- শেখ নাদীর শাহ্::
কপোতাক্ষের খুলনার পাইকগাছা ও সাতক্ষীরার তালা উপজেলার শালিখা এলাকায় সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি ৫ বছরেও। দীর্ঘ দিন ধরে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মন্থর গতিতে প্রায় ৭৩ শতাংশ কাজ শেষে ফেলে রেখে রাতের আঁধারে নির্মাণ সরঞ্জাম ও শ্রমিক নিয়ে উধাও হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের ভোগান্তির পাশাপাশি সেতুর বাস্তবায়ন নিয়ে রীতিমত অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, নব্বইয়ের দশকে কপোতাক্ষের নব্যতা হ্রাসে পরিণত হয় সরু খালে। ঐ সময় স্থানীয় উদ্যোগে কপোতাক্ষের পাইকগাছার রাড়ুলীর কাটিপাড়া ও তালার খেশরার সংযোগস্থলে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি হয়। এরপর ২০১৩ সালে তালার পাখিমারা বিলে টিআরএম ও কপোতাক্ষের পূণ:খনন কাজ শুরু হলে ভেঙ্গে যায় সাঁকোটি।
পরে ফের সেখানে সাময়ীক আরো একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ হলেও এটিতে পারাপার এখন রীতিমত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দু’পারের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাইকেল, ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ এই সাঁকো পার হচ্ছে।
পাইকগাছা প্রকৌশলী অফিস সূত্র জানায়, গত ২০২১ সালের ১৯ অক্টোবর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৬ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করে কপোতাক্ষের এই এলাকায়। ৭ হাজার ১০০ মিটার চেইনেজে নির্মাণাধীন সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল, ২০২৩ সালের ৩১ আগস্টের মধ্যে। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রথম থেকেই শম্ভুক গতিতে এর কার্যক্রম পরিচালনা করায় ২০২৪ সালের আগস্টের অভ্যুত্থান পর্যন্ত মাত্র ৬০ শতাংশ কাজ করার পর এখন পর্যন্ত পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে এর নির্মাণ কাজ।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস এ জেডটি (জেভি) রাতের আঁধারে সেতুর কাজের সাইট থেকে তাদের শ্রমিক ও যন্ত্রপাতি সরিয়ে নেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে নানা আশংকা তৈরি হয় স্থানীয়দের মধ্যে। পত্রিকান্তে এনিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর এলজিইডির স্থানীয় কর্মকর্তাদের চাপে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তড়িঘড়ি করে পুনরায় কাজ শুরু করলেও এরপর মাত্র ১৩ শতাংশ কাজ করে ফের সাইট ছেড়ে পালিয়ে যায় তারা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস এ জেডটি (জেভি)’র স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ জিয়াাউল আহসান টিটুর সঙ্গে তার ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে পাইকগাছা উপজেলা প্রকৌশল মো. শাফিন শোয়েব জানান, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে ২৮ দিনের মধ্যে কাজ শুরু করতে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল অন্যথায় কার্যাদেশ বাতিল করা হবে। গত ২৪ মার্চ ঐ ২৮ দিনের সময়সীমা শেষ হলেও কার্যক্রম শুরু করেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয়দের ধারণা উপজেলা প্রকৌশলীর পরোক্ষ যোগসাজশে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ পরিচালনা করতে গড়িমসি করে থাকতে পারে। কেননা, গত ৫ বছরের বেশি সময়েও যদি গুরুত্বপূর্ণ সেতুটির নির্মাণ শেষ না করায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিল না হওয়ার পেছনে কারণ কি?
এলাকাবাসী অতিদ্রুত গুরুত্বপূর্ণ শালিখা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।