উপজেলার বেসরকারি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালন করেছে শিক্ষকরা। ফলে ওইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন ক্লাশ হয়নি।