- আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ‘বিস্তারিত সংলাপে’ বসতে যাচ্ছেন ওয়াশিংটন এবং তেহরানের সরকারি প্রতিনিধিরা। আগামী রোববার, অর্থাৎ ২৯ মার্চের মধ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হবে সংলাপ।
জাতিসংঘের পরমাণু প্রকল্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা (আইএইএ)-এর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি গতকাল বুধবার ইতালীয় দৈনিক করিয়েরে দেল্লা সেরা-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়ে বলেছেন, “এবারের সংলাপে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও ইরানের পরমাণু প্রকল্পের পাশাপাশি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, দেশটিতে ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং মধ্যপ্রাচ্যে সক্রিয় বিভিন্ন সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী এবং ইরানের নিরাপত্তা নিশ্চয়তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।”
ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্র কী চায়— সে সম্পর্কেও আভাস দিয়েছেন আইএইএ-এর মহাপরিচালক। করিয়েরে দেল্লা সেরা-কে রাফায়েল গ্রসি বলেন, “এই সংলাপ একটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা যেখানে ইরানকে হয়তো বলা হতে পারে যে রাজনৈতিক, সামরিক এবং আস্থাগত পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় দেশটিকে পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি থেকে বিরত থাকতে হবে এবং নীতিগতভাবে পাঁচ কিংবা দশ বছর পর এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার সুযোগ থাকবে।”
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে মতপার্থক্য ও উত্তেজনার জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ। এ যুদ্ধের কারণে জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারে তেল-গ্যাসের সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়ায় ইতোমধ্যে ভোগান্তিতে পড়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।
আন্তর্জাতিক চাপের কারণে এখন যুদ্ধবিরতি চাইছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এবং এক্ষেত্রে প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে পাকিস্তানকে। যুদ্ধবিরতির জন্য ইসলামাবাদের মাধ্যমে তেহরানে ১৫টি পয়েন্ট বিশিষ্ট একটি প্রস্তাবনাও পাঠিয়েছেন ট্রাম্প।
ইসলামাবাদের আসন্ন সংলাপে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা বিশেষভাবে গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র : এএফপি