1. sheikhnadir81@gmail.com : admin :
  2. tapon.tala@gmail.com : Tapon Chakraborty :
রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
রাজগঞ্জে “আশার চাকা”র উদ্যোগে অসহায় প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ পাইকগাছায় ৫ তলা বিশিষ্ট উপজেলা কমপ্লেক্স ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি ৭ বছরেও মনিরামপুর পৌরসভা নির্বাচন: মেয়র হিসাবে আসাদুজ্জামান মিন্টুকে দেখতে চায় পৌরবাসি মুন্সীগঞ্জের বজ্রযোগিনী জয় কালী উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও নবীন বরণ  সাতক্ষীরার আশাশুনিতে পাউবো’র বেড়িবাঁধে ভাঙন, মেরামতে কাজ চলছে সুন্দরবনে দস্যু দমনে বন বিভাগের অভিযানে ৩ টি দেশীয় বন্দুকসহ ৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার স্বজনদের ফেলে যাওয়া সেই অজ্ঞাত বৃদ্ধ এখন হাসপাতালে লেবাননে যুদ্ধবিরতি ও জব্দকৃত সম্পদ ছাড়া না পর্যন্ত আলোচনা নয়- ইরানের স্পিকার পাকিস্তানে পৌঁছেছে ইরানের প্রতিনিধি দল ইরানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৮ লক্ষ কোটি টাকা

পাইকগাছায় ৫ তলা বিশিষ্ট উপজেলা কমপ্লেক্স ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি ৭ বছরেও

  • প্রকাশিত : শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭৯ বার পঠিত
uno-office-16294

কতৃপক্ষ বলছে হস্তান্তর আটকে আছে বিদ্যুতের কারণে!

  • শেখ দীন মাহমুদ ::

পাইকগাছায় প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৫ তলা বিশিষ্ট উপজেলা কমপ্লেক্স ভবনের অবকাঠামোগত সকল নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলেও বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ায় হস্তান্তর করতে পারছে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানসহ উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অভিযোগ, সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও বিদ্যুৎ সংযোগ মিলছে না।

এদিকে ভবনের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিমালিকানাধীন ভাড়া বাড়িতে চলছে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম। ফলে ভবন নির্মাণের পরও দপ্তরগুলো স্থানান্তর হচ্ছেনা। এতে জনসেবা ব্যাহতের পাশাপাশি ভোগান্তিতে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কর্মকর্তা- কর্মচারীসহ সেবা গ্রহীতারা।

এক ভবনেই সরকারের সবসেবা প্রাপ্তির লক্ষ্যে সরকার বহুতল বিশিষ্ট উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। যার অংশ হিসেবে উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন সম্প্রসারণ প্রকল্প (২য় পর্যায়)’র আওতায় পাইকগাছায় ৫ হাজার ১শ’ স্কয়ার ফুট জায়গার উপর নির্মিত হয়েছে ৫ তলা বিশিষ্ট উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন।

নবনির্মিত ভবনটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৮৯ লক্ষ্য ২৮ হাজার ৮৩২ টাকা। নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তর (এলজিইডি)।

খুলনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জিয়াউল ট্রেডার্স প্রকল্পটির কার্যাদেশ পেয়ে ২০১৯ সালের ৩ ডিসেম্বর নির্মাণ কাজ শুরু করে। গত আওয়ামী লীগ সরকারের শাষনামলে শম্ভূক গতিতে কাজ শুরুর পর নানা অসংগতির মধ্যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে দাবি করা হচ্ছে, অবকাঠামোগতসহ সকল ফিটিংসের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হলেও শুধুমাত্র বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ায় ভবনটি হস্তান্তর করতে পারছেননা তারা।

নবনির্মিত ভবনে মোট ৩৪ টি দাপ্তরিক কক্ষ এবং দুটি মিটিং (কনফারেন্স) রুম রয়েছে। এছাড়া গাড়ি পার্কিংসহ অন্যান্য সুবিধার্থে ৫ তলা ভবনের প্রথম ফ্লোরটি ফাঁকা রাখা হয়েছে।

এরমধ্যে দ্বিতীয় তলায় রয়েছে ৯ টি দাপ্তরিক এবং একটি মিটিং রুম। তৃতীয় তলায় ৭টি দাপ্তরিক রুম। চতুর্থ তলায় ৮ টি দাপ্তরিক এবং একটি মিটিং রুম এবং পঞ্চম তলায় ১০ টি দাপ্তরিক রুমসহ সর্বমোট ৩৪ টি দাপ্তরিক কক্ষ রয়েছে।

সুন্দরবন উপকূলীয় পাইকগাছা উপজেলা মোট ১০টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এখানে ৪ লাখেরও বেশি মানুষের বসবাস। উপকূলীয় বিস্তির্ণ জনপদের সাধারণ মানুষের নানা প্রয়োজনে একই ভবন থেকে সরকারি সকল সেবা প্রদান করতে সরকার বহুতল বিশিষ্ট উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।

কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়াকে ভবন হস্তান্তর প্রক্রিয়া ব্যাহতের জন্য দায়ী করলেও দীর্ঘ গত প্রায় ৭ বছর পর্যন্ত নির্মাণকাজ শেষ করতে না পারা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতাকে কোনভাবে আমলে না নিয়ে বরং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সাফাই গাইছেন।

জানাযায়, উপজেলা পরিষদ এলাকার মধ্যে সরকারি অফিস ভবন না থাকায় দাপ্তরিক কার্যক্রম মারাতœকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ব্যক্তিমালিকানাধীন ভাড়া বাড়িতে চলছে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়, যুব উন্নয়ন দপ্তর ও পরিসংখ্যান অফিসসহ অনেক গুলো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দাপ্তরিক কাজ। নতুন কমপ্লেক্স ভবন হস্তান্তর হলে এক ভবনেই মিলবে সরকারের সব দপ্তরের সেবা।

এদিকে পূরনো ভবনগুলো ভেঙ্গে তদস্থলে নতুন ভবনের কাজ চলায় দীর্ঘ দিন যাবৎ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ভাড়া বাড়িতে কার্যক্রম পরিচালনা করায় সেবা গ্রহিতাদের অফিসগুলো খুঁজে পেতেও কখনো কখনো দূর্ভোগের শিকার হতে হয়। শুধু এখানেই শেষ নয়, কর্মকর্তাদেরও সরকারি কাজ ব্যহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অনেক কর্মকর্তা।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেশমা আক্তার বলেন, ভাড়া বাড়িতে পরিচালিত হচ্ছে তার কার্যালয়। সেখান থেকে উপজেলার নিয়মিত মিটিংসহ অন্যান্য কাজে ঘনঘন যাতায়াত করতে অনেক সময় বেগ পেতে হয় তার।

uno-office-16295

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম বলেন, ভবনের সব ধরনের কাজ ইতোমধ্যে শেষ করা হয়েছে। ৬ মাসের ও অধিক সময় বিদ্যুৎ সংযোগের আবেদন দিয়ে এখনো অপেক্ষা করছেন তারা।

উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সজল বিশ্বাস ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ নিয়ে জানান, অবকাঠামোসহ সব ধরনের ফিটিংসের কাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে, বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদনের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। সংযোগ পেলেই হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী শাফিন শোয়েব বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির যথাযথ কর্তৃপক্ষকে বারবার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। সংযোগ পেলেই নবনির্মিত কমপ্লেক্স ভবনটি হস্তান্তর করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, নবনির্মিত উপজেলা কমপ্লেক্স ভবনটি হস্তান্তর হলে উপজেলা পরিষদের আওতাধীন সরকারি সকল দপ্তর একই ভবনে স্থানান্তর হবে। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি সেবা গ্রহীতাদের ভোগান্তি লাঘব হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

একই বিভাগের সকল খবর